।।স্মরণে: গৌরীশংকর মহাপাত্র ।।
আজ কবি নাট্যকার প্রাবন্ধিক গীতিকার ও স্বদেশ প্রেমিক দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এর প্রয়ান দিবস। মাত্র ৪৯ বৎসর বয়সে ১৯১৩এর ১৭ই মে আজকের দিনে কোলকাতায় তাঁর প্রয়াণ।
১৮১৩ এর ১৯শে জুলাই নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে সাহিত্যিক কার্তিকেয় চন্দ্র রায় ও মা অন্নদাময়ীর কোল আলোকরে ভার্সাটাইল জিনিয়াস এই দেশপ্রেমিকের জন্ম। সাহিত্যিক বাবা ও সম্ভ্রান্ত বংশীয় মা এবং প্রেরণা দাত্রী স্ত্রী সুরবালার সাংস্কৃতিক আবহে তার সাহিত্য সাধনা একটি অন্য মাত্রা দেয়। গীতিকার, সুরকার, গায়ক, কবি ,নাট্যকার ,প্রাবন্ধিক, বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো ধারা নেই যেখানে দ্বিজেন্দ্রের অনুপ্রবেশ নেই। তার এক মাত্র পুত্র দীলিপ কুমার ও বিচিত্রমুখী প্রতিভাধর শীল্পের অধিকারী।
মেধাবী দ্বিজেন্দ্রলাল প্রেসিডেন্সি থেকে এম এ, কৃষিশিক্ষায় স্কলারশিপ পেয়ে ইংল্যান্ড পাড়ি ও দুটি ডিপ্লোমা নিয়ে দেশে ফেরা। সেটেলমেন্ট বিভাগে চাকুরি জীবন শুরু, সেই সূত্রে অধুনা পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর -১এর কাজলাগড় ব্লকে আসা, পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটে পদোন্নতি, বঙ্গদেশে আবগারি বিভাগের প্রথম পরিদর্শক হিসেবে নিযুক্তি ১৮৯৪তে।

সাহিত্যিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে তার প্রতিষ্ঠিত ‘পুনর্মিলন’ নামে সাহিত্যিক সম্মেলনের প্রবর্তন তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেয় । :ভারতবর্ষ’নামে এক পত্রিকার সম্পাদনা ভাবি প্রজন্মের সাহিত্য সাধকদের অনুপ্রাণিত করেছেন। বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে ততদিন দ্বিজেন্দ্রলাল বেঁচে থাকবে বাঙালির ও বাংলা ভাষার অন্তরে।
