গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র ও রাজকুমার মহাপাত্র, দৈনিক আবেশভূমি:উৎকল রীতি মেনে সোনার ঝাড়ুতে জগন্নাথদেবের মন্দির থেকে রথ পর্যন্ত ঝাড়ু দিয়ে, জল ছড়িয়ে, নারকেল ফাটিয়ে চতুর্দশ বর্ষের বালিঘাই জগন্নাথ জিউ সেবা সমিতির রথোৎসবের সাড়ম্বর সূচনা হয় শুক্রবার। রথের রশ্মিতে টান দিয়ে রথের চাকা

    গড়িয়ে রথযাত্রার শুভ সূচনা করেন সেবা সমিতির কর্ণধার একালের দানবীর আশিস ধাওয়া। মাঙ্গলিক কর্মকাণ্ডে জল ছড়িয়ে সহযোগিতা করেন উদ্ধোধকের সহধর্মিনী তনুশ্রী ধাওয়া।সকাল থেকে মাঙ্গলিক পূজার্চনা সম্পাদন করেন কুলিয়াচক সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ড: দেবীপদ রথ’সহ তাঁর পূজক মন্ডলী। জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রার রথ মন্দির ছাড়িয়ে বালিঘাই বাজার হয়ে শুঁটকি বাজার থেকে বালিঘাই হাই স্কুলের সামনের রাস্তা দিয়ে ত্রিকোন পার্ক ঘুরে বিডিও অফিসের সামনে রাস্তা ধরে বারোয়ারি তলায় মাসির বাড়ি পৌঁছায়।বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় কীর্তনীয়া দল, ঢাকি, ব্যাঞ্জো, মুখোশধারী বিভিন্ন জীবজন্তু, জীবন্ত মনীষীদের চলমান অভিপ্রদর্শনী রথ দেখতে আসা মানুষেরা আনন্দ উপভোগ করে। শোভাযাত্রা সেবা সমিতির অধীন ৮২ টি ক্লাব থেকে আসা সদস্য সহসা সহ হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ
      নেয়।
      সেবা সমিতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি অম্বিকের মহাপাত্র, কার্যকরী সভাপতি অহীন্দ্র কুমার রায়,যুগ্ম সহ সম্পাদক বিরোজাকান্ত প্রধান, এগরা -২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি প্রকাশ রায় চৌধুরী, বিবেকানন্দ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান ধনঞ্জয় সিংহ, আশিস বাবু মা আলো ধাওয়া ও ছেলে সোহেল ধাওয়া, বৌমা পিয়ালী ধাওয়া,দুই জাতীয় শিক্ষক ড প্রণব পট্টনায়ক ও অমিয় কুমার ভৌমিক,কমিটির সদস্য প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার প্রধান, তপন কুমার মন্ডল, শিশির কুমার মাইতি ,তপন কুমার সামন্ত, সোমনাথ প্রধান,মানগোবিন্দ জানা প্রমুখ।পূর্ণর্থীদের ভিড়
        সামলাতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। সম্পাদক আশীষ বাবু সংবাদ মাধ্যমের এক প্রশ্নের উত্তরে জানান ১৬ দিনব্যাপী রথের মেলায় ১৫ দিনব্যাপী চিত্তাকর্ষক সৌখিন যাত্রা প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আজ তার ৫ম রজনী। রথ গুন্ডিচা মাসির মন্দিরে প্রবেশের পরই আজকের যাত্রাপালা
        নন্দীগ্রাম  দিশারী নাট্য সংস্থার ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায়ের সামাজিক পালা “শান্তি তুমি কোথায়” ? মঞ্চস্থ হবে। মেলায় প্রত্যহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সংর্বধনার আয়োজন রয়েছে। আমরা মনে করি সমাজে এই সমস্ত মানুষেরও প্রয়োজনীতা রয়েছে। প্রত্যহ বৈকালিক অনুষ্ঠানে সম্বর্ধনার আয়োজন। শনিবার “বৃহন্নলা” দের, রবিবার ‘মাধ্যমিক ৯০ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৮৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে ব্লকের কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের, এবং গুণীজনদের সংবর্ধনা। ঐদিন ট্রাই সাইকেল বিতরণ, স্কুল ও ক্লাবগুলিকে আর্থিক সহায়তা দান। সোমবার ‘মুখ বধির”দের, মঙ্গলবার “কাকমারা” দের সম্বর্ধনা।বৃহস্পতিবার ক ও খ দুটি গ্রুপের রথ প্রতিযোগিতা এবং বিদ্যুৎ কর্মীদের সম্বর্ধনা জ্ঞাপন।পাশাপাশি থাকছে স্বাস্থ্য শিবির,ব্লাড সুগার ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় । তিনি জানান ব্লকের সাহাপুর পার্শতর্তু দুটি মৌজায় মানুষের চেষ্টায় সেবা সমিতিকে গতকাল জায়গা দান করেছে যাতে দ্রুত অনাথ  ও বৃদ্ধাশ্রম  চালু করা যায়। ঐ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাজ আমরা দ্রুত শুরু করব।৮ ই জুলাই সমস্ত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী শেষে বিচিত্রা অনুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে চতুর্দশ বর্ষের এই রথ মেলা ও সৌখিন যাত্রা
          প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটবে। সমগ্ৰ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় যুগ্ম সহ সম্পাদক  জন্মেজয় প্রধান।

            Share

            Leave a Reply

            Your email address will not be published. Required fields are marked *