।।প্রতিবেদক :গৌরীশংকর মহাপাত্র ।।

এ বিশ্বকেএ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি,
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার”

আজ বিশ্বপরিবেশ দিবস। ১৯৭২এ আজকের দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্বান্ত নেয়। ১৯৭৪এর ৫ই জুন থেকে তা পালিত হচ্ছে। মানুষ প্রকৃতিকে জয় করার নেশায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে জলে-স্থলে অন্তরীক্ষে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছে, এই জয় তাকে ফেলেছে গভীর সংকটে । এতদিনে মানুষ বুঝেছে প্রকৃতিকে জয় নয় প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান’ই সুস্থ্য ভাবে বাঁচার একমাত্র পথ।

প্রতিবছর এই দিনটি বিশ্বকে নাড়া দেয়, পৃথিবীতে খাদ্য জল ও খনিজ দ্রব্যাদির যোগান ঠিক রাখে জীব-বৈচিত্র। পাশাপাশি জলবায়ুর পরিবর্তন, দূষণও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা এবং পৌষ্টিক উপাদান গুলি সঠিকভাবে পুনঃব্যবহারযোগ্য করে তোলায় গোটা বাস্তু তন্ত্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা জরুরী। বিশ্বব্যাপি জলবায়ুর পরিবর্তন এবং তার হাত থেকে প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য সারা দুনিয়ার মানুষকে উৎসাহিত করতে এই দিনটির তাৎপর্য।পরিবেশ সচেতন করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হল বিশ্ব পরিবেশ দিবসটি পালন। ২০২০তে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের ভাবনা জীববৈচিত্র।আয়োজক দেশ কলম্বিয়া জার্মানির সহযোগে অনুষ্ঠানটি করবে।গোটা বিশ্বের জীববৈচিত্রের ১০% কলম্বিয়ায়। আ্যমাজন রেনফরেস্টর বড় অংশ কলম্বিয়ায় এবং পৃথিবীর পাখিও অর্কিড বৈচিত্রের এটি প্রথম দেশ।উদ্ভিদ, প্রজাপতি, স্বচ্ছ জলের মাছ, এবং উভচর বৈচিত্র্যের নিরিখে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে কলম্বিয়া। কলম্বিয়ার পক্ষে জানানো হয় -” প্রায় ১০ লক্ষ জীববৈচিত্র বিলুপ্তির পথে। জীব বৈচিত্র রক্ষায় এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় আসেনি।” সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা যায় জীব বৈচিত্রের প্রায় ৯৮% বিলুপ্ত। শিল্পায়ন এবং নগরায়নের জেরে গোটা দুনিয়ায় পরিবেশের দফা রফা।বিশ্ব উষ্ণায়ন পরিবেশ বিজ্ঞানীদের ঘুম কেড়েছে।যেভাবে উষ্ণতা বাড়ছে ,ভূগর্ভের জল ও জ্বালানী তলানীতে ঠেকেছে অদূর ভবিষ্যতে মানব সভ্যতার সংকট শিওরে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্তত যে ৫টি বিষয়ে পরিবেশ রক্ষায় আমরা যত্নবান হতে পারি–

প্রথমত: পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ,যা বর্তমান রাজ‍্য সরকার এ রাজ‍্যে বৃক্ষরোপণের জন্য ৭দিন ব‍্যাপি অরণ্য সপ্তাহ পালনের পরিকল্পনা গ্ৰহন করেছে।
দ্বিতীয়ত:- প্লাস্টিক বর্জন, প্লাস্টিকের ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ জল, মৃত্যু হচ্ছে নানান সামুদ্রিক প্রাণীর।
তৃতীয়ত:- গ্রীন হাউজ গ্যাস, কার্বন ডাই অক্সাইড ,নাইট্রিক অক্সাইড পরিবেশেরদূষণ বাড়ায় এর বেশিরভাগ আসে কয়লা পোড়ানো থেকে ,তাই কয়লা পোড়ানো বন্ধ করে সোলার পাওয়ার তথা অচিরাচরিত শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিকরা।
চতুর্থত:-ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহনে গুরুত্বারোপ করা। যত বেশি সংখ্যক গাড়ি রাস্তায় বেরোবে দূষণতত তীব্র হবে।
পঞ্চমত:- জল নষ্ট কমিয়ে রেন ওয়াটার হারভেস্টিংএর মাধ্যমে জল সঞ্চয় বাড়ানো। আসুন আজকের দিনে এই ৫টি বিষয়ে সচেতন হওয়ার শপথ গ্ৰহন করি।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *