গৌরীশংকর মহাপাত্র: এগরা কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর।।                                                 আজ সোমবার ভোর ৪.১৫তে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল আমরি’তে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এগরার ৩ বারের বিধায়ক তথা বলাগেড়িয়া কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের দীর্ঘ সময়ের চেয়ারম্যান সমরেশ দাস(৭৬)। ১৮ই জুলাই শনিবার করোনায় আক্রান্ত বিধায়ক পাঁশকুড়া বড়মা হাসপাতালে ভর্তি হন, তারপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। খবর সেখানে তিনি করোনা মুক্ত হয়ে অন‍্যান‍্য শারীরিক সমস্যায় স্থানান্তরিত হন আমরি হাসপাতালে। সেখানে ভেন্টিলেশনে ছিলেন ক্রমশ শারীরিক সুস্থতার খবর পাওয়া গেছিল পরিবার থেকে। গত কয়েকদিন আগে শ্বাসনালীতে একটি ছোট্ট অপারেশন ও হয়। পরে তরল খাদ্য খাওয়ার ও খবর ছিল।ভেন্টিলেশন থেকে সরিয়ে আই সি ইউ’তে রাখা হয়। আজ ভোর ৪টা ১৫ তে তিনি সবার সব চেষ্টা ব‍্যর্থ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ অমৃত গামী হন। প্রসঙ্গত ব্লক ও অঞ্চল তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের কথায় সমরেশ বাবু লকডাউন থেকে এগরা বিধানসভা সহ কাঁথি এলাকায় গরীব দুঃস্থদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। যেখানে যেভাবে দলীয় কর্মীরা ডেকেছেন তিনি পৌঁচেছেন শুধু নয় এগরা বিধানসভা এলাকায় কোভিড-১৯ সচেতনতার প্রচারেও তিনি বহুবার অংশ নিয়েছেন। মাদার থেকে ছাত্র যুবদের নিয়ে মিটিং, ছোট ছোট সভা ও করেছেন। সামাজিক দূরত্ব মেনেই হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে অনেক সময় সাধারণ জনগণকে বলেছেন -” মুখে মাস্ক পরুন ,হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধোবেন, হাতে সেনিটাইজার লাগাবেন, খাওয়া-দাওয়ার ভালো করে করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করুন এবং নিজেও সুস্থ থাকুন পরিবারকে সুস্থ রাখুন ,সাবধানে থাকুন।” কিন্তু এই সচেতন মানুষটি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। তিনি হার মানলেন মৃত্যুর কাছে। এর আগে পানিহাটির বিধায়ক তথা বিধানসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ এবং কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মন্ডল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারাযান।সমরেশবাবুর মৃত্যু করোনা আক্রান্ত তৃতীয় বিধায়কের ।প্রসঙ্গত পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় করোনা থাবা বসায় এটি বিয়ে বাড়ি কেন্দ্র করে।।                               এগরা -২এর বাসুদেবপুর হরিপ্রিয়া ইনস্টিটিউ শনের অবসরপ্রাপ্ত সহ শিক্ষক সমরেশ বাবু ২০০৯ সালে বিধায়ক শিশির অধিকারীর সংসদ হয়ে ছেড়ে যাওয়া আসনে উপ নির্বাচনের মাধ্যমে  বিধান সভায় যান,এযাবৎ এগরার বিধায়ক ছিলেন। বরাবরই ব্যতিক্রমী চরিত্রের এই বিধায়ক বিভিন্ন সময়ে তার উদার পদক্ষেপের    জন্য কখনো দল কখনো প্রিয়জনের কাছে বিরাগ ভাজন হয়ে বারংবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন। জীবনে বাম ঘরানার এই রাজনীতিক শেষ জীবনে ডান পন্থী দলের বিধায়ক হওয়া থেকেই দলের অন্দরে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলেন।নিজেও কৌশলে দক্ষতায়  প্রতিবন্ধকতা  অতিক্রম করার চেষ্টা করেছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে তার পরিচিত মহল ও অনুগামীদের মধ্যেই শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে কিনা এখনো স্পষ্ট নয় তবে এর আগে -২ বিধায়কের মৃতদেহ পরিবারের হাতে দেওয়া হয় নি। বেলা ১০টার পর বোঝা যাবে মৃতদেহ পরিবারের হাতে দেওয়া হচ্ছে কি না। মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী, ৪ পুত্র- পুত্রবধূ, ২ কন্যা -জামাতা সহ অসংখ্য গুণমুগ্ধ রেখে গেলেন।