
গৌরীশংকর মহাপাত্রঃপ্রতিবেদনঃ আজ খ্যাতনামা চলচ্চিত্র ও মঞ্চাভিনেতা বিকাশ রায়ের জন্মদিন। ১৯১৬ এর ১৬ই মে আজকের দিনটিতে কলকাতার ভবানীপুরে বিকাশ রায়ের জন্ম। মৃত্যু ১৯৮৭’র ১৬ই এপ্রিল। বাবা যুগলকিশোর ছিলেন চিড়িয়াখানার কর্মচারী। ১১বৎসর বয়সে তাঁর মাতৃবিয়োগ। ২২ বৎসর বয়সে কমলার সঙ্গে তাঁঁর পারিবারিক জীবন শুরু ও দুই ছেলের জনক।
ভবানীপুর মিত্র ইন্সটিটিউশন থেকে মেট্রিকুলেশন , বি এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজে ও পরে এল এল বি পাশ করেন। প্রেসিডেন্সি’তে থাকা কালে সাহিত্য তাঁঁর সম্পাদিত পত্রিকা ‘বেদুইন’ ।তাঁর রচিত গ্ৰন্থ ‘মনে পড়ে’ ‘আমি’ ‘প্রসঙ্গ অভিনয়’ ইত্যাদি।

যে গুলির জন্য তিনি বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএফ জে এ)থেকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মানে সম্মানিত তা হল – ১৯৬৪তে ‘উত্তর ফাল্গুনী’,১৯৬৭তে ‘কাঁচ কাটা হীরে’,১৯৬৮তে ‘প্রস্তর স্বাক্ষর’ ফিল্ম। আবার ১৯৪২এর আগষ্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরী’ ৪২’ নাটকে ক্রূঢ় অফিসার মেজর ত্রিবেদীর ভূমিকায়
অভিনয় করে ক্ষিপ্ত দর্শকের ছোঁড়া জুতো’কে তিনি তুলে নিয়ে বলেছিলেন এ ‘আমার স্বার্থক অভিনয়ের শ্রেষ্ঠ সম্মান’।
প্রদীপের নীচে অন্ধকারের মত জীবনে বহু বইতে দক্ষ ব্যারিস্টারের ভূমিকায় অভিনয় করলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি ওকালতি’তে তেমন প্রসার জমাতে পারেননি। যৌবনে ওকালতি ছেড়ে চলে আসেন সিভিল ডিফেন্সের হেড ক্লার্কে, সেখান থেকে ৮০টাকার মাস মাইনে’তে রেডিও ঘোষকের ভূমিকায়। শেষে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরামর্শে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ যা তাঁর জীবনের সব ব্যর্থতাকে ছাপিয়ে প্রতিষ্ঠিত চিত্রাভিনেতা বিকাশ রায়ে পরিনত করে।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সুমিত্রা মুখার্জী, মহানায়ক উত্তম কুমার, মহানায়িকা সুপ্রিয়া দেবী, ছবি বিশ্বাস, পাহাড়ী সান্যাল, ছায়া দেবী, দিলীপ মুখার্জী, অজিতেশ বন্দোপাধ্যায়, জহর রায় প্রমুখ প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা অভিনেত্রীর সঙ্গে তার অভিনয়।
সাহিত্যিক দেবশংকর মুখোপাধ্যায়ের মতে “নিজেকে নিয়ে মজা করতে তিনি ভালবাসতেন ,সবেতে তিনি ছিলেন ১০০”,ইনিই বিকাশ রায়।
