প্রদীপ কুমার মাইতি , রামনগর: দেশে কৃষক আত্মহত্যার বহু ঘটনা ঘটলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সে নিয়ে মুখ খোলেন না কেন, শনিবার রামনগর-২ ব্লকের মৈতনা গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঠপুল বাজার ময়দানে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শিশির অধিকারীর সমর্থনে সভা করতে এসে প্রশ্ন তুললেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সভাধিপতি দেবব্রত দাস।এ দিন ওই সভাতেই চাষিদের ব্যাপারে মোদী সরকারের উদাসীনতার অভিযোগে সরব হন তিনি।সেই সঙ্গে এ রাজ্যে তৃণমূলের সরকার চাষিদের সুবিধায় কী কী প্রকল্প এনেছে, তুলে ধরেন সেই খতিয়ান।

এ দিন সভাধিপতি দেবব্রত দাস জানান, এ রাজ্যে মাটি পরীক্ষা করে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।রাজ্য সরকার কৃষিজমির সব খাজনা মকুব করে দিয়েছে।মিউটেশন ফি মকুব করা হয়েছে।শস্যবিমার জন্য চাষিদের টাকা দিতে হয় না।সে বাবদ ন’শো কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য।এর পরেই তাঁর প্রশ্ন, “দেশে বারো হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।এক বারও মোদী তা নিয়ে মুখ খোলেননি।ভোটের আগে ওরা বলছে, দু’একর জমি পিছু টাকা দেবে।এত দিন দাওনি কেন?” বাস্তবে ওই টাকা দেওয়া হবে না দাবি করে তিনি বলেন, “দু’একর জমিই তো সবার নেই।কারও পাঁচ কাঠা, কারও সাত কাঠা।বাজেটও বরাদ্দ ধরেনি।এটা করবে না।” তাঁদের সরকার চাষিদের সাহা্য্যে কী ভাবে এগিয়ে এসেছে, সেই খতিয়ান দিয়ে দেবব্রত জানান, দালালেরা যাতে সুযোগ না পায়, সে জন্য সরকার চেক দিয়ে ধান কিনছে।
‘
কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে যার এক একর জমি আছে তাকে চাষ করার জন্য বছরে দু’দফায় পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে।প্রান্তিক চাষিরাও সাহায্য পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এক হাজারের কম টাকা কাউকে দেওয়া হবে না।” চাষের পাশাপাশি দেবব্রত এ দিন জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন।এ দিনের সভায় কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সৌমেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ধর্মের নামে, সেনাদের নামে ভোট চাইছেন, দাঙ্গা করে ভোট চাইছেন, ওদের কি ভোট দেওয়া উচিৎ আপনারাই বলুন!” মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও এদিন সরব হন সৌমেন্দু।তিনি বলেন, “এই বাংলা নব জাগরণের পথ দেখিয়েছে, স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ দেখিয়েছে।এই নন্দীগ্রাম, নেতাই সিঙ্গুরের বাংলা।এই বাংলায় যখন ব্রিটিশরা বিভাজন করতে চেয়েছিল, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সকলের হাতে রাখি বেঁধে বলেছিলেন, বাংলার জল, বাংলাএ বায়ু, বাংলার ফল- পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান।এই মাটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি।পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মাটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি।” কর্মীদের তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, তুমি আমাকে ৪২ এ ৪২ দাও, আমি তোমাদের ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল ভারত দেব।এদের কন্যাশ্রী দেওয়ার সময় টাকা নেই।কিন্তু দিল্লীতে ১২০০ কোটি ব্যয়ে পার্টি অফিস করার টাকা আছে।জাতীয় সড়কের জন্য টাকা নেই, কিন্তু গুজরাতে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মূর্তি বানানোর জন্য টাকা আছে।ভোট প্রচারে ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করছে বিজ্ঞাপনে। ২০১৪ সালে যে গরু মোদীকে দুধ দিয়েছিল, সেই গরুই এবার গোবর লেপে দেবে।” এ দিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি, উত্তর কাঁথির বিধায়িকা বনশ্রী মাইতি, রামনগর-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি অরুণ কুমার দাস, জেলা যুব তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি, মৈতনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান তমালতরু দাস মহাপাত্র, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ওয়াসিম রহমান, জেলার কো-মেন্টর হাবিবুর রহমান, পিনাকী দিণ্ডা-সহ অন্য নেতারা।