
গৌরীশংকর মহাপাত্র :এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর।। তৃণমূল ও যুব তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অশান্তির কালো মেঘ দলের অন্দরে।রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কোণঠাসা করা হচ্ছে,যোগ্য সম্মান দেওয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব মন্ত্রী অনুগামীরা প্রায় ২৩শে জুলাই থেকে। সাধারণ নীচু তলার কর্মীরা ক্ষোভ উগরে দিলেও সেই তালিকায় প্রকাশ্যে ছিল না কোন দলীয় জনপ্রতিনিধি বিধায়ক বা সাংসদ।সদ্য প্রাক্তন যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিধায়ক ডা:সংগ্রাম দোলাই সেই ক্ষোভ উগ্ৰে দিয়ে জানান- “দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর একনিষ্ঠ সৈনিক মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেখেই আমার রাজনীতিতে আসা, আর অন্য কাউকে দেখে নয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা যুব সভাপতির পদ থেকে সরানোর আগে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। রাজ্য যুব সভাপতি ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে এটা গোপন করে ঠিক করেন নি। বাংলার মানুষ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই আস্থা রাখেন জননেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপরে। রাজ্য জুড়ে পাহাড়, জঙ্গল, সাগরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে ঐকান্তিক কাজ করে চলেছেন শুভেন্দুবাবু। আমরা তৃণমূল করি এবং আগামী দিনেও করব।কিন্তু, দলের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যে অন্যায় হয়েছে সেই অন্যায় দলের আরও অনেক নেতৃত্বের সাথে আগামী দিনে হতে পারে।দল যেভাবে তাঁর প্রতি অন্যায় করলো সেটা মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন আমার বিশ্বাস দলনেত্রী মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে যোগ্য মর্যাদা দেবেন।” অধিকারী পরিবারের বিরোধী বিধায়ক অখিল গিরির গোষ্ঠীকে সাম্প্রতিক রদবদলে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বিধায়ক অখিল গিরির পুত্র সুপ্রকাশ গিরিকে দলের রাজ্য যুব কমিটিতে নিয়ে যাওয়া, বিধায়ক অখিল গিরিকে এই জেলার কো-অর্ডিনেটর করা বা তাঁর শিবিরের পার্থসারথি মাইতিকে জেলা যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ ঘনীভূত হচ্ছে দলে। এদিকে নতুন জেলা যুব সভাপতির প্রতিক্রিয়া -“কাজ করলে পুরস্কার মেলে। আমাকে তাই কর্মী থেকে ওই পদে বসানো হয়েছে।”এমতাবস্থায়, দলের অন্দরে অশান্তির মেঘ জাঁকিয়ে বসলেও বিধায়ক সংগ্রাম দোলাইয়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান সাংসদ শিশির অধিকারীকে জানতে চাইলে তিনি বলেন -“এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি দলের সুপ্রিমোর উপরে নই। তাই এবিষয়ে আমার কথা বলা সাজে না।” এ দিকে পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দলের কোর কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা , অধিকারী ঘনিষ্ট বিধায়কের যুব সভাপতির পদ থেকে অপসারণ, বিধায়ক সংগ্রাম দোলাইয়ের সরব হওয়া নিয়ে এই জেলায় তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের কথায় মন্ত্রী শুভেন্দুবাবুও এখনও নীরব। তাঁর দিকেই তাকিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল।এদিকে মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুরের দলীয় সভাপতি রাখ ঢাক না করেই অধিকারীদের আনুগত্য ও তাদের সংগ্রামী ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে কোর কমিটিতে শুভেন্দু বাবুর অনুপস্থিতি জনিত অস্বস্তি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর দল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন কিনা পরে কিনা সেটাই দেখার।
