
গৌরীশংকর মহাপাত্র :এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর: কেবল বিরোধিতার নামে বিরোধিতা করা এক শ্রেণীর মানুষের কাজ,এটা ঠিক না। আসল সত্যটি গোপন করে অভিযোগের লাভ কি? আজকে জাতীয় স্তরের এক সংবাদ পত্রে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। জুমকীতে এক পরিযায়ী শ্রমিককে নাকি ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেনা স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা। আসল কথাটি পরিবারের লোকেরাই বাধা দিচ্ছেন ঘরে না থেকে গ্ৰামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোয়া্রেন্টাইন সেন্টারে থাকতে। পরিযায়ী ফেরায় রাজ্যে করোনা সক্রমন গুনোত্তর বাড়ায় ছেলে পিলে নিয়ে থাকা পরিবারের তাতেই আপত্তি। এই ঘটনা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জানতেনই না । তার কানে কথা আসায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতেই তার থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বি জেপির অভিযোগকারী আসল তথ্য টি গোপন করলেন। দুর্যোগ ও বিপর্যয় মোকাবেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতন্দ্র প্রহরী সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি ও আম্ফান ঝড় পরবর্তী মোকাবেলায় কাছ থেকে দেখেছে বাংলা। তিনি আরও বলেন দেশের প্রথম নির্বাচনের পর এই প্রথম কোন বিপর্যে দলীয় কর্মীও বিধায়ক ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ক্লাবকে নিয়ে বিপন্ন মানুষের মোকাবেলায় পাশে এসে নেতৃত্বকে দাঁড়াতে দেখা , যা করোনা, আম্ফান, পরিযায়ী নিয়ন্ত্রণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখলাম।
তিনি আরও বলেন লকডাউনের প্রযোজন ছিল, কিন্তু কোন আগাম শতর্কতা ছাড়া সময় না দিয়ে এমন জারি হঠকারী সিদ্ধান্ত যা দেশ নোটবন্দী ও জিএস টি চালু করার ক্ষেত্রে দেখেছে। ৮ই জুন এগরা-২এর ভবানীচক তৃণমূল কার্যালয়ে দলের নির্ঘন্ট মেনে সাংবাদিক সম্মেলন করতে গিয়ে করোনা পরিস্থিতি , পরিয়ায়ী শ্রমিকফেরানো ও আম্ফান ঝড় পরবর্তী ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও পুনর্গঠন ঘিরে বিরোধীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে কথা গুলি বলেন এগরা বিধান সভার ততোধিক বারের জনপ্রিয় বিধায়ক সমরেশ দাস। আপনারা বলছেন বিরোধীরা ত্রাণ দিতে চায় আমরা দিতে দিচ্ছিনা বিষয়টি ও মিথ্যে। কি দেবেন কাকে দেবেন তার তালিকা সহ সামগ্ৰী স্থানীয় বিডিও র কাছে জমা দিন, বিতরণের সময় থেকে দেখুন আপনার তালিকা মত বন্টন হল কি না? দেবার মুরোদ নেই শুধু ফাঁকা বিরোধিতা মানায় না। আবার শুনছি ক্ষতিপূরণের আবেদন পত্র প্রধান নিচ্ছেন না। শুধুমাত্র প্রধান কেন? পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, এম এল এ, বিডিও ,এস ডি ও যে কোন যায়গায় জমা দিন, দায়িত্ব নিয়ে বলছি কোন ভাবেই প্রকৃত প্রাপক বঞ্চিত হবেন না। কোন ক্ষতিগ্রস্ত যাতে বঞ্চিত না হন সেভাবেই কাজ হয়েছে।
তিনি বিধায়ক জানান নিজ উদ্যোগে ২৫ লক্ষ টাকা এবং বেসরকারি উদ্যোগে ৩৫ লক্ষ টাকার ত্রাণ বিতরণ হয়েছে নির্বাচন ক্ষেত্রে। প্রায় ২৫ হাজার ৬০০ মানুষের হাতে খাদ্য সামগ্ৰীর প্যাকেট তুলে দেয়া হয়েছে। কল্পতরু প্রকল্পে রান্না করা খাবার বিতরণ হয়েছে। দিল্লী , গুজরাট, মহারাষ্ট্র থেকে আসা ৬ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক কে ৯৯টি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে ,দলীয় কর্মীরা তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। আরফান ঝরে ঘর ভেঙেছে ৩৮০০, আবাস যোজনার ঘর পেয়েছে ৮৫০০, গাছ ভেঙেছে ৪০হাজার, গোয়াল ঘর ভেঙেছে ২৬০ টি, পোল্ট্রি নষ্ট হয়েছে১১৫ টি, পান বরজে নষ্ট ৩৬০০টি, রেশন ব্যবস্থা হয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষের,৭৬ হাজার কৃষককে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ৫২০০ টি ত্রিপল বিতরণ হয়েছে, জয় বাংলা স্কীম আদিবাসী মানুষ জনদের ৫০০০ বাড়ির পরিকল্পনা সরকারের।
তিনি বলেন আবার ও বলছি ২-৪ দিন সময় দিলে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে পারত তাদের জীবন এত দুর্বিষহ হত না,এই সংক্রমণ ঠেকানো যেত। পথে নানা দুর্ঘটনায় প্রায় ৮০ জনের প্রাণহানি হত না। তাদের চরম দুর্দশায় কেন্দ্রীয় সরকার যখন নীরব দর্শক তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্পে নগদে ১০০০টাকা দেওযা, তাদের জন্য কূপনে রেশন ,১০০ দিনের কাজের ব্যবস্থাকরে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। পরিযায়ীদের ফেরাতে রেলকে রাজ্য সরকার ২০০কোটি দিয়েছে, ছাত্রদের ফেরাতে ও সরকার টাকা দিয়েছে।
আমফান ঝড়ে গৃহহীন ৯ জেলার ৫ লক্ষ পরিবার ২০ হাজার টাকা ইতিমধ্যে পেয়ে গেছেন। এম জি এন আর ই জি এস এর মাধ্যমে আরো ২৮ হাজার করে টাকা পাবেন। এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ১০ লক্ষ মানুষ। কৃষি ক্ষেত্রে ২৩.৩ লক্ষ কৃষককে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা সরকারের। পঃবঃ সরকার এ পর্যন্ত ত্রাণে খরচ করেছে ৬২৫০ কোটি টাকা। রাজ্যে ক্ষতি হওয়া ১ লক্ষ কোটির মধ্যে কেন্দ্র দিয়েছে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা। রাজ্য সরকার ৯০% মানুষের জন্য বিনামূল্যে রেশনে ব্যবস্থা করেছে, আগামী ছমাস ৫ কেজি করে খাদ্য শস্য বরাদ্দ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য পার্থসারথী দাস, দেশবন্ধু পঞ্চায়েতের উপ প্রধান আলোক মহাপাত্র, বাসুদেব পুর পঞ্চায়েতের উপ প্রধান পীযূষ চক্রবর্তী, এগরা -১যুব সভাপতি তথা বরিদা পঞ্চায়েতের উপ প্রধান শান্তনু নায়ক, এগরা শহর ও ২এর যুব সভাপতি কৌস্তুভ দাস ও স্বপন পাত্র,আইএনটিটিইউসি নেতৃত্ব শেখ সুরজ আলি,যুব তৃনমূলের নিখিলেশ দাস প্রমুখ।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ও তাদের পরিবারের শুভকামনা করে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আহ্বায়ক বিধায়ক সমরেশ দাস।
