
গৌরীশংকর মহাপাত্র :এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর:- দুর্যোগ ও মহামারিতে মানুষের পাশে থেকে সহায়তা দেওয়া আমাদের কাজ, তাই করেছি; আর রাজনীতি করা দীলিপ ঘোষ দের কম্ম। করোনা ও আমফান সুপার সাক্লোন পরবর্তী পুনর্গঠনে মমতা সরকারের ইতবাচক ভূমিকার নজীর বিহীন সহযোগিতার খতিয়ান তথ্য তুলে ধরে ৭ই জুন রবিবার পটাশপুর অঞ্চল দলীয় কার্যালয়ে বৈকালিকএক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দীলিপ ঘোষকে এ ভাষায় তীব্র আক্রমণ শানলেন রাজ্যের প্রাক্তন সমবায় মন্ত্রী তথা পটাশপুর বিধান সভার বিধায়ক অধ্যাপক জ্যোতির্ময় কর। তিনি আরও বলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াস’কে খাটো করার নিরন্তর চেষ্টায় বিজেপি। বিপর্যয়ে যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তার মন্ত্রী সভা ও তার বিধায়কদের স্বস্ব নির্বাচন ক্ষেত্রে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ক্লাবকে নিয়ে আর্তের সেবায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তখন দিলীপ বাবুদের ময়দানে দেখা যায়নি। তিনি করোনা স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিরাপদ দূরত্বে থেকে শাসকদলের ছিদ্রান্বেশনে ব্যস্ত। বিধায়ক তীব্র শ্লেষে স্বভাবসিদ্ধ ঢঙ্গে বলেন- “উৎসবে ব্যসনে চৈব দুর্ভিক্ষে রাষ্ট্র বিপ্লবে/রাজদ্বারে শ্মশানে চ য’তিষ্ঠতি স্ব বান্ধব।।” বিপদে মানুষের আসল বন্ধু কে; আর কারা নগ্ন রাজনীতি করছে তা আজ কাল একটা বাচ্চাও বোঝাতে হয় না । রাজ্যের প্রত্যেক বিধান সভায় সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা সঠিক পরিসংখ্যান সহ তুলে ধরতে ৫-১০ই জুন সাংবাদিক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত তৃণমূল কংগ্রেসের। আজকের সাংবাদিক সম্মেলন ছিল তারই অঙ্গ। তিনি বলেন ২-৪ দিন সময় দিলে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে পারত তাদের জীবন এত দুর্বিষহ হত না,এই সংক্রমণ ঠেকানো যেত। পথে নানা দুর্ঘটনায় প্রায় ৮০ জনের প্রাণহানি হত না। তাদের চরম দুর্দশায় কেন্দ্রীয় সরকার যখন নীরব দর্শক তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্পে নগদে ১০০০টাকা দেওযা, তাদের জন্য কূপনে রেশন ,১০০ দিনের কাজের ব্যবস্থাকরে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। পরিযায়ীদের ফেরাতে রেলকে রাজ্য সরকার ২০০কোটি দিয়েছে, ছাত্রদের ফেরাতে ও সরকার টাকা দিয়েছে।করোণা মোকাবিলায় পটাশপুর বিধান সভা ক্ষেত্রের স্কুল গুলি সহ শতাধিক কোয়ারেনন্টাইন সেন্টারে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান কোয়ারেনন্টাইন সেন্টার চন্ডীপুর এবং চিকিৎসা কেন্দ্র বড় মা হাসপাতালের পরিকাঠামো তৈরী করেছেন। লকডাউনে শাঁখা শিল্প, মাদুর শিল্প,তাঁত শিল্প, কাঁসা শিল্পের দফারফা। আমফান ঝড়ে গৃহহীন ৯ জেলার ৫ লক্ষ পরিবার ২০ হাজার টাকা ইতিমধ্যে পেয়ে গেছেন। এম জি এন আর ই জি এস এর মাধ্যমে আরো ২৮ হাজার করে টাকা পাবেন। এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ১০ লক্ষ মানুষ। কৃষি ক্ষেত্রে ২৩.৩ লক্ষ কৃষককে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা সরকারের। পঃবঃ সরকার এ পর্যন্ত ত্রাণে খরচ করেছে ৬২৫০ কোটি টাকা। রাজ্যে ক্ষতি হওয়া ১ লক্ষ কোটির মধ্যে কেন্দ্র দিয়েছে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা। রাজ্য সরকার ৯০% মানুষের জন্য বিনামূল্যে রেশনে ব্যবস্থা করেছে, আগামী ছমাস ৫ কেজি করে খাদ্য শস্য বরাদ্দ। রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে মুখ্যমন্ত্রী ও খাদ্য মন্ত্রীর যৌথ প্রয়াসে ৭৬২ জন ডিলালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি লকডাউনে কত অসহায় অসহায় পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী,কত পরিবারে শাম্পু,সাবান,স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন তার পরিসংখ্যান তুলে ধরনের । ঘূর্ণিঝড় আমফানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে। বিতরণ করা হয়েছে শুকনো খাবার প্যাকেট , ৪ হাজার ত্রিপল প্রায় এক হাজার এন বি আর এফ কিট। এই সকল কাজে সহযোগিতা করেছে বহু ক্লাব, পুলিশ ও প্রশাসন । বিজেপির অপপ্রচার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে এমন আত্ন বিশ্বাস নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন। উপস্থিত পটাশপুর -২পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দন সাউ পরিসংখ্যান দিয়ে জানান তার ব্লকের কতজনকে পান,ধান,সব্জীবাগান, সমাজ ভিত্তিক বনসৃজনে, আংশিক ও সম্পূর্ণ বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি এবং সরকারের সাম্প্রতিক আর্থিক সহায়তার তথ্য। জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ তথা দলের পটাশপুর-২ ব্লক সভাপতি মৃনাল কান্তি দাস আমফান ঝড় পরবর্তী রাজ্যজুড়ে নিবিড় বনসৃজনে সরকার ও সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। পটাশপুর-১পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পীযুষ পন্ডা করোনা পরবর্তী রাজ্য ও ব্লক এলাকায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে কি করা হয়েছে তা উল্লেখ করেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটাশপুর পঞ্চায়েতের উপ প্রধান অনুপ হাজরা, প্রাক্তন প্রধান স্বপন কুমার জানা, প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ হরিপদ দাস মহাপাত্র,অঞ্চল যুব সভাপতি সেখ হাবিব, সুব্রত দাস সহ দুই ব্লকের দলীয় নেতৃত্বগণ।
