
নিজস্ব সংবাদদাতা: তমলুক :পূর্ব মেদিনীপুর : পূর্ব মেদিনীপুর জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও জেলা সমাজ কল্যাণ দপ্তরের পরিচালনায় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে জেলা পরিষদের সেমিনার হলে শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের শুভ সূচনা হয় আজ বৃহস্পতিবার।

চাচাজী জহরলাল নেহেরুর জন্ম দিনে ১৪নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর অবধি জেলাতে শিশু অধিকার সপ্তাহ উদযাপিত হবে। ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জেনেভায় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে শিশু অধিকার সনদ ঘোষিত হয়। যেখানে শিশুদের অধিকার গুলি বিশ্ব স্বীকৃতি দেওয়ায় শিশু সুরক্ষার নতুন দিগন্ত শুরু হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে উদযাপিত হচ্ছে এই সপ্তাহ।

জনগণের মধ্যে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক আইন, অধিকার, বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি ও শিশুর বিকাশ সমাজ উন্নতির প্রধান সূচক, সে বিষয়ে গণসচেতনতা গড়াই এই উদযাপনের লক্ষ্য। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি শেখ সুফিয়ান,সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ) সুদীপ সরকার, জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির চেয়ারপাসন ড: দিলীপ কুমার দাস, জেলা আইনি সহায়তা কেন্দ্রের সম্পাদক সুমন ঘোষ, জেলা প্রকল্প আধিকারিক (আই সি ডি এস )মিঠু আচার্য্য, জেলা সমাজ কল্যাণ আধিকারিক পূর্ণেন্দু পৌরাণিক, তমলুক পৌরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ সেন, জেলা পরিষদের নারী ও শিশু কল্যাণ কর্মাধ্যক্ষা সুমিত্রা পাত্র প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে এ বছর কয়কটি বিভাগের উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে মোট ১০ জন শিশু সহ ছটি শিশু সুরক্ষা কমিটিকে সম্মানিত করা হয়।শিলা দাস তমলুক ও চম্পা খাতুন কাঁথি নিজেরা নিজের বিয়ে বন্ধ করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্মানিত হলেন।এগরা -২ ব্লক কে বিশেষ পুরষ্কার দেওয়া হয় শিশু সুরক্ষায় বিশেষ কাজ করার জন্য। এছাড়া পটাশপুর -১ , নন্দীগ্রাম – ২ এবং তমলুক বিএল সিপিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।গ্রামীণ স্তরে এগরা -২এর বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতকে, ভাজা চাউলি নাট বল্টু ভিএল সিপিসি কে পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হয় এই অনুষ্ঠানে।

বিবেকানন্দ পঞ্চায়েত প্রধান রাজনারায়ন মান্না পঞ্চায়েত এলাকার একটি বিশেষ মামলায় হাইকোর্টে ব্যাস্ত থাকায় এবং উপ প্রধান পম্পা খাটুয়া সংসদ সভায় আটকে যাওয়ায় পঞ্চায়েতের হয়ে অঞ্চল সচিব শিবানী পয়ড়্যা সম্মাননা গ্ৰহন করেন।অনুষ্ঠানে জেলাস্থিত তিনজন হোমের আবাসিক মৌসুমী গিরি ,দীপক মন্ডল ও সায়নী মাইতি এরাও সম্মানিত হলেন। ঝুঁকিপূর্ণ পারিবারিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ নিয়ে সকলের সঙ্গে স্বনির্ভর হতে সমর্থ হওয়ায় প্রিয়াঙ্কা মাল নামে এক দৃষ্টিহীনকে অসাধারণ প্রতিভার জন্য সম্মানিত করা হয়।
