দৈনিক আবেশভূমি,সঞ্জীব আচার্য্য,পটাশপুর, পূর্ব মেদিনীপুর-পটাশপুর -২এর পঁচেট পঞ্চায়েতের প্রাচীন রাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন হয় মঙ্গলবার রাসপূর্ণিমার রাতে। রাজ পরিবার সূত্রে জানা যায়, পঁচেট গড়ের রাজবাড়ির  বয়স আনুমানিক ৫০০-৫৫০ বছরের ও পুরোনো।

    ওড়িশার আটগড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন কালামুরারী দাসমহাপাত্র। প্রথম জীবনে তিনি সঙ্গীত ভালোবাসার টানেই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সেতার বাজাতেন। একবার পুরীর রাজা তাঁর সেতার শুনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে জগন্নাথ দেবের তুলসী সেবার দায়িত্ব দেন। এছাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকায় তুলসী গাছের চাষ ও তাঁর থাকার জন্য জায়গাও দেন।

      পরবর্তীকালেপুরীর মহারাজার অনুমোদনে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে বাংলা ও ওড়িশার বিভিন্ন বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেন। তাম্রলিপ্ত ও অন্যান্য বন্দর সফলভাবে পরিচালনার জন্য মোঘল সম্রাটরা তাঁকে পটাশপুর এলাকার দায়িত্ব বা জায়গাও প্রদান করেন।

        পটাশপুর থেকে ওড়িশার জলেশ্বর পর্যন্ত এই বিশাল এলাকার দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রায় পাঁচশো বছর আগে খাড়ে প্রথম জমিদার বাড়ি তৈরি করেন। সেখানে পরিখা ও করেন। হঠাৎ তিনি একদিন খবর পান পঁচেটে একটি ঢিপির উপর একজনের গরু এসে দুধ দিয়ে চলে যায়।

          একদিনরাজা নিজে জান দেখতে এবং ওখানে তিনি জঙ্গল পরিষ্কার করে ঢিপি কাটতে শুরু করেন। ওই ঢিপির ভিতর থেকে শিবলিঙ্গ ঢ়উদ্ধার হয়। ওই ঢিপি খননের সময় শিবলিঙ্গে চোট লাগে কোদালে, তারই প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তার চারদিকে আরও চারটি শিবমন্দির তৈরি করেন।

            মন্দিরেরনাম হয় পঞ্চেশ্বর শিব মন্দির। ধীরে ধীরে পঞ্চেশ্বর থেকে এই জায়গার নাম হয় পঁচেট।
            পরবর্তী সময়ে খাড় থেকে তিনি পঁচেট গ্রামে এসে নতুন জমিদার বাড়ি তৈরি করেন। যা এখনও রাজবাড়ি নামেই বিখ্যাত।

              জমিদারবাড়ির চারদিক দু’টি পরিখা, পঞ্চেশ্বর শিব মন্দির ছাড়াও নারায়ণজিউ মন্দির, কিশোরাই মন্দির, ঝুলন মন্দির, শীতলা মাতার মন্দির, রাসমঞ্চ, রাস মেলার মাঠ, বাগান, গড়ের ভিতরে ১৫টি জলাশয় সহ অন্যান্য প্রাচীন স্থাপত্য রয়েছে। এছাড়া ওড়িশার স্থাপত্যরীতির আদলে জমিদার বাড়ি ও গানের সংগ্রহশালাও অনেক সমৃদ্ধ। পঁচেটগড় মূলত মন্দিরময় স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন।

                পঁচেটগড়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্ম ও ইতিহাসবিদদের কাছে অমূল্য সম্পদ। সমাজ ও সংস্কৃতির নানা তথ্য এখান থেকে পাওয়া যায়। এখানকার বিভিন্ন মন্দির, রাজবাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গা মিলিয়ে প্রায় ২৫ একর জায়গাকে রাজ্য সরকার  গত বছর হেরিটেজ ঘোষণা করেছেন।

                  এতেরাজ পরিবারের সদস্যরা খুবই আনন্দিত। রাজ পরিবারের সদস্যরা চায় এই পঁচেটগড়কে আবার নতুন করে সাজিয়ে তোলা হোক। নতুন মিউজিয়াম, পর্যটকদের থাকার জায়গা, সহ অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি হলে এই জায়গাকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র  হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

                    প্রতিবৎসরের মতোই এবৎসরও রাসপূর্ণিমায় মেলার উদ্বোধন হয়। এদের উদ্বোধনীসভা হয়না , এই বিশাল মেলার পরিচালনায় রাজ পরিবার। দশদিন ধরে এই মেলা চলবে।

                    Share

                    Leave a Reply

                    Your email address will not be published. Required fields are marked *