
।।প্রতিবেদক -গৌরীশংকর মহাপাত্র।।। সদ্য প্রয়াত প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী অমলাশঙ্কর। ২৪শে জুলাই শক্রবার কলকাতার বাসভবনে বার্ধক্য জনিত কারণে ১০১বৎসর বয়সে তার মৃত্যু। অমলাশঙ্করের মৃত্যুতে শিল্প ও সংস্কৃতি জগতে ইন্দ্রপতন বলা যায়। স্বামী প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্কর ১৯৭৭এ প্রয়াত। প্রখ্যাত গীতবাদ্যকার আনন্দশঙ্কর তার একমাত্র ছেলে এবং অভিনেত্রী তথা নৃত্যশিল্পী মমতাশঙ্কর তার কন্যা। নৃত্য শিল্পী তনুশ্রী শঙ্কর পুত্রবধূ। অমলা শঙ্করের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ শিল্পী মহল ও গুণমুগ্ধরা। প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী নাতনি শ্রীনন্দা শঙ্করের সোস্যাল মিডিয়ার পোস্টে মৃত্যুর খবর সবার নজরে আসে। তিনি পোষ্টে লেখেন “আমার ঠাম্মা ১০১ বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। গত মাসে ২৭জুন তার জন্মদিন আমরা পালন করেছিলাম। মুম্বাই থেকে কলকাতা যাওয়ার কোন ফ্লাইট নেই, এটা আমাদের কাছে খুব কষ্টের। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। তাঁর মৃত্যুতে একটা যুগের অবসান হল।” ১৯১৯ সালের ২৭শে জুন বাংলাদেশের যশোরে অমলাশঙ্করের জন্ম। তখন নাম অমলা নন্দী, বাবা অক্ষয় কুমার নন্দী।১৯৩১এ ১১ বছর বয়সে ফ্রান্সের প্যারিসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কলোনিয়ান এক্সিবিশনে অংশগ্রহণ আর সেখানেই দেখা উদয়শঙ্করের সঙ্গে।পরে উদয়কে গুরু হিসেবে পেয়ে নাচের তালিম নেওয়া এবং দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়িয়ে অনুষ্ঠান। ১৯৩৯এ যখন দলের সঙ্গে চেন্নাইতে তখন এক দিন ফ্রগপরা নৃত্য শিল্পী আমন্ত্রিত অমলাকে শাড়ি পরতে এগিয়ে দিয়ে ছিলেন উদয়ের মা হেমাঙ্গিনী দেবী।পরিবারের সেই ভালো লাগা থেকে এক দিন রাতে বিয়ের প্রস্তাব পরিবারের এবং ১৯৪২ এ ১৯ বছর বয়সে সাত পাকে বাঁধাপড়ে পারিবারিক জীবন শুরু। এরপর রবিশঙ্করের ভাতৃজায়ার এই জুটির নৃত্য শিল্পে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি।“কান” চলচ্চিত্র উৎসবে কনিষ্ঠতম শিল্পী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি উদয়ঙ্ককর পরিচালিত ছায়াছবি কল্পনা’য় উমার চরিত্রে অভিনয় করার পর তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক স্তরে।২০১২ সালে ৮১বৎসর পর তিনি আবারও কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেন। শুধু নৃত্যে নয় ছবি আঁকায় ও পটু ছিলেন, সে ক্ষেত্রে ও স্বকীয়তার ছাপ রাখতে পেরে ছিলেন। ১১বৎসরের ফ্রগপরা জীবন থেকে গুরু শিষ্যার বোঝাপড়া থেকে পরিনয় সূত্রে আবদ্ব হলেও যাঁর তালিমের উৎকর্ষতায় এই খ্যাতি সেই উদয় শংকরের সঙ্গে অমলা শঙ্কররের পারিবারিক দাম্পত্য সম্পর্কেও চিড় ধরে। শেষে উদয়শঙ্কর থেকে পৃথক জীবন যাপন করেছেন।শুক্রবার কলকাতায় গান স্যালুট শিল্পীকে শেষ বিদায় জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন মমতাশঙ্কর, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ।নৃত্যশিল্পীর মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক প্রকাশ লিখেছেন “বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী অমলাশঙ্করের মৃত্যুতে আমি গভীর ভাবে শোকাহত, তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নৃত্যের মাধ্যমে তিনি রাজ্য এবং দেশের সীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। উদয়শংকর পরিচালিত কল্পনায় অমলাশঙ্করের অভিনয় আজ ও জনপ্রিয়।২০১১সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে “বঙ্গবিভূষণ” সম্মান প্রদান করেন।তাঁর মৃত্যুতে নৃত্যজগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল, আমি অমলাশঙ্করের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।” ১৯৭৭এর উদয়ের পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবারের ধারায় অমলাশঙ্করএগিয়ে নিয়ে চলেছেন কন্যা মমতাশঙ্কক এবং পুত্রবধূ তনুশ্রী শঙ্করদের। আজও তাদের দেখানো পথেই এগিয়ে চলা অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী তাদের নৃত্যের পরম্পরায় সমৃদ্ধ,সমৃদ্ধ বাংলার সংস্কৃতিও।