গৌরীশংকর মহাপাত্র : দৈনিক আবেশভূমি ডেস্ক :এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর। এগরা পৌরসভার প্রবেশ পথের পাশে প্রধান বিশ্রামাগারে হরিনঘাটা মিট ও মাদারডেয়ারীর পন্য বিপনন কেন্দ্রে করার প্রতিবাদে এগরা ত্রিকোণ পার্ক সংলগ্ন এগরা-মেদিনীপুর রাজ‍্যসড়ক পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল এগরা পুরনাগরিক কমিটি। কমিটির সদস্যরা বেশকিছুক্ষন পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালে রাজ‍্য সড়কে অবরুদ্ধ হয়।এগরা থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে অবরোধকারীদের তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্বে এগরা পুরনাগরিক কমিটির ডা: এন কে(নির্মল কুমার) প্রধান, জগদীশ সাউ, হরেন্দ্র নাথ মাইতি,অনুপ জানা,নিহার রঞ্জন খাটুয়া,শ‍্যামাপদ দীক্ষিত, অনুপ কুমার প্রধান প্রমুখ । উল্লেখ‍্য এগরা শহরের প্রাণকেন্দ্র ত্রিকোণ পার্কের সামনে অবস্থিত বিশ্রামাগারটি দীর্ঘদিন দুই মেদিনীপুর জেলার প্রত্যন্ত এলাকা সহ এগরা শহরের নিত্যযাত্রী, পথচারী,পরিযায়ী শ্রমিক এবং মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সহ বিভিন্ন মানুষজন ব্যবহার করে আসছেন। গ্রীষ্ম,বর্ষায় স্থানীয় সরকার সহ শহরের গৃহহীন মানুষ ও রাতের দূরপাল্লার বাস যাত্রীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল এটি।তবে বর্তমান পুর প্রশাসনের অনুমতিক্রমে এটিকে হরিণঘাটা বিক্রয় কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়।তাই অবিলম্বে হরিণঘাটা মাংস বক্রয় কেন্দ্রকে অন‍্যত্র সরিয়ে যতক্ষন না বিশ্রামাগারকে জনস্বার্থে মুক্তকরা হচ্ছে ততক্ষণ এই আন্দোলন চলবে।
আন্দোলন কারীদের পক্ষে জগদীশ সাউ বলেন- এটি যাতে এগরা শহরে ভালো বিশ্রামাগার,ওয়েটিং রুম হয় তার জন্য আন্দোলন।কারন সারা দিন হাজার হাজার মানুষ ও পরিযায়ী শ্রমিক আসে,তাঁরা দাঁড়ানো বা বসার জায়গা পায়না।এমন পরিস্থিতিতে বিশ্রামাগারটিকে সুন্দর না সাজিয়ে প্রশাসন হরিণঘাটা মাংস বিক্রয়কেন্দ্র খোলায় বিপত্তি। আমরা একাধিকবার এগরা পুর নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে পুরপ্রশাসক, মহকুমা শাসক,জেলা শাসক, সভাধিপতি, রাজ‍্য প্রাণীসম্পদ দপ্তর, সংশ্লিষ্ট সাংসদ প্রমুখের নিকট অনলাইনে ডেপুটেশন প্রদান করেও হেলদোল নেই প্রশাসনের। শহরের আরও অনেক স্থানে সরকারি অর্থে গড়ে ওঠা পটলাইকা বাজার, সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড ইত্যাদি স্থান থাকা সত্বেও বিশ্রামাগারটিকে বানিজ্যিক কেন্দ্রে রুপান্তর করার প্রতিবাদে এই পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ। অবিলম্বে হরিণঘাটা মিট’কে খালি করে বিশ্রামাগারে পরিণত করতে হবে। এত সত্বেও যদি না মানা হয় তবে পরবর্তী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন হবে।এবিষয়ে এগরা মহকুমা শাসক অরুণ দত্তকে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমি কয়েকদিন আগে মহকুমা শাসক হিসেবে কাছে যোগ দিয়েছি, বিষয়টি আমার কাছে নতুন। সমূহ বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার আশ্বাস

    দেন।পুরসভার প্রশাসক শঙ্কর বেরাকে জানতে চাইলে বলেন-বিশ্রামাগারটি দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় ছিল এবং অসামাজিক কাজকর্ম চলত। বেহাল থাকায় প্রাণী সম্পদ দফতরের পক্ষে এগরা পুরসভার কাছে হরিণঘাটা দুধ ও মাংস বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য একটি আবেদন আসে। এলাকার উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে বিশ্রামাগারের ঐ জায়গায় হরিণঘাটা দুধ ও মাংস বিক্রয় কেন্দ্র তৈরীতে দেওয়া হয়। তবে তিনি জানান বিশ্রামাগারটি’র আয়তন ৪৮০ বর্গ মিটার। ৩০০ বর্গমিটার হরিণঘাটা দুধ ও মাংস বিক্রয় কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে উনারা ৪৮০ বর্গমিটার পুরোটাই নিয়ে নেয়। জবরদখলের ১৮০ ফুট জায়গা পুরসভাকে ছেড়ে দিতে প্রাণীসম্পদ দফতরকে চিঠি করা হয়েছে। প্রাণীসম্পদ দপ্তর থেকে ১৮০ ফুট জায়গা পাওয়া গেলে পরবর্তী দিনে তা বিশ্রামাগারে পরিনত করা হবে।তবে এবিষয়

      সম্বন্ধে জানার জন্য জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস’কে ফোন করা হলে উনি ফোন তোলেন নি। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাসকে জানতে চাইলে তিনি অসুস্থতার কারণে তার প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

      Share

      Leave a Reply

      Your email address will not be published. Required fields are marked *