
নিজস্ব সংবাদদাতা, রামনগর : বৃহস্পতিবার রামনগরে একটি বেসরকারি সভাগৃহে আয়োজিত সভায় কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শিশির অধিকারী বলেন, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কোথাও তেমন ভোট প্রচার দেখা যাচ্ছে না।আমরা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২৫টি ব্লক ও ৫টি পুরসভা দাপিয়ে বেড়াচ্ছি।আমাদের লোকেরা মিটিং, মিছিল, পথসভা সবই করছে।

বুথ মিটিংও হচ্ছে।দেওয়াল লিখনও চলছে।” তিনি বিরোধী দল বিজেপির প্রসঙ্গে বলেন, “পদ্মের ঝড় আগে ছিল বলে মনে হচ্ছিল।কিন্তু এখন আর পদ্মের ঝড় নেই।চিৎকার-চেঁচামেচি করে মোদী, অমিত শাহ মিডিয়াকে নিয়ে ঝড় তোলার চেষ্টা করছে।এই ঝড় লোকে ‘চালাকি’ বলে মনে করছে।কেন্দ্রের মোদী সরকারের পাঁচ বছরের পারফরমেন্স, ধাপ্পা, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি, নাটক ও ঝড় ক্রমে স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে।প্রকৃত ঝড় তুফানে পরিণত হচ্ছে মোদীর বিরুদ্ধে।পাঁচ বছরে বাংলার প্রতি বঞ্চনা, প্রতারণা বিশেষ করে নওজোয়ান, বেকার যুবকদের চাকরিবাকরি না দেওয়া এবং কোনপ্রকার জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ না করা।শুধু ধাপ্পা, শুধু ধাপ্পা এতে হয় না।বিজেপিকে তাঁর কটাক্ষ, গোরুর গাড়ির হেডলাইট মাঝে মাঝে খারাপ হয়ে যায়, তখন খুলে ফেলে দিতে হয়।অতএব কে গেল কে এল তার জন্য তৃণমূল পার্টি এখন অত্যন্ত শক্তিশালী পার্টি।৯৮ সাল নেই, ২০০১, ২০০৪, ২০০৯ এখন আর নেই।২০১৪ ও আর নেই।একেবারে ২০১৮ পেরিয়ে উনিশ।সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা গত পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং তার আগে পর্যন্ত নির্বাচন পুরসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে সারদা, নারদা নিয়ে যে হাউলিং এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে যে তামাশা তৈরি করা একেবারে বুথ থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজ্য পর্যন্ত।তাকে কোর্টে নিয়ে যাওয়া এবং সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে তাদের মামলা প্রত্যাহার করেছে।এরপর বিরোধীদের নাকে ক্ষত দিয়ে তৃণমূলকে স্যালুট জানাতে হবে বলে মনে করি।” তিনি আরও বলেন, “কোর্ট আছে।আমরা কোর্টকে সম্মান জানাই।কোর্ট পরিষ্কার বলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী বলে কোন পদার্থ নেই।বাংলায় মোদী এসে মুখ্যমন্ত্রীকে উল্টোপাল্টা বলে গেছে।রাষ্ট্র নেতা হিসাবে মোদীকে মানায় না।বাংলার শিক্ষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি মোদীর জানা নেই।” তাঁর দাবি, ” পশ্চিমবঙ্গে আমরা বিয়াল্লিশে ৪২টি আসন পাব।শুধু তাই নয় অন্যান্য রাজ্যেও আমরা পাঁচ-সাতটা- দশটা আসন পেতে পারি।সেরকম একটা সম্ভাবনা রয়েছে।
আমরা মনে করি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারতবর্ষে আগামীদিনে সমস্ত আঞ্চলিক দলকে নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ তৈরি হবে।এই ফ্রন্ট ভারবর্ষের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।” এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, “বিজেপিকে ভয় পেয়েছে তৃণমূল।তাই কেউ কেউ পাগলের প্রলাপ বলছে।তবে এই লোকসভা ভোটে ধরাশায়ী হবে তৃণমূল।” সভায় ছিলেন রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি, রামনগর-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি নিতাই চরণ সার, রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শম্পা মহাপাত্র, ব্লকের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ কৌশিক বারিক, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা যুব তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি, জেলা পরিষদ সদস্য অশোক বিশাল, দেপাল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনুপ মাইতি, ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি বিশ্বরঞ্জন মিশ্র, সংগঠনের রামনগর চক্রের সভাপতি রাজকুমার রাজ, সম্পাদক মাণিক মাইতি, সংগঠনের দিঘা চক্রের নেতা সুরেশচন্দ্র পাত্র ও শান্তনু কুন্ডু প্রমুখ।এ দিনের সভায় রামনগর ও দিঘা চক্রের কয়েকশো প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা সামিল হন।

