
দৈনিক আবেশভূমি ডেস্ক:এগরা কাঁথি:পূর্ব মেদিনীপুর। জেরক্স ব্যবসায়ীর পর এবার কাঁথিতে করোনায় দ্বিতীয় মৃত্যু কাঁথির প্রাক্তন কাউন্সিলরের। বুধবার দুপুর প্রায় ১টায় প্রয়াত হন কাঁথি পুর -সভার প্রাক্তন কাউন্সিলর ও সুপার মার্কেটের ভূষিমাল ব্যবসায়ী তথা পদ্মপুকুরিয়ার বাসিন্দা ভবতোষ বেরা (৫৮)। তিনি২২ জুলাই ফুসফুস, হৃদপিন্ড,মুত্রনালীতে ইনফেকশন নিয়ে উড়িষ্যার উৎকল নার্সিংহোমে ভর্তি হন।সেখানেই আই সি ইউ তে থাকাকালীন চিকিৎসকরা অবস্থার অবনতি দেখে ২৫ জুলাই লালারস সংগ্রহ করেন।পরদিন সকালে করোনা পজিটিভ রির্পোট আসে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ভবতোষ বাবুকে উড়িষ্যার কলিঙ্গ(কে.আই.এম.এস) করোনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। সেখানেই ৪ দিন আই সি ইউ তে ছিলেন। বুধবার দুপুরে কলিঙ্গ হাসপাতাল পরিবারকে ভবতোষ বাবুর মৃত্যুর সংবাদ জানায়। ভবতোষ বাবুর ছেলে শুভদীপ বেরা বলেন,অন্য উপসর্গ নিয়ে উৎকল নার্সিংহোমে ভর্তি করেছিলাম। সেখানেই জানতে পারি বাবার করোনা পজিটিভ। করোনার চিকিৎসার জন্য নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগেই কেএইমস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে । উড়িষ্যায় র পুরোপুরি লকডাউন থাকায় রাস্তায় রাত কাটাই। সেখানে থাকার বন্দোবস্ত না করতে পেরে এবং হাসপাতালের কর্মীদের কথামতোই আমরা শনিবার দুপুরে কাঁথিতে ফিরে আসি।আজ হাসপাতাল সূত্রে বাবার মৃত্যুর সংবাদ জানান হয়। কি উপসর্গ নিয়ে বাবার মৃত্যু হল তা সংশয় আমাদের। প্রশ্ন উঠেছে, তার কিভাবে করোনা সংক্রমণ ? শুভদীপ বাবুর কথায়, চলতি মাসেই ভিন রাজ্য থেকে চিকিৎসা করিয়ে বাবাকে নিয়ে কাঁথির বাড়ীতে ফিরে আসি।তখনই সকলের করোনা টেস্ট করেছিলাম। সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। আবার অসুস্থ হওয়ায় পুনরায় চিকিৎসার জন্য উড়িষ্যা নিয়ে যাই। গত শনিবার থেকেই হোম কোয়ারানটাইনে রয়েছে মৃত কাউন্সিলরের ছেলে(শুভদীপ), স্ত্রী,শ্যালক তিনজনই। তাঁদের প্রত্যেকের লালারস সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই সংবাদের জেরে কাঁথি শহরজুড়ে উৎকন্ঠা ও শোকের ছায়া। শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান স্থানীয় কাউন্সিলর , প্রশাসন, আত্মীয়-সজন, প্রতিবেশী সকলেই। জানা গেছে প্রয়াত কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী ভবতোষ বেরার মরদেহ পরিবারের হাতে না দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৎকার করবে উড়িষ্যা সরকার।
