গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র ও রাজকুমার মহাপাত্র, আবেশভূমি,১৬এপ্রিল:বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে ঝাঁঝালো আক্রমণ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বৃহস্পতিবার ভগবানপুর ও পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে অভিষেক। ভগবানপুর বিধানসভার আড়গোয়াল পঞ্চায়েতের সিঁয়ারিতে করেন অভিষেক।পুলিশের তৃণমূল কর্মী, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখে অভিষেক বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোন, এ বার আমার জেদ, ৪ তারিখ সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করুন। বেলা একটার পর থেকে ডিজে বাজবে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুরে। যাঁরা যে ভাষা বোঝেন, অভিষেক সে ভাষায় জবাব দিতে জানে।’ ২১-এর নির্বাচনে ভগবানপুর আসনটি জিতেছিল বিজেপি, অন্য দিকে পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ১৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৯টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। তবে ২০২৪ সালে সব হিসাব উল্টে যায়। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ১৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। গতবারের ফল ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে তৃণমূলের। জেতার ব্যাপারে আশাবাদী অভিষেক বলেন, যত লোক সভায় আছে তার দ্বিগুণ লোক আছে হ‍্যালিপ্যাডের কাছে। ‘মানুষের উচ্ছ্বাস প্রমাণ করছে, পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি কোনওদিন গদ্দারদের সমর্থন করেনি। এই মাটি বশ্যতা বিরোধী মাটি। এই মাটি মেরুদণ্ড বিক্রি করে না। এটা সতীশ সামন্ত,বীরেন্দ্র শাসমল, মাতঙ্গিনী, ক্ষুদিরামের মাটি। আর যাই হোক, এই মাটি মেরুদণ্ড বিক্রি করতে পারে না।’ এই দু’টি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী (পটাশপুরে তপন মাইতি ও ভগবানপুরে শান্তনু প্রামাণিক) বহিরাগত বলে এ দিন কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘পটাশপুরে যাঁকে প্রার্থী করেছেন, তাঁর বাড়ি রামনগর। আর ভগবানপুরে যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁর বাড়ি খেজুরি।’ আসন জিততে এই কেন্দ্রের ভোটারদের ‘ধমক-চমক’ দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদের হুঁশিয়ারি, ‘আমি তালিকা তৈরি করে রেখেছি, ব্লক ধরে ধরে, পঞ্চায়েত ধরে ধরে হিসেব হবে।’ এই কেন্দ্রগুলি থেকে বিজেপি প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন অভিষেক।উল্লেখ্য, ভগবানপুর কেন্দ্র থেকে এ বার তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীকে লড়ছেন মানবকুমার পড়ুয়া ও পটাশপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন পীযুষকান্তি পন্ডা। দুই প্রার্থীকে দু পাশে নিয়ে তিনি বলেন- ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, নির্বাচন কমিশনকে লাগিয়ে কোন লাভ হবে না। যত কুৎসা করবে তত গর্তে ঢুকবে। দেখবে আর জ্বলবে লুচির মত ফুলবে। আমি আপনাদের খালি এইটুকু কথা বলে যাব। আমি যখন কোন কথা বলি, আমি ভেবে বলি আর কথা দিলে কথা রাখি। নতুন বছরে নতুন সংকল্প নতুন প্রতিশ্রুতি আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি যে ভালোবাসা দিনে আজকে আপনারা আমাদের আবদ্ধ করেছেন। আগামী দিনে সুদ সমেত উন্নয়নের নিরিখে উন্নয়ন করে ভগবানপুর এবং পটাশপুরের ঋণ পরিশোধ করবো।পরিসংখ্যান দিয়ে দুই বিধানসভার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে অভিষেক বলেন গত দু’বছর পটাশপুরে বাংলা আবাস যোজনায় ২২ হাজার গরীব মানুষকে পাকা বাড়ি দেয়া হয়েছে। ভগবানপুরে ১০ হাজার গরিব মানুষ বাড়ি পেয়েছেন । পটাশপুরে ৮৭হাজার মহিলাকে লক্ষীর ভান্ডার দেওয়া হয়। ভগবানপুরে ৮৫ হাজার মহিলা এই সুবিধা পান। পটাশপুরে ২০ হাজার ৭০৭ জন এবং ভগবানপুরে ২৬ হাজার ৮৯৪ যুব সাথীর সুবিধা পাচ্ছেন। গত তিন বছরে ৮০কোটি টাকা খরচ করে ২১৬ টি গ্রামীণ ডাক্তার কাজ করেছে রাজ্য। ভগবানপুর কোটি টাকা খরচে ১১৫ টি রাস্তার কাজ হয়েছে ।পটাশপুর একটি গভমেন্ট কলেজ এবং ভগবানপুরে একটি মহিলা কলেজের দাবি করেছে ।দুই প্রার্থী জিতলে দ্রুত এই দুটি কাজ আমরা শুরু করব।” সভায় পটাশপুর-১ ও ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নমিতা বেড়া ও স্বপন কুমার মাইতি, ভগবানপুর-১পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপ সুন্দর পন্ডা, ভগবানপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির শ্যামলী গিরি, পটাশপুর ১ ও ২ ব্লকের সভাপতি বিনয় পট্টনায়ক ও মানস রায়, চার ব্লকের যুব সভাপতি, শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব, জেলা পরিষদ সদস্য গোলকেশ নন্দ গোস্বামী,আড়গোয়াল পঞ্চায়েত প্রধান শেখ মালেক আলী, প্রাক্তন উপপ্রধান অপরেশ সাঁতরা সহ সকল শাখা সংগঠনের সমস্ত পঞ্চায়েত প্রধান উপপ্রধান প্রমুখ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *