
প্রতিবেদক:- মনন্মথ নাথ দাস।
আজ স্বাধীনতা সংগ্রামী ভীমাচরণ পাত্র’র ১২৭তম জন্মদিন।১৮৯৪ সালের আজকের দিনে ভগবানপুর থানার অধুনা ভূপতিনগর থানার কুঞ্জপাড়া গ্ৰামে স্বাধীনতা সংগ্রামী জন্ম। পিতা গনেশ চন্দ্র মা গঙ্গামণি। পড়াশুনো হরিপুর, এগরা, মুগবেড়িয়া ও শেষে মহিষাদল রাজ হাইস্কুল থেকে১৯১৮তে ম্যাট্রিকুলেশন।মেদিনীপুর কলেজ থেকে আই এস সি, ভগবানপুর থানা স্বাধীনতা সংগ্রামে এই শ্রেষ্ঠ কর্মপুরুষ এই পর্বে বিপ্লবী কর্মকান্ডে যুক্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু ১৯২১এ বহরমপুর কলেজে বি কম পড়ার সময় মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। বায়েন্দা ও মানিকজোড় এ জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন, ইউনিয়নবোর্ড বয়কট ও জেলা বোর্ডের মাধ্যমে নানা উন্নয়ন মূলক কাজে তিনি এই থানায় দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের দক্ষিণ হস্ত ছিলেন। সমগ্র থানায় তাঁর নেতৃত্বে লবণ সত্যাগ্রহ ও আইন অমান্য আন্দোলন অসাধারণ সাফল্য লাভ করে। তাঁর বসতবাটি বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি কারারুদ্ধ হন। জেলাশাসক বার্জ হত্যার পর নিকুঞ্জবিহারী গ্রেপ্তার হন,এর পর তিনি কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসেন এবং পুনরায় গ্রেফতার বরণ করেন। ভারত ছাড়ো আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বে সমগ্ৰ মহকুমায় ব্যাপক বৈপ্লবিক কর্মসূচি গৃহীত হয়। বিনা রক্তপাতে দখল হয় খেজুরী ও পটাশপুর থানা।গঠিত হয় স্বল্পকালীন জাতীয় সরকার।১৯৪৩এ তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হন। স্বাধীনতার পরে কর্মীদের দাবী সত্ত্বেও তিনি এম এল এ পদপ্রার্থী হননি বরং গান্ধী বিনোবাজী আদর্শে সর্বোদয়, খাদি, গ্রামোন্নয়ন উদ্যোগ প্রভৃতি গঠনমূলক কর্মসূচিতে আত্মনিয়োগ করেন। নারী শিক্ষার প্রসারে ও আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ভীমা চরণের তিন পুত্র দুই কন্যা।
১৯৭৭এর ১৬ই সেপ্টেম্বর এই কর্মপুরুষ স্বাধীনতা সংগ্ৰামীর মৃত্যু।
আজ এই কর্মবীরের ১২৭তম জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাই।
প্রসঙ্গত তাঁর ৩পুত্র ও ২ কন্যা স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। প্রথম- ডা :অতুল চরণ উড়িষ্যার জলেশ্বর হাইস্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, দ্বিতীয়- ডা:অসিতবরণ বর্ধমান মানসিক হাসপাতালের প্রতি ষ্ঠাতা, তৃতীয়- অমল কুমার দশগ্ৰাম হাইস্কুলের শিক্ষক।প্রথমা কন্যা শান্তা পাত্র বর্ধমানে স্বাস্থ্য কর্মী, কনিষ্ঠা উষা পাত্র,ভূপতিনগর কন্যা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা।এদের পরিবারের দানকৃত জমিতে “নর্মদা ভীমাচরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা “এলাকার প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
