
গৌরীশংকর মহাপাত্র: দৈনিক আবেশভূমি ডেস্ক :এগরা কাঁথি:পূর্ব মেদিনীপুর।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রাক্তন যুগ্মসচিব, বিশিষ্ট সমাজসেবী, সাহিত্যিক,প্রাবন্ধিক ও জনহিতৈষী প্রশান্ত প্রামাণিক(৭৬) কোভিড অাক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন আজ সকাল প্রায় ৭টায়। কলিকাতার রুবি হাসপাতালে একাধিক শারীরিক অসুবিধে নিয়ে ভর্তি হন ৩০মে রবিবার। কয়েক মাস আগেই হাঁটুর অপারেশন করে বাড়ি ফেরেন। অত্যধিক রক্তচাপ ও সুগার সহ হার্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন। করোনার দুটি ভ্যাক্সিন নেওয়া সত্বেও শেষে করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। আজ তিনি পরিবার পরিজন ও চিকিৎসক দের সব চেষ্টা ব্যার্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। তিনি বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। তমলুক মহকুমার ব্যবর্তাহাটে ১৯৪৫ এ জন্ম হলেও কাঁথির উপশাসক হয়ে কর্মসূত্রে কাঁথি শহরকে আপন করে নিয়ে বাড়ীঘর তৈরী করে পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা হন। অত্যন্ত সৎ ,নিষ্ঠাবান ,অল্প ও স্পষ্টভাষী এই আমলা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে প্রথম বিডিও হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন, শেষে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসর নেন। চিত্র সাংবাদিকতার প্রবল আগ্ৰহে কাঁথি থেকে প্রকাশিত “দৈনিক চেতনা”, “তীরভূমি” ও সাহিত্য পত্রিকা “কালের চেতনা”য় প্রকাশিত বহু প্রবন্ধ ও নিবন্ধ আজও বহু পাঠকের মনের মনি কোঠায়। কোলকাতার “জ্ঞান বিচিত্রা” থেকে প্রকাশিত ৫০ টির বেশী বিজ্ঞান বিষয়ক বই পাঠকের সমাদৃত। ৫ টি বই এখনো প্রকাশের পথে। কাঁথির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার নাড়ির যোগ বললেই হয়। “কন্টাই পুণ্যশ্লোক বিদ্যাসাগর মূর্তি প্রতিষ্ঠা সমিতি”র সহ-সভাপতি, কাঁথির ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি, কাঁথি রোটারী ক্লাবের এই প্রাক্তন সভাপতির হাত ধরে বর্তমানের আধুনিক পরিষেবার সূত্রপাত, কৃষ্ণানন্দ দে ও প্রনব মাইতি দের সঙ্গে কাঁথি ক্লাব প্রঙ্গনে প্রথম বই মেলার সূত্র পাত্রের তিনি অন্য তম কারিগর,বর্তমান কাঁথি বইমেলার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, তাঁর প্রয়াণে অবিভক্ত কাঁথি মহকুমার সাহিত্য ক্ষেত্রে ইন্দ্রপতন বলা যায়।তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেন রাজ্য সরকারের মৎস্য মন্ত্রী অখিল গিরি, কাঁথি পৌরসভার প্রশাসকমন্ডলী র সদস্য মামুদ হোসেন ও সুপ্রকাশ গিরি, কন্টাই পুণ্যশ্লোক বিদ্যাসাগর মূর্তি প্রতিষ্ঠা সমিতির সম্পাদক অধ্যাপক অমলেন্দু বিকশ জানা, কাঁথি বইমেলার সম্পাদক ননীগোপাল বেরা, এগরা মহাকুমা বইমেলার কার্যকরী সভাপতি বীরকুমার শী,এগরা প্রেসক্লাবের সম্পাদক গৌরীশংকর মহাপাত্র প্রমুখ। সকলেই তাঁর আত্মার উদ্ধগতি কামনা করে সন্তপ্ত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানান। মৃত্যু কালে তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক জামাতাসহ অসংখ্য গুনমুদ্ধ। তার মৃত্যুতে কাঁথিতে শোকের ছায়া।
