গৌরীশংকর মহাপাত্র: এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর।।                                           ভগবানপুর -২এর ভূপতিনগর প্রগতি সংঘ পাবলিক লাইব্রেরিতে বর্ণময় বিদ্যাসাগরের ২০১তম‍ জন্মদিন পালন, গান্ধী বুড়ি মাতঙ্গিনী হাজারা ৭৯তম প্রয়ান ও ১৯৪২এর ২৯শে সেপ্টেম্বর থানা দখল অভিযানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনাদের শ্রদ্ধা ও স্মরণ অনুষ্ঠান হয় মঙ্গলবার। আয়োজনে ভূপতিনগর সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, ভগবানপুর-২ব্লক পেনসনার্স অ্যসোসিয়েসান ও প্রগতি সংঘ পাবলিক লাইব্রেরি। পৌরোহিত‍্য করেন আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক সাহিত্যিক মন্মথনাথ দাস। উপস্থিত ছিলেন পরিষদ সম্পাদক অজিত কুমার জানা, লাইব্রেরি সম্পাদক ভানু চরণ মাইতি, অধ্যাপক রনজিত কুমার নায়েক, জাতীয় শিক্ষক দুর্গাপদ ভট্টাচার্য, গৌর চাঁদ পাত্র, অশোক কুমার দাস, অনিল কুমার সাহু,শঙ্কর নারায়ণ মণ্ডল, অমলেন্দু পাল, কনক প্রধান, বিবেকানন্দ শাসমল প্রমুখ। বিদ্যাসাগর ও মাতঙ্গিনীর প্রতিকৃতিতে মাল‍্য ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সকলে। বিদ‍্যাসাগর ও মাতঙ্গিনীর

    বর্ণময় কর্মজীবনে স্মৃতি চারনা হয়।আজ ২৯শে সেপ্টেম্বরের ঐতিহাসিক দিনটির প্রসঙ্গ তুলে সভার সভাপতি তথ্য নির্ভর বক্তব্যে বলেন – ১৯৪২এর ২৯শে সেপ্টেম্বর আজকের দিন মেদিনীপুর জেলার গৌরবময় ৭৯তম থানা অভিযান ও গান্ধী বুড়ি মাতঙ্গিনী হাজারার আত্মত্যাগ দিবস । ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে গান্ধিজী যাকে বলেছেন শেষ লড়াই,যে আন্দোলনে ভারতবাসীর ত্যাগস্বীকার ও আত্মবলিদান সর্বাধিক, সেই ভারতছাড়ো আন্দোলন বা আগস্ট বিপ্লবে মেদিনীপুরের ভূমিকা ছিল বীরোচিত,গৌরবময় এবং দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। গোপন বৈঠকে জেলার নেতৃবৃন্দ ১৯৪২এর ২৯শে সেপ্টেম্বর থানা দখলের কর্মসূচি গ্রহণ করেন।মহকুমা ভিত্তিক পরিকল্পনায় থানায় থানায় চলতে থাকে গোপন তৎপরতা। সবগুলি থানায় অভিযান সম্ভব হয়নি

      সত্য,কিন্তু যে কটি থানা ‘করেঙ্গ ইয়া মরেঙ্গে’ প্রতিজ্ঞায় সংগ্রামে ঝাঁপ দিয়েছিলেন,সেগুলির গৌরবশিখা সমগ্র জেলাকে দীপ্তিময় করে তুলেছিল।বিশ শতকের নানা পর্যায়ের আন্দোলনে এই জেলার শহীদ সংখ্যা যেখানে ২১১,সেখানে কেবল আগস্ট বিপ্লবে প্রাণ দিয়েছেন ১২৮জন। তাঁরা কাঁথি মহকুমায় ৬৭,তমলুকে ৪৯ এবং অন্যত্র ১২জন। সেইসঙ্গে ছিল অমানবিক লুণ্ঠন,গৃহদাহ এবং নারীনির্যাতন। থানা অভিযানে নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ সত্ত্বেও চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন তমলুক থানা দখলে আসা উত্তর বাহিনীর বীরাঙ্গনা শহিদ মাতঙ্গিনী।গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করব ভগবানপুরে পূর্ববাহিনীর দুই দুঃসাহসী মহিলাকে,এক গিরিবালা দাসী দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে গ্রেপ্তার এড়িয়েছেন,অন্যজন পুঁটিবালা ভোগ করেছেন দেড় বছরের কারাদণ্ড। আন্দোলনে তিনটি থানা চলে আসে বিপ্লবীদের অধিকারে,২৮তারিখ খেজুরি ‌ এবং ২৯শে সুতাহাটা ও পটাশপুর। তমলুক ও কাঁথিতে গড়ে উঠেছিল জাতীয় সরকার।
      আজকের দিনে সেদিনের গৌরবময় থানা অভিযান দিবসকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।সেই সঙ্গে সকল স্বাধীনতা সংগ্রামী ও অমর শহীদ’দের উদ্দেশে নিবেদন করি আভূমি প্রণাম। তাঁদের অগ্নিপ্রভ স্মৃতি ভোগসর্বস্ব স্বার্থবুদ্ধি থেকে আমাদের মুক্ত‌ করুক,এই আজকের প্রার্থনা । করোনা আবহে স্বাস্থ্য বিধিমেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন আয়োজক প্রগতি পরিষদ সম্পাদক কবি আজিত কুমার জানা তিনি শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

         

        Share

        Leave a Reply

        Your email address will not be published. Required fields are marked *