
গৌরীশংকর মহাপাত্র, আবেশভূমি ডিজিটাল, এগরা কাঁথি ,মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম ও ঝাড়গ্রাম। মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী নাচিন্দা শীতলা ও চণ্ডী মাতার মন্দিরের নবনির্মিত ভোগ গৃহের দ্বারোদ্ঘাটন ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পরিষেবার উদ্বোধন হয় মঙ্গলবার। মন্দিরের প্রতিষ্ঠার দিনে ফিতা কেটে মঙ্গলদীপ জ্জ্বেলে এর উদ্ধোধন করেন মঠ চণ্ডীপুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী বিনিশ্চয়ানন্দজী মহারাজ, সঙ্গে কাঁথি মহকুমা শাসক সৌভিক ভট্টাচার্য, দীঘা রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ নিত্যবোধা নন্দজী, মান্দারিন রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ বিধু মহারাজ, নন্দকুমার কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ পুরানরত্ন ব্রহ্মময় নন্দ, হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান প্রাক্তন মন্ত্রী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় কর ,ময়না রাজগড়ের রাজা সিদ্ধার্থ বাহু বলীন্দ্র, প্রাক্তন বিধায়ক সমবায়ী শৈলজা কুমার দাস প্রমুখ। এছাড়া উল্লেখ যোগ্য দাতা দের মধ্যে ছিলেন কাঁথি পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি, জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ্য তরুন কুমার জানা, অন্যতম দাতা রঙ্গলাল বারিক, বিশুদ্ধ পানীয়জল প্রকল্পের দাতা হলদিয়া বিদ্যুৎ বেকারীর কর্ণধার অতনু দাস ও মনিকা দাস, স্বামীজীর পূর্ণাবয়ব মূর্তির দাতা তমলুকের পাটনা স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সরোজ কুমার জানা,তমলুক বর্গভীমা মন্দিরের সেক্রেটারী, কালীঘাট মন্দির ট্রাস্টের প্রধান,জাতীয় শিক্ষক অমিয় বরণ ভৌমিক, সমাজসেবী ক্ষীতিন্দ্রমোহন সাহু , কবি ইভা মাইতি প্রমুখ। সকলকে মন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নাচিন্দা মায়ের ফটো সহ স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয় ।মন্দির ট্রাস্টের সভাপতি প্রাক্তন বিধায়ক অনিল কুমার মান্না তার স্বাগত ভাষণে জানান সম্পূর্ণ দাতা ও ভক্তদের দেওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে তিন হাজার বর্গফুটের প্রশস্ত দ্বিতল ভোগগৃহ উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্রুত পানীয় জলের প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। মায়ের কল্যাণে প্রচুর ভক্ত সমাগম অব্যাহত। সেবায়েত কমিটি মাথাপিছু ১৫ টাকার বিনিময়ে ভোগ রান্না করার ব্যবস্থা করেছে। মিষ্টান্ন ভোগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট দামের কাউন্টার রয়েছে। সভাপতি সরকার থেকে নাচিন্দা মন্দির কোন সাহায্য না পাওয়ার উষ্ণা প্রকাশ করেন।উপস্থিত জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ্য তরুন কুমার জানা তাঁর বক্তব্যে বলেন–মুখ্যমন্ত্রী দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন করতে আসবেন। সেখানে নাচিন্দা মন্দির, কপালকুণ্ডলা মন্দির ও বর্গভীমা মন্দিরের উন্নয়ন সহ এলাকার বিশেষ স্থানগুলির উন্নয়নের একটা তালিকা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন সেই তালিকা তৈরী করেছেন। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এই এলাকার পুরানো জনপ্রিয় মন্দিরগুলির সমন্বয় ঘটিয়ে একটা মন্দির পর্যটন সার্কিট যাতে গড়ে তোলা যায় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে পরিকল্পনা তৈরী করা হয়েছে। এদিন অতিথিদের মধ্যাহ্ন আপ্যায়নের সঙ্গে সঙ্গে হাজার তিনেক মানুষকে মায়ের অন্ন ভোগ বিতরণ পরিষেবা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন অগ্নিবীণা সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষা জ্যোৎস্না মান্না। অস্থিপদ ব্রহ্মের সঞ্চালনা ছিল ব্যাতিক্রমী। শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সভার সভাপতি। রাতে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।