
গৌরীশংঙ্কর মহাপাত্র:দৈনিক আবেশভূমি:মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম ও ঝাড়গ্ৰাম।তৃণমূল কংগ্রেসে প্রবীণ ও বর্ষীয়ান নেতৃত্বদের উপেক্ষার তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ। এবার চন্ডীপুর বিধান সভার ভগবানপুর-১ব্লকের বিভীষণপুর পঞ্চায়েতের ৪ দশকের পঞ্চায়েত সদস্য অসিত কুমার মন্ডল ৬৫ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে ৯বম বারের জন্য জয়ী হয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলেন। বরাবর এলাকার বাম বিরোধী মুখ হিসেবে পরিচিত রাজনীতিক। ৪বারের পঞ্চায়েত প্রধান ও ১ বারের উপ প্রধান অসিত কুমার মন্ডল এ বারের মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে বরাবরের ইমেজ রক্ষা করলেন। ১৯৮৪ সালে জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে হাতে খড়ি এই জনপ্রিয় রাজনীতিকের। ঐ বৎসর সাহসের সঙ্গে বিভীষণপুর পঞ্চায়েতের পূর্ব মাসুড়িয়া, দাঁরিকাপুর পশ্চিম বুথ থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে সিপিএমের দৌরদন্ড প্রতাপশালী পঞ্চায়েত প্রধান হরিপদ চক্রবর্তীকে হারিয়ে পঞ্চায়েত দখল করে জায়েন্ট কিলারের মর্যাদা নিয়ে প্রধান হন। সেই থেকে জনপ্রতিনিধিত্বে সাড়ে ৪ দশক পথচলা । ১৯৯৮ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম লগ্ন থেকেই দলে যুক্ত এবং তারপরও টান ৪ বার প্রধান ও ১ বার উপপ্রধান। সেই থেকে তিনি অখিল গিরির অনুগামী এবং অর্ধেন্দু মাইতি বিরোধী লবির বলে পরিচিত। সর্বোপরি ব্লকের এই অঞ্চলটি চন্ডীপুর বিধান সভায় যুক্ত হওয়ায় স্পষ্টভাষী ও দলের পূর্ণ সময়ের এই রাজনীতিক নতুন প্রজন্মের বিরাগ ভাজন হন।বিগত বোর্ডেও তিনি অঞ্চলের তাঙ্গুনিয়া সংসদ থেকে তৃণমূলের টিকিটের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য ।এবার নিজের গ্রাম শংকরপুর সংসদে নির্দলের বটগাছ প্রতীকে তৃণমূল প্রার্থী নিলয় সামন্তকে হারিয়ে (৬৫) ভোটে জয়ী হন।অসিত মন্ডলের প্রাপ্ত ভোট (৩৯৬), তৃণমূলের নীলয় সামন্ত(৯৪) এবং বিজেপির সীতারাণী দাস (৩৩৪)। অসিত বাবুকে হারাতে তার প্রিয়দল তৃণমূল কুনাল ঘোষ ও প্রাক্তন বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতিকে দিয়ে সভা করে।স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অপ্রিয় সত্যভাষী এই জাত সংগঠককে হারাতে ব্যর্থ তৃণমূল, বিনিময়ে তৃণমূল ঐ বুথে তৃতীয় শক্তি। সংসদের নির্বাচক গণ দেবতাদের অনেকের বক্তব্য শীর্ষ নেতৃত্ব পুরানো কর্মীদের মর্যাদা দেওয়ার কথা বললেও স্থানীয় নেতৃত্ব আই প্যাকের অজুহাত দেখিয়ে অসিত বাবুদের অবজ্ঞা করছে। এখন দলের অবস্থাটা সমাজ আর্ষিতে স্পষ্ট বুঝতে পারছে। অসিত বাবুকে হেয় করাটা স্থানীয়রা ভালোর চোখে নেয়নি তা ফলাফলে স্পষ্ট। এবার দেখার তার প্রিয়দল তৃণমূল তাকে দলে ফিরিয়ে তাকে কৈলিন্য দেয় কি না? দলের যুক্তি নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দিতে গিয়ে অসিত বাবুকে টিকিট দেওয়া যায়নি, আর দলে ফেরানোর ব্যপারে তেমন সিদ্ধান্তের সময় আসেনি।
