দৈনিক আবেশ ভুমি ডেস্ক: এগরা কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর।।                                                      ৩ দিনের টানা চেষ্টায় অবশেষে রক্ত পেল ৯ বছরের রূপসা ও প্রকাশ ভূঞ‍্যা।
একে লকডাউন অপরদিকে করোনার ক্রমবর্ধমান উর্ধ্বগতিতে রক্তের আকাল। ভয়ংকর কঠিন এই সময়ে পটাশপুর-২এর “মথুরা ব্রাহ্মণপল্লী সবুজ সংঘ”এর কর্মকর্তা সৌরভ পাহাড়ী থেকে দুই থ্যালাসেমিয়া রোগীর B+ রক্তের জরুরী চাহিদার খবর আসে। তাদের শরীরে তীব্র ভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যাচ্ছে জীবন সংশয়ে। ফলে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে ৯ বছরের মেয়ে রূপসা পাহাড়ী ও প্রকাশ ভূঁঞ‍্যা। ব্লাড ব্যাংক এগরা ও কাঁথি থেকে জানা গেল মাত্র -১বোতল রক্ত পাওয়া যেতে পারে। আর এক বোতল জোগাড় নিয়ে হিমশিম খায়। প্রতাপদীঘি এসো বাঁচি সংস্থার সায়নদীপ মাইতির রক্ত B+। সাথে সাথে সে রাজী হওয়ায় তাকে নিয়ে “এসো বাঁচি”র সদস্য কৌশিক মাইতি ঝুঁকি নিয়েই পৌঁছায় এগরা সুপার স্পেশালিটিতে। দুর্ভাগ্য জনক ভাবে হাসপাতালে কারুরই রক্ত দেওয়া যায়নি।এ দিকে ওরা আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে। অগত্যা কাঁথিতেই রক্ত দেওয়া যাবে এমন সংবাদ পায় তারা কিন্তু কাঁথিতে B+ রক্ত নেই। অর্থাৎ দুজন ডোনারের প্রয়োজন। চারিদিকে খুঁজে যদিও পাওয়া গেল কিন্তু কাঁথিতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা কাঁথি গিয়ে রক্ত দিতে অস্বীকার করে। যারা নিয়মিত রক্তদেয় তারা সংস্থা সম্প্রতি রক্তদান শিবিরে আগেই রক্ত দিয়ে ফেলেছেন। এমন কি রূপসার বাবা সুপ্রকাশ পাহাড়ীও। হঠাৎ কৌশিকের মনে হয় জগতি গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের অনেকেই কৌশিককে শ্রদ্ধা করে।তাদের ৫ – ৬ জন কে নিয়ে গ্রুপ টেস্ট করে ২ জনের B+ পাওয়া যায়।এদের একজনের কাশি থাকায় তাকে বাদ দিয়ে শেষে আক্রমের রক্ত নিয়ে রূপসা কে দেওয়া হয়। আর প্রকাশকে রক্ত দিতে এগিয়ে আসে তার কাকা বরুণ ভূঞ‍্যা। কাঁথিতে ভালো ভাবে দুজনকেই রক্ত দেওয়া হয়। জীবন যুদ্ধে মানুষের পরিচয় বর্ণে নয় মানুষত্বে। এসো বাঁচির এক রূদ্ধশ্বাস নাটকীয় প্রচেষ্টা ৬ই আগষ্টের এই ঘটনায় কিছু দিনের লাইফ ভ‍্যালি ডিটি বাড়িয়ে দেয় দুই থ‍্যালাসেমিয়া শিশুর।

    ছবির বাম দিক থেকে সুপ্রকাশ পাহাড়ী, পুষ্পিতা পাহাড়ী ,রূপসা পাহাড়ী ও সেখ আক্রম।এসো বাঁচি সংস্থা”র কল্যানাশীষ দাস বলেন -“আমরা মনে করি মানুষ মানুষের জন্ম  আসলে আমাদের মত যারা রক্তদান কর্মসূচির সাথে যুক্ত, তারাই একমাত্র উপলব্ধি করতে পারেন  এই সময় সবার মনের অবস্থা কেমন থাকে। এই সময়টাকে মনে হয় যেন একটা যুদ্ধ ।জীবন বাঁচানোর যুদ্ধ, আর এবারের যুদ্ধ জয় টা’তো সব দিক থেকেই আলাদা ।যেখানে জাতপাত মন্দির মসজিদ এর চক্করে, আমরা যে কথাটা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম সেটা আবার সত্য বলে প্রমাণিত হলো ।’এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নাই ‘,জীবনের প্রয়োজনে ব্রাহ্মণ কন্যার ধমনিতে বইছে আজ সংখ্যালঘুর রক্ত”।

      Share

      Leave a Reply

      Your email address will not be published. Required fields are marked *