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবারবর্গ কে সমবেদনা জানান এগরা -১ও২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অমিয় রাজ ও দীনেশ প্রধান এবং দুটি ব্লকের প্রধান ও উপ প্রধানগণ। সংসদ  শিশির অধিকারী তার প্রতিক্রিয়ায় জানান – আমার  আমার  বন্ধু ছিলেন সমরেশ। দুঃখে  আমরা পাশেই ছিলাম  রাজনৈতিক জীবন  সুস্পষ্ট ছিল   ওর।তবুও বলছি  করোনা আমার  পরম আপনজন”কে কেড়ে নিল। আজ মনটা  খুবই ভার হয়ে আছে । পরিবারের পাশে সব সময় ছিলাম  আছি  ও থাকবো। তার মৃত্যু  রাজনীতি  ও  সমবায়ে বিরাট ক্ষতি।  তার অভাব পূরণ হওয়ার নয় ।” মুখ্যমন্ত্রী  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার শোক বার্তায় জানান- “বিধায়ক সমরেশ দাসের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ,বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন ।তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক জগতে শূন্যতা সৃষ্টি হল ।আমি সমরেশ দাসের পরিবার পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’ রাজ্যের পরিবহন সেচ ও জল সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  শোক জ্ঞাপন করে জানান -“সমরেশ দাস মহাশয় এর অকাল প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। উনার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। একজন বুনি সমবায়িকা হারালাম আমরা দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাশাপাশি রাজ্যের সমবায় আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তি ছিলেন তার পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি”কন্টাই কো অপারেটিভ ইউনিয়নইউনিয় পূর্ব মেদিনীপুর রেঞ্জ-২তে প্রয়াত সমবায় নেতৃত্ব  ও ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক  বিধায়ক সমরেশ দাস মহাশয় কে সমবায়ের পতাকা  তিন দিন অর্ধনমিত রেখে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাধারণ সম্পাদক হরি সাধন অধিকারী, অফিস সচিব বিবেকানন্দ  পয়ড়‍্যাপ্রমুখ। “এগরা মহাকুমা বইমেলা”র কার্যকরী  সভাপতি  ও “এগরা প্রেসক্লাব’এরর  সভাপতি তথা  ষড়রং এন এন  হাই স্কুলের  প্রধান শিক্ষক  শিক্ষারত্ন বীরকুমার শী শোক প্রকাশ করে জানান – ” যাঁঁকে আমন্ত্রণ পত্র দেওয়ার আগে বারবার চোখ বুলাতাম ,যাঁঁকে সময় দেওয়ার আগে কয়েকবার ভাবতাম (সময়ে উপস্থিত হতে অন্য কাউকে এভাবে দেখিনি) যিনি আমার সামনেই আমার প্রশংসা ও নিন্দা দুই করতে পারতেন এগরা মহাকুমা বইমেলা করতে গিয়ে যিনি বাস্তবোচিত পরামর্শ দিয়েছেন এবং মর্যাদা দিয়েছেন অনুপ্রাণিত করেছেন — তিনি আজ আর নেই ।এগরা মহাকুমা বইমেলা তার একজন অভিবাবককে হারালো। অনেকের মতো আমিও শোকাহত , শোকাহতএগরা মহাকুমা বইমেলা সমস্ত সদস্য সদস্যাও। পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাই।তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।” এগরা সারদা শশিভূষণ কলেজের অধ্যক্ষ ড: দীপক কুমার তামিলি শোক প্রকাশ করে  জানান -“কলেজ তার এক যোগ্য অভিবাবককে হারাল। প্রতিটি  বিষয়ে তিনি শিক্ষা স্বার্থে গঠন মূলক পরামর্শ দিয়ে সভাপতি হিসেবে পাশে থাকতেন। ভাবতে পারছি না তিনি আজ নেই।” এনসিপি  দলের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রবোধ চন্দ্র সিনহা এবং রাজ্য কমিটির সদস্য সুকুমার রায় শোক প্রকাশ করে জানান -“এলাকা এক দক্ষ রাজনীতিক ও সমবায়ী’কে হারাল এর অভাব পূরণ হওয়ার নয়।” কংগ্রেস নেতা মানস মহাপত্র জানান -“সমরেশ বাবুর মৃত্যুতে সমবায় আন্দোলন এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রবহমান ধারার অপূরণীয় ক্ষতি হলো”

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *