
গৌরীশংকর মহাপাত্র :এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর। ৩রা আগস্ট সোমবার রাত ২-৩০মি: চলে গেলেন গান্ধিপথিক গঠনকর্মী বিমলকুমার পাল(৯১) । বার্ধ্যক্যজনিত কারণে বেলদায় নিজ বাসভবনে খাদি সর্বস্য এই গান্ধিবাদী নেতার মৃত্যু। জন্ম পটাশপুর-১এর অমর্ষি-২পঞ্চায়েতের পূর্ব মজিগাঁয়। অমর্ষি, বালিঘাই,এবংমংলামাড়ো স্কুল শিক্ষার পর ঝাড়গ্রাম এগ্রিকালচার কলেজ পঠন পাঠন। কলিকাতা রিপন কলেজ থেকে ১৯৫১তে বিএ পাস। রিপন কলেজে পড়াশোনার সময় অখিল ভারত চরকা সংঘের সভাপতি ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় সূত্রে গান্ধীজীর গঠন কর্মের প্রতি বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি। পরে খাদি গ্রাম, সেবাগ্রাম এবং পাওনার আশ্রমে থেকে নানা প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ১৯৫৫তে সন্ত বিনোবাজীর সঙ্গে মেদিনীপুরে পদ যাত্রায় যোগদান এবং ঘনিষ্ঠতা। ১৯৫৬সালে গঠন কর্মের প্রতিষ্ঠান রূপে পশ্চিম মেদিনীপুরের স্টেশান বেলদায় “শ্রম বিদ্যাপীঠ” প্রতিষ্ঠা করেন। গান্ধীজীর অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় শিক্ষক ঈশ্বর চন্দ্র প্রামাণিক,শিবকালি মিশ্র, ভীমাচল ঘোড়াই ,অভিনাশ মাইতি প্রমুখ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে সুদীর্ঘকাল সারা রাজ্যে নানা গঠন কর্মে নেতৃত্ব দিয়েছেন। “অখিল ভারত সর্বসেবা সংঘের” সম্পাদক, পশ্চিমবঙ্গ সর্বোদয় মন্ডলের সভাপতি প্রভৃতি নানা উচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া তিনি গান্ধীশান্তি প্রতিষ্ঠান, সেন্টার ফর টোটাল ডেভেলপমেন্ট প্রভৃতি গান্ধী চর্চা বিষয়ক এ রাজ্যের নানা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। কাঁথি গান্ধিজ্ঞান মন্দিরের সদস্য হয়ে বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ মূলক কাজে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। জীবনের শেষভাগে এই গান্ধিবাদী নেতা বেলদায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত শ্রম ও বিদ্যালয়ের কাছাকাছি থাকতেন। মৃত্যু কালে স্ত্রী ও দুই অবিবাহিত কণ্যা পাশে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক মন্মথ নাথ দাস। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন কাঁথি গান্ধি জ্ঞান মন্দিরের সদস্য সদস্যা বৃন্দ। রাজ্যের প্রাক্তন সমবায় মন্ত্রী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় কর প্রয়াত নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার শান্তি কামনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। বলেন উনি আমাদের সকলের নমস্য। স্বাধীনতা পর্বের যোদ্ধাদের এক যোদ্ধাকে হারালাম। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সাংসদ শিশির অধিকারী স্বাধীনতা সংগ্ৰামীর প্রয়ানে গভীর শোক প্রকাশ করেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। স্বাধীনতা পর্বে পটাশপুরের আন্দোলনে ইনাদের বড় ভূমিকা ছিল, এদের অভাব পূরণ হবার নয়।
