
শুভম সিং ও সঞ্জীব আচার্য্য,হেঁড়িয়া :-রবিবার ছুটির দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের হেঁড়িয়া ও নিমতৌড়িতে জোড়া সভা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ।কাঁথি লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী শিশির অধিকারীর

সমর্থনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ” ধর্মনিরপেক্ষ ভারত গড়তে ৪২-এ বিয়াল্লিশ আসন এনে দিন আপনারা । পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হল শহীদদের জেলা। এই জেলায় মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ তৈরি হয়েছে। মহিষাদলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে । চণ্ডীপুর , নন্দ্রীগ্ৰাম , খেজুরীতে পানীয়জল প্রকল্পের ব্যবস্থা হয়েছে,বন্যা নিয়ন্ত্রনের জন্য ৭০০ কোটি খরচ হয়েছে,বন্যা নিয়ন্ত্রণ আবাস তৈরি হয়েছে,নতুন রূপে সেজে উঠেছে দিঘা , শঙ্করপুর , মন্দারমনি , তাজপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকা।

বিজেপির এখনকার সকল কর্মীরা হল সিপিএমের কর্মী । তারা এখন সিপিএমের পতাকা ছেড়ে বিজেপি তে যোগ দিয়েছে ।এখনও ভুলিনি নন্দীগ্রামের সেই সন্ত্রাসবাদের কথা। একদিন নন্দীগ্রাম , খেজুরি, এগরা, ভগবানপুর , হেঁড়িয়া এলাকায় ঢুকতে পারিনি। যাতে ওই সব এলাকায় না ঠুকতে পারি তার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল রাস্তাঘাট ।
মোদীজী নোটবন্দি করে দেশের সাধারণ মানুষের দুরবস্থা টেনে এনেছে । বারানসী তে মিটিং করে বিজেপি কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছে।প্রতিনিয়ত বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে মোদীজী , তিনি কি আবার দেশ সামলাবেন। আগামীদিনে বাংলাই শেষ কথা বলবে।জাতি , ভুলে সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা ভেবে চলতে হবে । রাজ্যে কন্যাশ্রী , কৃষকবন্ধু, স্বাস্থ্যসাথী , যুবশ্রী সহ বহু প্রকল্প চালু করেছি।
আমরা বাংলায় মোদীবাবুকে গোল্লা দেব।আগে দিল্লী সামলাক মোদীজী তারপর বাংলা সামলাবেন । হেঁড়িয়াতে সভা শেষ করে তমলুকের কুমারগঞ্জে প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর সমর্থনে জনসভায় ভাষণদেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। হেঁড়িয়ার ছাড়াও তমলুকে গিয়ে ফের বিজেপিকে তীব্র আক্রমন করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন , বাংলাকে মোদীজী কোনোদিন ও কেড়ে নিতে পারবে না । বাংলা আমাদের ছিল আমাদের থাকবে। ‘সব কিছুর আমুল পরিবর্তন হয়েছে।কোলাঘাটের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র আধুনিক হচ্ছে, কোলাঘাট , নিমতৌড়ি , চন্ডিপুর ,ভগবানপুর,এগরা,
পটাশপুর,কাঁথি,দিঘা,রামনগর কোথাও কিন্তু উন্নয়নের তেমন বাকি নেই,আগামীতে আরও উন্নয়ন হবে।যা হয়েছে তাতেই অনেক । দিঘা যেতাম , গিয়ে দেখতাম সমুদ্রের জায়গাটা নোংরা রয়েছে কিন্তু এখন দিঘা সেই আগের মতো নেই।এত মিষ্টি দেখতে হয়েছে তাই মানুষ বারংবার দিঘাতে ঘুরতে যেতে চায়।দিঘা ডেভলাপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান শিশির বাবু তিনি কাজ টা খুব যত্ন সহকারে করেন।হলদিয়ার ডেভলাপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান শুভেন্দু রয়েছে তারা কাজ গুলো করে।হলদিয়ার ডেভলাপমেন্ট অথরিটি তে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে এবং প্রচুর কর্ম সংস্থান হয়েছে , আগামী দিনেও হবে।এখানকার ছেলে মেয়েরা খুব ভালো পড়াশুনোয়।আমি এই জেলার মানুষের কাছে নতুন করে বার বার এক কথা বলবো না।মেদিনীপুর পূর্ব , পশ্চিম,ঝাড়গ্রাম জেলা হোক আপনারা জন্ম দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস কে’।

মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্যে বিজেপিকে এক হাত নেন।তিনি বলেন
‘আমি অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি কিন্তু এরকম ভয়ানক প্রধানমন্ত্রী দেখিনি। বিজেপি বিপদজনক দল,নরেন্দ্রমোদি আমরা তোমার চাকর নই, আমাদের এখানে২৩.৬ শতাংশ তপসিলি ভাই বোনেরা আছে,তাদের জন্য আমি গর্বিত,আমার ৫.৯শতাংশ আদিবাসী ভাই বোনেরা আছে,আমার ৩০ শতাংশ মুসলিম ভাই বোনেরা আছে এছাড়াও আমাদের সাধারণ ভাই বোনেরাও রয়েছে।যদি নরেন্দ্র মোদি আমায় বলে ৪০ শতাংশ মানুষকে মেরে তাড়িয়ে দিন আমার পক্ষে সম্ভব নয়।তোমার বাড়িতে দুটো ছেলে একটা ছেলে কে খেতে দেবে আর আর একটা ছেলেকে খেতে দেবে না?এটা কি কখনো মা পারে ?পারে না।এটা মনে রাখতে হবে আমরা যখন চেয়ারে বসে কাজ করি এটা জনগণের চেয়ার।বাবাসাহেব আম্বেদকর তৈরি করে দিয়েছে, যেদিন থেকে দেশ স্বাধীন হয়েছেআমাদের সকলকে মিলে একসাথে চলতে হবে, এটা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র।যারা হিন্দু আছে তারা তো সুখেই রয়েছে,আমি লোকনাথেও যাই ,সনাতন ধর্মেও যাই, রামকৃষ্ণ মিশনেওই যাই ,তারাপীঠেও যাই ,কি অসুবিধা আছে।এখানে যেতে কেউ কখনো বাঁধা দেয় না।বিজেপি আগে জন্মেছে না মা দুর্গা আগে জন্মেছে,শিব আগে জন্মেছে না নরেন্দ্র মোদি আগে জন্মেছে?আমাদের ধর্ম শেখাচ্ছে?আমাদের ধর্ম অনেক মহান।আপনারা কি চান চৌকিদার হোক দেশের প্রধানমন্ত্রী?যদি না চান তাহলে চৌকিদার কে বিদায় দিতে হবে।আর না- আর না, বিজেপিকে চাই না।দিল্লিতে আর না ,নরেন্দ্র মোদিকে আর না।দাঙ্গাবাজ,চোর,ডাকাত,চৌকিদার দের চাই না।এটা মা মাটি মানুষের বাংলা।নরেন্দ্র মোদি মা মাটি মানুষকে গালাগালি দিচ্ছ দাও।মনে রেখো জীবনে মা কে সম্মান দাও নি তাই মানুষের থেকে বেশি কি আসা রাখবে।তাই ১২ মে সকাল সকাল ভোট দিন শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখুন’।
সভায় দুই মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিবহন ও পরিবেশ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্বাস্থ্য, সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি দেবব্রত দাস ও সেখ সুপিয়ান,বিধায়ক রনজিৎ মন্ডল, বনশ্রী মাইতি, সমরেশ দাস, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় কর প্রমুখ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনায় বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতি।
