প্রতিবেদকঃ গৌরীশংকর মহাপাত্র:আজ স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক সাভারকারের জন্ম। ১৮৮৩এর ২৮শে’মে আজকের দিনে তাঁর জন্ম মহারাষ্ট্রের নাসিকের ভাগপুর গ্ৰামের এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে। বাবা দামোদর সাভারকার, মা রাধাবাঈ। ৯ বৎসর বয়সে মা এবং ১৬ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে দাদা গণেশচন্দ্রের কাছে বড় হওয়া বিনয়কের। তিন ভায়ের অন্য দুই গনেশচন্দ্র ও নারায়ণ, বোন ময়নাবাঈ ,স্ত্রী যমুনা বাঈ। 

১৯৬৬ এর ২৬ফেব্রুয়ারি উপবাসে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের মৃত্যু মুম্বাইতে ।

শিক্ষা মহারাষ্ট্রের পুনেতে পরে ফার্গুসন কলেজ থেকে চারুকলায় স্মাতক। পেশায় আইনজীবি,রাজনীতিক ও কবি সাহিত্যিক।

বিনায়কের জীবনে দাদা গনেশচন্দ্রের প্রভাব বেশী। দুই ভাই ১৮৯৯ তে ‘মিত্রমেলা’ এবং ১৯০১এ ‘অভিনব ভারত সমিতি’ নামে বিপ্লবী দল প্রতিষ্ঠা করেন। বিলেতে পড়ার সময় স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদান এবং ‘কৃষ্ণভার্মা’ প্রতিষ্ঠা ‘ইন্ডিয়া হাউস’এর তত্বাবধান ও ‘অভিনব ভারত’গড়ার কাজে উদ্যোগী হন। ১৯০৯ এর ১লা জুলাই সাভারকার অনুগামী ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র মদন লাল ধিঙ্গড়া স‍্যার জন গার্জন- ওয়াইলিকে ইংল্যান্ডে গুলি করে হত্যা করেন, বিলাতের জেলে তার ফাঁসি হয়।ঐ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনজীবী বিনায়ক দামোদর গ্রেপ্তার হন। বন্দী অবস্থায় মার্সাই বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে সমুদ্রের ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কেটে ফরাসী উপকূলে আসা। দুর্ভাগ্য ফরাসী উপকূলরক্ষী বাহিনী তাকে ইংরেজদের হাতে তুলে দেয়। পরে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে ইংরেজরা অন্যএক মামলায়। পরে বৃটিশ সরকার বড় ভাই গণেশ সাভারকর ও বিনায়ক দামোদর সাভারকরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে আন্দামানের সেলুলার জেলে নির্বাসিত করেন।

হিন্দুধর্ম মতাদর্শে বিশ্বাসীএই স্বাধীনতা সংগ্ৰামী হিন্দু মহাসভা প্রতিষ্ঠার অন্যতম স্থপতি। ১৯২৪শে রত্নগিরি হিন্দুসভা গঠন, ১৯৩৭শে হিন্দু সভার সভাপতি। লালা লাজপৎ রায়,বালগঙ্গাধর তিলক এবং বিপিনচন্দ্র পালেদের উগ্ৰরাজনৈতিক জাতীয়তা বাদে বিশ্বাসী এই স্বাধীনতা সংগ্ৰামীর বিখ্যাত শ্লোগান ‘হিন্দুতাইজ অল পলিটিক্স এন্ড মিলিটারাইজ হিন্দুজুম’। তার রাজনৈতিক দর্শন ইতিবাচক মানবতাবাদ,যুক্তবাদ,সার্বজনীনতা, উপযোগবাদ এবং বাস্তব বাদের সংমিশ্রণ। তিনি ছিলেন দুটি জাতির সমন্বয়ের প্রস্তাবক। মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক মতাদর্শে গভীর অনাগ্ৰী ও কঠোর সমালোচক এই সংগ্ৰামী ভারত বিভাজনেরও বিরোধী ছিলেন। এক দেশ এক আইন ছিল তার স্বপ্ন। গান্ধীজীর মৃত্যুর পিছনে বিনায়ক দামোদরের হাত ছিল সন্দেহে তাকে বন্দী করা হয়, অনেকেই গান্ধী হত্যাকাণ্ডে সঙ্গে বিনায়ক জড়িত বলে বিশ্বাস করেন।

দীর্ঘ ৫০বৎসর কারাবাসের সময় হিন্দুত্ব বিষয়ে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই ও কবিতা রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য বই “ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস”, “গান্ধী গোন্ধাল”,”স্বতন্ত্র সমর”, “হিন্দু রাষ্ট্র দর্শন,” “কালে পানি”,”লন্ডনের বাতামি পাতে”,” সাভারকরযত কবিতা,” “কমলা”,প্রভৃতি। ‘হিন্দু কে’?প‍্যামফলেটে জৈন, বৌদ্ব,শিখ এবং হিন্দুধর্মকে একযোগে দেখার ভাবনা প্রকাশ করেন তিনি।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *