
।।প্রতিবেদন ।।
১৯২০খ্রীষ্টাব্দের আজকের দিনে বাংলাদেশের মুন্সী জেলার বিক্রমপুরে জন্ম হাসির রাজা ভানু বন্দোপাধ্যায়ের। আসল নাম সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায়। বাবা জিতেন্দ্রনাথ ও মা সুনীতি দেবী। স্ত্রী গায়িকা নীলিমা দেবী,ছেলে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়, বাসবি ঘটক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়। পেশায় কৌতুকাভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পী।১৯৪৭এ ” জাগরণ” ছবিতে প্রথম অভিনয়, ১৯৪৯ এ প্রমোদ দাশগুপ্তের “যা হয় না” ছবিতে পরিচিতি এরপর “মন্ত্রমুগ্ধ”, “বরযাত্রী”, “পাশের বাড়ি,” “সাড়ে চুয়াত্তর”, “ওরা থাকে ওধারে”, প্রভৃতিতে ছবিতে অভিনয় ভানু বন্দোপাধ্যায়ের। “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” ছবিতে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় আজও গোমড়া মুখে হাসির সৃষ্টি করে। ভানুর নামে দুটি ছবি একটি “ভানু পেল লটারি” অপরটি “ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট।”জীবনে প্রায় ২৪৪টি বাংলা ছবিতে এবং দুটি হিন্দি ছবি “বন্দিশ”,ও “এক গাওকী কাহানী”তে অভিনয়। এ ছাড়াও সুশীল নাট্য কোম্পানির যাত্রাতে অভিনয় করেছেন তিনি। স্টার থিয়েটারে “একক দশক শতক” নাটকে অভিনয় করেছেন। মানুষ যখন ক্রমশ হাসতে ভুলে যাচ্ছে অথচ হাসির প্রয়োজনীয়তা অনুভব হচ্ছে -ভানু বন্দোপাধ্যায় অভিনীত সিনেমা গুলি তখন এক ঝলক মুক্ত হাওয়া। “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” আজও দেখছে ছেলেরা ।সেখানে নায়ক ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপূর্ব অবদান। যমরাজ কে শিক্ষা দিলেন নানা সংলাপের মধ্য দিয়ে ।আইন সংক্রান্ত নানা বিভ্রাট বুঝতে অসুবিধা হয়নি এইযে -শিল্পী ছিলেন ব্যক্তিগত জীবনে সমাজ সচেতন রাজনীতিক। “ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট ” ছবিতে দুই গোয়েন্দা ছদ্মবেশে।হঠাৎ জহর রায়ের চুল খুলে যায় ছারপোকার জ্বালায়,গোঁফ খুলে পড়ে ভানুর হাসিতে । “৮০তে আসিও না” ছবিতে সেই যে জলে ডুবে বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর হারানো যৌবন ফিরে পাবে। জীর্ণ কুকুরের নতুনভাবে সচেতন হওয়া, পুলিশের তাড়া খাওয়া -কত না বিদঘুটে মজার ব্যপার। “সাড়ে চুয়াত্তর “ছবিতে মাসিমা মালপোয়া খামু ,যেন আজও সবার কানে বাজে ।ডায়লগ স্ক্রিপ্টে না থাকলেও শিল্পী নিজেই ইম্প্রভাইজ করে বলে দিয়েছিলেন। “ভানু পেল লটারি” ছবিতে শিল্পীর উচ্ছ্বল প্রাঞ্জল ভাব নেই ।সে সবাইকে ভয় পায়। সম্পূর্ণ অন্যরূপ এক মহিমাময় শিল্পী কে খুঁজে পাই ।এই ছবির বিখ্যাত সেই গান “পুতুল নেবে গো পুতুল” শ্যামল মিত্রের গানে লিপ দিয়েছিলেন। “৮০তে আসিও না “ছবিতে গানে লিপ মান্নাদের “তুমি আকাশ এখন হতে যদি”, “ভ্রান্তিবিলাস” ছবিতে দুই ভৃত্য চিরঞ্জীব ও কিঙ্কর যমজ প্রভু ও ভৃত্য, উত্তম কুমার ও ভানু বন্দোপাধ্যায় কে এই বাংলা ছবির ইতিহাস ভুলতে পারে কি ? অজস্র কৌতুকে মোড়া নানা ঘটনা ভোলা যায় কি সিক্ত কৌতুকে সাবিত্রী ও সন্ধ্যা রায় কে ? “রাজকুমারী” ছায়া চবিতে সামান্য সময়ে ভানু বন্দোপাধ্যায় ও জহর রায়ের আবির্ভাব। প্রতিদ্বন্দ্বী । দাঁত কিড় মিড়, মুখভঙ্গি, বাচনভঙ্গির পৃথক স্টাইল। ছায়া দেবীর রাসভারী ব্যক্তিত্বের কাছে ওরা সুন্দর সাবলীল। “এন্টনি ফিরিঙ্গি “ছায়া ছবিতে কথায় কথায় ভুল ইংরেজি বলে মজা দিয়েছেন ।শিল্পীর এই মজাদার অভিনয় কি ভোলার ? ছায়া ছবির চেয়েও অধিক ভালোবাসতেন শিল্পী মঞ্চের অভিনয় কে, নাটক ছিল তার প্রাণ ।সন্ধান করতেন ভালো ভিলেন চরিত্র। জীবনে বহুবার আক্ষেপ করেছেন দর্শক হাসানোর জন্য গোপাল ভাঁড়ের মত তাকে ভানু ভাঁঁড় করা হয়েছিল ।জীবনের শেষ ছবি “শোরগোল” যা মুক্তি পায় ১৯৮৪তে। হাসির রাজা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসাধারণ সব হাসির রেকর্ড আজও জনপ্রিয়। শিল্পী অসাধারণ মজার চুটকি লিখতেন “সাত রং “পত্রিকায় তা প্রকাশিত হত।সবার সেরা কমেডিয়ান অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়’কে ছায়া ছবির জগতে প্রতিষ্ঠিত দিয়েছিলেন ভানু বন্দোপাধ্যায়’ই। পরিচালক সুবীর মুখার্জি’র “পাশের বাড়ি”ছবিতে নায়িকা চরিত্রে সুযোগ পেয়েছিলেন সেটা উদার শিল্পীর মহৎ প্রচেষ্টায়। এরপূর্বে মঞ্চের নাটক “নতুন ইহুদি” এর পরিচালক সলিল সেন। সব সংলাপ বাঙাল ভাষায় । সাবিত্রী কে নিয়ে শিল্পী এসে ছিলেন “উত্তর সারথী “র রিহার্সেল রুমে। মঞ্চে তখন শিল্পির পরিচিতি সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায় । বড় মনের মানুষরাই অন্যকে প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়, এক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না ভানু বন্দোপাধ্যায় ।১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা মার্চ এই শিল্পীর মৃত্যু কোলকাতায়।।
তথ্যসূত্র:১) প্রতিদিন জন্মদিন মৃত্যু দিন এবং :- বীরকুমার শী। ২) ইউকিপিডিয়া ৩) অভিনয়ে হৃদয় ছুঁয়ে প্রবন্ধঃ- দেবাশীষ গীর গোস্বামী।
স্মৃতিচারণয় : “এগরা প্রেসক্লাব,” “এগরা মহাকুমা বইমেলা”, “সংবাদপত্র জনতার কথা”, ও “দৈনিক আবেশ ভূমি”,র পক্ষে সম্পাদক -গৌরীশংকর মহাপাত্র।

