।।প্রতিবেদক :গৌরীশংকর মহাপাত্র।।

মানবাধিকার কর্মী তথা কথা সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর আজ ৫ম তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৬ সালের ২৮শে জুলাই কলকাতায় ৯০ বৎসর বয়সে তাঁর প্রয়ান। ১৯২৬ সালের ১৪ ই জানুয়ারী ঢাকায় সাহিত্যিকের জন্ম।                                         বাবা কল্লোল সাহিত্য গোষ্ঠীর অন‍্যতম সাহিত্যিক মণীষ ঘটক ও মা সাহিত্যিক ও সমাজ কর্মী ধরিত্রী দেবী। চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটক তার কাকা। ভাই শঙ্খ চৌধুরী বিশিষ্ট ভাস্কর, শচীন চৌধুরী ছিলেন “দি ইকনোমিক আ্যন্ড পলিটিক্যাল উইকলি অফ ইন্ডিয়া” পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। কবি নাট‍্যকার বিজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে ১৯৪৭ এ বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন। ঔপন্যাসিক ও রাজনৈতিক সমালোচক নবারুণ ভট্টাচার্য তার একমাত্র ছেলে।      বিদ্যালয় শিক্ষা ঢাকায়, পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মাতক এবং ইংরেজী সাহিত্যে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ। বাবা -মায়ের   জিনগত সাহিত্য সাধনা এবং স্বামী কূলের প্রতিবাদী সাহিত্য ধারা  তার জীবন ও সৃজনশীল সাহিত্য ধারাকে প্রতিবাদী সাহিত্য ধারাকে সম্মৃদ্ধ করে।  তার লেখা প্রথম উপন্যাস রানী লক্ষীবাঈর কাহিনী অবলম্বনে ” দি কুইন অফ ঝাঁসি”, “হাজার চুরাশির মা” “ইমাজিনারি ম্যাপ,” “দ‍্যা বেস্টস্টোরিজ” ,”রুদালি”, বীরসা মুন্ডার কাহিনী অবলম্বনে “অরণ্যের অধিকার”প্রভৃতি প্রায় ১০০টির বেশীউপন্যাস।’ অগ্নিগর্ভ” “নীড়েতে মেঘ”, “স্তন্যদায়িনী”, “চোট্টি মুন্ডা এবং তার তীর”, প্রভৃতি প্রায় ২০ টি ছোট গল্প, “সংঘর্ষ”, “রুদালী”, “হাজার চুরাশি কি মা “, “মাটি মায়া,” “গাঙ্গোর” ছোটগল্প ও চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে। এগুলি বাংলা সাহিত্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।                       শিক্ষকতা শুরু করেন বিজয়গড় কলেজে ,সেখানে শ্রমিক শ্রেণীর ছাত্রীরা পড়াশোনা করত। তিনি একজন সাংবাদিক ও সৃজনশীল লেখক হিসেবে লোধা ও শবর উপজাতির নারী ও দলিতদের নিয়ে পড়াশোনা করেন। তার কথা সাহিত্যে তিনি প্রায়ই ক্ষমতাশালী জমিদার ,মহাজন’, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আধিকারিকদের হাতে উপজাতি ও অস্পৃশ্য সমাজের অকথ্য নির্যাতনের চিত্র অঙ্কন করেছেন। তিনি বলতেন “আমি সর্বদা বিশ্বাস করি যে, সত্যি কারের ইতিহাস সাধারণ মানুষের দ্বারা রচিত হয়।” ” আমার লেখার কারণ ও অনুপ্রেরণা হলো সেই মানুষগুলি, যাদের পদ দলিত করা হয় ও ব্যবহার করা হয় অথচ যারা হার মানে না।”

    তার সামাজিক আন্দোলনে ঝাড়খন্ড সরকার আদিবাসী নেতা বীরসা মুন্ডার মূর্তি কে শৃঙ্খলা মুক্ত করেন। জীবনের প্রথম দিকে বিজন ভট্টাচার্যের  নেতৃত্বাধীন নাট‍্য মঞ্চ গণনাট‍্যের সক্রিয় সদস্যা। কমিউনিস্ট পার্টি সিপিআইএমের নেতৃত্বাধীন সরকারের  ঘোষিত শিল্পনীতির বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন।২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে সমর্থনে মাঠ নামেন। এই নির্বাচনে ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটে। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর, কাঁথির অদূরে হরিপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ নীতির বিরুদ্ধে  রুখে দাঁড়িয়ে আন্দোলনেনেতৃত্ব দিয়েছেন। বহুসংখ্যক বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, লেখক ,নাট্যকর্মী’কে একত্রিত করেছিলেন। এই সময় রাজ্যের বর্তমান পরিবহন সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ও সঙ্গে পান। তিনি বাংলা সাহিত্য আকাদেমি,জ্ঞানপীঠ, র‍্যামন ম‍্যাগসাই সাই, ভারতের ২য় ও ৪র্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান যথাক্রমে বঙ্গবিভূষণ ও পদ্মশ্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান বঙ্গবিভূষণ পুরষ্কারে সম্মানে বিভূষিত হয়ে বাংলা ও বাঙ্গালীর   গৌরব বৃদ্ধি ক‍রে ছেন। তাঁঁর ৫ম তম মৃত্যু বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

    তথ্য সূত্র:- ১)বাংলা সাহিত‍্যের ইতিহাস- অসিত বন্দোপাধ্যায়।২) প্রতিদিন জন্মদিন মৃত্যুদিন এবং -বীরকুমার শী।৩)ইউকিপিডিয়া।

       

      Share

      Leave a Reply

      Your email address will not be published. Required fields are marked *