গৌরীশংঙ্কর মহাপাত্র :দৈনিক আবেশভূমি :মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম ও ঝাড়গ্ৰাম।দীর্ঘ রোগভোগের পর ১০ জুলাই সোমবার প্রয়াত হন পটাশপুর -২ এর আড়গোয়াল পঞ্চায়েতের জব্দা সমসপুর এলাকার সাহিত্য সংস্কৃতি উপাসক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সংগঠক, পরমেশ্বর শী।

                            জন্ম ১৯৩৮ এর২৮ শে অক্টোবর জব্দা গ্রামে। পিতা গোবিন্দ প্রসাদ ও মা গান্ধারী দেবী। ১৯৬৫ তে জব্দা বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠের সহ শিক্ষক হিসেবে যোগ দান, ১৯৯৮ তে অবসর গ্রহণ। তিনি আজীবন সাহিত্য সংস্কৃতির উপাসক ছিলেন। স্থানীয় সমস্ত সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে সভাপতি বা প্রধান অতিথির আসন ছিল তার জন্য নির্দিষ্ট। স্পষ্টভাষী ,ধূতি -চপ্পল সর্বস্ব ,  বিদ‍্যাসাগরীয় আদপকায়দায় শ্রদ্ধাশীল  এই ভাষা শিক্ষক এলাকায় আবৃত্তি, নাটক বা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভূমিকায় থাকতেন।
    মাটির আঁচল, সেমিকোলন, কালের চেতনা, জনতার কথা, অবকাশ প্রভৃতি পত্র পত্রিকায় তার বহু লেখা পাঠকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। “স্মৃতিসত্তা মাটি” ও “ধূসর গোধূলি” তাঁর লেখা দুটি গ্ৰন্থ পাঠকদের হৃদয় আলোড়িত করে। প্রয়াত পৃথ্বীশচন্দ্র দাস, ডা:নৃপেন্দ্রনাথ জানা, মৃত‍্যুঞ্জয় মাইতি, হরেকৃষ্ণ সাউ, ফণীভূষণ বেরা দের সঙ্গে “মালঞ্চ সংস্কৃতিক গোষ্ঠী”তে প্রথম থেকে যুক্ত থেকে গ্ৰামাঞ্চলে সুস্থ্য সাংস্কৃতিক আন্দোলন তৈরীতে সামিল ছিলেন। এগরা মহকুমা বইমেলা, পেনসনার্স ওয়েল ফেয়ার, অবকাশ,জব্দা খেয়ালী নাট‍্য সংস্থা, জব্দা সার্বজনীন রাস উৎসব কমিটি সহ বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত ছিলেন। বামপন্থীয় আস্থাশীল এই রাজনীতিকের সঙ্গে ডান পন্থীদের কখনো সম্পর্ক অবনতি হয় নি । তার প্রয়ানে গভীর শোক প্রকাশ করে সন্তপ্ত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানান তাঁর সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সহ-যোদ্ধা আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক সাহিত্যিক মন্মথনাথ দাস, পটাশপুর দর্পণের সম্পাদক সুমথ দাস, অধ্যাপক রঞ্জিত নায়ক, এগরা মহকুমা বই মেলা ও এগরা প্রেসক্লাবের সম্পাদক গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র, তার বিদ‍্যালয়ের সহকর্মী কল্যাণ কুমার মাইতি প্রমূখ। মন্মথবাবু শোক জ্ঞাপনে জানান তাঁর প্রয়াণে এলাকার সাহিত্য সংস্কৃতি জগতে অপূরণীয় ক্ষতি।

    Share

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *