গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র, দৈনিক আবেশভূমি, ৫সেপ্টেম্বর:এগরা শহরে রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে সরকারের উন্নয়নে সামিল হয়ে, সরকারী আধিকারিকদের অনুমতি প্রাপ্ত পুরাতন বিশ্রামাগারে হরিণঘাটা ও মাদার ডায়েরি সরকার অনুমোদিত দোকানটি জেলা পরিষদের নিজস্ব জায়গায় স্থানান্তরিত করে পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন শ্রীমা এন্টারপ্রাইজ।এক্ষেত্রে সমাজ মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এন্টারপ্রাইজের মালিক সায়ন্তন সাউ।২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন পুরপ্রধান শংকর বেরা বিশ্রামাগারের একটি অংশে শ্রীমা এন্টারপ্রাইজের হরিণঘাটা মাদার ডেয়ারি সামগ্রী বিক্রির জন্য অনুমতি দেয়। তারপরই স্থানীয় মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠিত প্রতিবাদ করে। এদিকে রাস্তা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সরকারি জায়গা অবরোধ মুক্ত করতে প্রশাসন মাঠে নামলেও এই বিশ্রামাগারের সামনে কাজ থমকে যায়। সরকারি জায়গা অবরোধ মুক্ত করতে গিয়ে পৌরসভা যাবার মুখে সিপিএমের পার্টি অফিস ও ভাঙ্গা হয়। তাদের অফিস ভাঙ্গা হলেও পার্শ্ববর্তী তৃণমূলের অফিস এবং বিশ্রামাগার দখল মুক্ত না করায় দিন দিন ক্ষোভের আঁচ বাড়তে থাকে। বাধ্য হয়ে ১ সেপ্টেম্বর-২৫ সোমবার সমাধান লক্ষ‍্যে একটি উচ্চ পর্যায়ে প্রশাসনিক আলোচনা হয় মহকুমা শাসকের টেবিলে।ঐ টেবিলে ২ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ,পৌরপ্রধান, কাউন্সিলার এবং ফোনযোগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সেক্রেটারি জেলা পরিষদ আলোচনায় অংশ নেন বলে জানা সায়ন্তন। বৃহস্পতিবার ৪ সেপ্টেম্বর সায়ন্তন সাহু এক লিখিত দরখাস্তে মহকুমা শাসককে জানান এবং এর প্রতিলিপি পৌরপ্রধানকে দিয়ে তাতে বলেন “২৩ জেলভুক্ত কশবা এগরা মৌজার ১৮৭৬ দাগের .৯৭০ জায়গায় যা ব্যবসা করার জন্য জেলা পরিষদ অনুমতি দিয়েছেন।পৌরপ্রধান মহকুমা শাসককে দেওয়া নিজের স্বীকারোক্তি মত রিসিভ করে এক ঘণ্টার মধ্যে অনুমতি দেবেন। কিন্তু তিনি তা এখনো অনুমতি প্রদান করেননি। আমি কথা দিয়েছিলাম অনুমতির দিন হইতে ১৫ দিনের মধ্যে ওল্ড প্যাসেঞ্জার শেড থেকে শ্রীমা এন্টারপ্রাইজ দোকানটির স্থান পরিবর্তন করে নেবো। এবং ওল্ড প্যাসেঞ্জার সেটটি সরকার বাহাদুরের অনুকূলে এসডিও সাহেবের কথামতো ছেড়ে দেবো। তাই আপনার কাছে আবেদন সত্তর সকলের আলোচনা ও কথামতো সুব্যবস্থা গ্রহণ করলে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।'”এক্ষেত্রে তিনি সকলের সহযোগিতা চান। এগরা পুরপ্রধান স্বপন নায়ককে এই বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন- “বিতর্কিত ঐ দাগের ৯ শতক জায়গা ২০২০ সালে জেলা পরিষদ এগরা পৌরসভাকে ডেভেলা পমেন্টের জন্য দেয় । ঐ জায়গার ৮.৫ ডেসমিল পৌরসভাকে আর হাফ ডেসমিল দেয় গোপাল জানা ও গৌরাঙ্গ জানা দের। জেলা পরিষদ যতক্ষণ না চিঠি দিয়ে পৌরসভার লিজ বাতিল করছেন ততক্ষণ আমাদের করনীয় কিছু নেই।এ নিয়ে আর কি বলবো জায়গাটা তো জেলা পরিষদের। ওই নির্দিষ্ট জায়গাটি পার্টি অফিসের উত্তর পূর্বাংশে। তাতে বেআইনি অফিস ঘিরে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। অপরদিকে বোর্ড অফ কাউন্সিলরের মিটিংয়ে ১৪ জন কাউন্সিলারই ওল্ড প্যাসেঞ্জার শেড মুক্ত করার ক্ষেত্রে ঐক্যমত হয়েছেন। সেই মিটিংয়ে সায়ন্তন সাউর বাবা জয়ন্ত সাউও উপস্থিত ছিলেন। রাস্তা সম্প্রসারণের স্বার্থে তার সহজ উপায় পাশেই এগরা স্কুলে যাওয়ার ডানদিকে সায়ন্তন সাউ ও তার বাবা জয়ন্ত সাউদের তিন তিন ছয় হাজার বর্গফুটের ফুট নিজস্ব বাড়ি। আগে ঐ বাড়িটিতে হাতীর হোটেল বলে পরিচিত;তিনি ওখানেই ব্যবসা হানান্তর করে পরিষেবা দিতে পারেন।” সায়ন্তন সাউর দরখাস্ত রিসিভের প্রশ্ন বলেন-” দরখাস্ত দিলে কি সব হয়ে যায় না কী ? “

    Share

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *