
প্রকাশ কর: দৈনিক আবেশভূমি ডেস্ক: মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম। মাধ্যমিকের মত উচ্চমাধ্যমিকেও এবার জেলার জয় জয়কার। পাশের হার ৯০-১৩%, গতবছর এই হার ছিল৮৬-২৯। মোট পরীক্ষার্থী -৭,৬১,৫৮৩,মোট পাশ -৬,৮০,০৫৭। পাশের হারে দ্বিতীয় স্থানে পূর্ব মেদিনীপুর। প্রথম স্থানে-(৪৯৯)পেয়ে ৪জন,গৌরব মন্ডল,স্রোতশ্রী রায়, অর্পণ মন্ডল, ঐক্য বন্দোপাধ্যায়। মেধা তালিকায় সেরা ১০এর মধ্যে এই জেলার ১৬জন। আর তালিকার-৩ এ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা মহকুমার কাজলাগড় হাই স্কুলের সায়নী মহাপাত্র(৪৯৭)।শতাংশে ৯৯. ৪০। মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে মেধা তালিকার-৩ এ ছিল ভবানীচক হাই স্কুলের দেবস্মিতা মহাপাত্র।আর ইতিহাস বিজড়িত জেলা ও কাজলাগড়কে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে তুলে ধরল মহারাজাধিরাজ বিজয় চাঁদ মেমোরিয়াল হাই স্কুলের কৃতীছাত্রী সায়নী মহাপাত্র। কাজলাগড় একটি ইতিহাস প্রসিদ্ধ নাম। নাট্যকার কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কর্মস্থল কাজলাগড় কে আধুনিক বাংলার স্মৃতিপটে তুলেএনে কৃতিত্বের স্বাক্ষ্য রাখল সায়নী। দাদু শশাঙ্কশেখর মহাপাত্র ঐ স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাস শিক্ষক হওয়ায় স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্কের মতো পারিবারিক সম্পর্ক।একমাত্র ছোট ভাই সৌমাল্যও এই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ।সায়নীর স্বপ্ন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা।জয়েন্ট পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরীও করেছে।এ বিষয়ে তার অনুপ্রেরণা নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক জ্যেঠতুতো দাদা ডা: নেপাল মহাপাত্র।সে চায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে দাদার মত মানুষের পাশে থাকতে। মাধ্যমিকে এই বিদ্যালয় থেকে ৬৭১পেয়ে ছিল।বাবা গৌতম কুমার মহাপাত্র রসায়ন অনার্সের কৃতি ছাত্র ,লালপুর বেতুলিয়াচক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক এবং মা সাথী মহাপাত্র চড়াবাড় বালিকা বিদ্যালয়ে বায়ো সায়েন্সের পার্শ্বশিক্ষক। সায়নী এই সাফল্য বাবা, মা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা, গৃহ শিক্ষকদের সঙ্গে চিকিৎসক দাদাকেও উৎসর্গ করে। রসায়ন ও বায়োলজিতে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বাবা-মার কাছে তালিম নেওয়া। উচ্চমাধ্যমিকে এই বিষয়ে তার গৃহশিক্ষক ছিল ।সারাদিন পড়াশোনার ফাঁকে গান করা, ছবি আঁকা, গল্পের বই পড়া ছিল রুটিন মাফিক। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা ছিল প্রিয় গল্প ।বাংলা-৯৭, ইংরেজি -৯৭,বায়ো সায়েন্স-১০০, ম্যাথমেটিক্স১০০, ফিজিক্স-১০০, কেমিস্ট্রি -১০০ হল তার বিষয় ভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বর। রেজাল্ট ভালো হবে কয়েকটি পরীক্ষার পর এমন তার ধারণা ছিল কিন্তু সম্পূর্ণ লিখিত পরীক্ষার না হওয়ায় একটা মানসিক চাপ ছিল তার। টিভির পর্দায় রেজাল্ট দেখে আপ্লুত ভগবানপুর -১ব্লকের কোটবাড় পঞ্চায়েতের এই স্কুল ছাত্রী।


