
গৌরীশংকর মহাপাত্র : দৈনিক আবেশভূমি ডেস্ক: এগরা কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ এর দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বাংলায়। মেদিনীপুর ও দুই ২৪পরগনায় ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। আজ ক্ষতিগ্রস্ত দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর আকাশপথে ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার হিজলগঞ্জে প্রশাসনিক সভা শেষে কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন- দীঘায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এক পর্যালোচনা সভা আছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দেখে ব্যবস্থা নেবেন। পর্যালোচনা সভায় এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি দুটি পরিকল্পনায় ২০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব রয়েছে। দীঘা’কে নতুন করে সাজানোর জন্য ১০ হাজার এবং সুন্দরবন’কে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে ১০ হাজার কোটির একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন দীঘাকে আকর্ষণীয় করতে ৮ সদস্যের কমিটি গড়ার । এই মুহূর্তে উন্নয়ন পর্ষদের দায়িত্বে কেউ না থাকায় স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের দায়িত্ব দেন। দীঘার যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সামলানোর জন্য একাধিক দপ্তরকে নিয়ে কাজে দক্ষ ব্যক্তির প্রয়োজন, এটা আলাপন ছাড়া সম্ভব হবে না। সেচ দপ্তরের আধিকারিক কে কাজের রূপরেখা ঠিক করতে বলেন। গ্রামের রাস্তা গুলি জেলা শাসক পঞ্চায়েতকে দিয়ে দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা করবে। শুরুতে জেলা শাসক পূর্ণেন্দু মাঝি জানান নোনা জল ঢুকে কৃষি, পান ও বাগদা চাষে ব্যপক ক্ষয় ক্ষতির কথা । ২৫টি ব্লক ক্ষতিগ্ৰস্ত হলেও ব্যপক ক্ষতির তালিকায় ১২টি, পান ও মাছের ভেড়ী নষ্ট হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে কিভাবে দ্রুত তার সঙ্গে কয়েক ল্ক্ষ মানুষ কে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে এনে তাদের ত্রানের ব্যবস্থা হযেছে। উপস্থিত মৎস্য মন্ত্রী অখিল গিরি দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিয়ান তুলে ধরেন । মুখ্যমন্ত্রী বলেন নোনা জল প্লাবিত হওয়ায় পানীয় জলের সমস্যা হবে, পানী জলের যাতে সুরাহ করা যায় ব্লক প্রশাসন দেখবেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে টিউবয়েল বসানোর কথা বলেন। বলেন এবার দুয়ারে সরকারের মত দুয়ারে ত্রাণ। পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে ৩-১৮ জুন সরাসরি বেনিফিসারী আবেদন করবেন। আধিকারিক গণ ১৯ -৩০জুন পর্যন্ত আবেদনপত্র খতিয়ে দেখবেন। ১লা জুলাই থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দের ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দেওয়ার কাজ হবে। যাতে সরকারি টাকার অপব্যবহার না হয় তা দেখা হবে। আগামীকাল দীঘা, খেজুরী এবং নন্দীগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বলে জানান। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে পায়ে হেঁটে দীঘা-সমুদ্র-সৈকত ঘুরে ক্ষতির বিভৎসতা প্রত্যক্ষ করেন। পর্যটকদের কাছে দীঘার আকর্ষণীয়তা আনতে কেমন আর্থিক খরচ হবে এ নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় পায়ে হেঁটে সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন ।
