গৌরীশংঙ্কর মহাপাত্র: দৈনিক আবেশভূমি মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম।তৃণমূলের প্রবীন রাজনীতিক পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ পটাশপুর-২ এর প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মৃনাল কান্তি দাস এবার তৃণমূলের জোড়া ফুলে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৪০ নং জেলা পরিষদ আসনে। দল যেখানে নতুন মুখ প্রার্থী পদে আনতে মরিয়া সে ক্ষেত্রে প্রবীন পরীক্ষিত এই নেতৃত্বে আস্থা ব‍্যাতিক্রমী বলা যায়।তাঁর এবারের নির্বাচন ক্ষেত্র ব্লকের পটাশপুর,খাড় ও পঁচেট গ্ৰাম পঞ্চায়েত। সেখানে গ্ৰাম পঞ্চায়েত সদস্য সংখ্যা ৬৯, পঞ্চায়েত সমিতি সদস্য ৯টি। প্রখ্যাত এই যাত্রা শিল্পী ও প্রাক্তন প্রাথমিক শিক্ষকের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ বাম জমানার সূচনা লগ্নে সংশোধিত নতুন পঞ্চায়েত আইনের গোড়ায়। ১৯৭৮ এর জাতীয় কংগ্রেসের টিকেটে তিনি প্রথম সদস্য হিসেবে জয়ী হন পটাশপুর পঞ্চায়েতের মতিরামপুর থেকে।১৯ ৮৩ তে দ্বিতীয় বার পটাশপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সদস্য। ১৯৮৮ থেকে তৎকালীন সিপি আই পঞ্চায়েত প্রধান সীতাংশু দাসের জমানার ইতি টেনে টানা ৫ বার পটাশপুর পঞ্চায়েতের প্রধান। সংরক্ষণের গেরোই ১বার উপপ্রধান। তৃণমূলের সূচনা থেকে তিনি আজ পর্যন্ত দলের অনুগত সৈনিক। জেলার কিংবদন্তী অপরাজেয় এই নির্বাচিত জন প্রতিনিধি ২০০৬ এ রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের হাত থেকে সেরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরস্কার নেওয়ার সৌভাগ্যবান জনপ্রতিনিধি। পরের বৎসর প্ল্যানিং কমিশনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর হাত থেকে সেরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরস্কার নেন ২০০৭সালে। ১৯৭৮ থেকে টানা ৪৫ বছরের জন প্রতিনিধিত্বে তিনি কখনো পঞ্চায়েত সদস্য, কখনো জেলা পরিষদ সদস্য হয়ে কর্মাধ‍্যক্ষ। শেষ ১০ বছর তিনি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ।  যদিও এর মধ্যে বিধান সভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার তার লক্ষ্য জনপ্রতিনিধিতে অর্ধশতাব্দী অতিক্র করা। এবারও তিনি জেতার ক্ষেত্রে ১০০% নিশ্চিত। যদিও তার কেন্দ্রে সপ্তমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।লড়াইর ময়দানে বিজেপির পদ্ম শিবিরের অমলেন্দু দাস, বাম শিবির থেকে কাস্তে হাতুড়ি চিহ্নে গোরাচাঁদ পাহাড়ী, নির্দল হয়ে বিদ্যালয় প্রতীকে দাঁড়িয়েছেন দীপাঞ্জন কর, জাতীয় কংগ্রেস শিবির থেকে হাত প্রতীকে লড়াই ময়দানে মৃনাল বাবুর অবিভক্ত কংগ্রেস দলের এক সময়ের সহযোদ্ধা ও গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ সেবাদল সদস্য ভার্গবেন্দ্র জানা। বাস প্রতীক নিয়ে নির্দলে লড়াইতে মিলন ব্যানার্জি, কম্পিউটার নিয়ে নির্দল প্রতিদ্বন্দ্বী সুনীল কুমার শীট।তবে জোড়া ফুলের প্রার্থী নিজের জয়ের ক্ষেত্রে ১০০শতাংশ নিশ্চিত। তবে জয়ের ব‍্যাবধান কত তা জনতে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে ১১জুলাই পর্যন্ত।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *