
গৌরীশংকর মহাপাত্র : এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর:পটাশপুর-১এর অমর্ষি -২পঞ্চায়েতের বাড়শঙ্কর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণে কম ও নিম্নমানের রড ব্যবহারে কাজের অভিযোগ ওঠে। ছাদে ৭০ বস্তা সিমেন্টের ঢালাই হওয়ার পর গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করে। কন্ডাকটর অসঙ্গতির জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। কিন্তু ঢালাই হয়ে যাওয়া ৭০ বস্তা সিমেন্টের কাজ ভাঙ্গায় আপত্তি সত্বেও আবার নুতন তৈরির ব্যবস্থা করতে হচ্ছে ঠিকাদারকে ।আপাতত ঢালাই কাজ স্থগিত।

এ বিষয়ে পটাশপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তাপস মাজী’কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভি ই সি র সিদ্ধান্ত মত প্রধান শিক্ষক শচীন বাবু পঞ্চায়েত সমিতিতে টেন্ডারের আবেদন জানান। পঞ্চায়েত সমিতি সেই মত ‘ই- টেন্ডার করে, কাজের দায়িত্ব পায় কন্ডাকটর নিতাই আদক। নির্মাণের শেষ মুহূর্তে ছাদ দিতে গিয়ে স্থানীয় বিজেপির নেতৃত্বের ঝামেলার শিকার হন ঠিকাদার । ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নির্মাণ কমিটির সিডিউল মেনে কাজ হচ্ছে কিনা তদারকি করে বুঝে নেওয়া, অসঙ্গতি থাকলে শুধরে নেওয়ার দায়িত্ব তার।যদি সিডিউল মেনে কাজ হয়নি তিনি কেন ঢালাই এর আগে আপত্তি করলেন না ? তিনি আর ও বলেন আমার কানে কথাটি আসার পর আমি প্রধান শিক্ষককে ডেকে বিষয়’টি জানতে চাই। প্রধান শিক্ষক জানান স্থানীয় কয়েক জনের জন্য এমনটি ঘটছে। আমি বলেছি যারা অহেতুক ঝামেলা করছে লিখিত অভিযোগ পেলে পঞ্চায়েত সমিতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। রাত্রি পর্যন্ত অভিযোগের কোন খবর নেই।
তিনি এও বলেন আমার কাছে খবর ওখানকার বিজেপি নেতৃত্ব ঠিকাদারের কাছে আর্থিক দাবি করে। ঠিকাদার সিডিউল মত কাজ করতে রাজি হয় কিন্তু কাউকে টাকা দিতে রাজি হয় নি প্রথম থেকে। অপরপক্ষে প্রধান শিক্ষক ও বিজেপি সমর্থক। তিনি ও ঠিকাদারের কাছে টাকার দাবি করেন। প্রধান শিক্ষক এবং বিজেপি নেতৃত্ব দুজনের আর্থিক দাবির কাছে ঠিকাদার জেরবার।
এবিষয়ে যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সেই বিজেপি নেতৃত্ব দেবম পালকে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার বিষয়টি অবান্তর, বাধা দিয়েছে গ্ৰাম বাসী সেখানে দলের প্রসঙ্গ আসে কি করে? যদি কাজে অসঙ্গতি নেই বা সিডিউল বর্হিভূত কাজ নয় ; তাহলে ঠিকাদার কেন নির্মাণ ভেঙে কাজ করতে স্বীকার করলেন ? তিনি কেন আইনে যাচ্ছেন না ? নির্মাণ কমিটি ও তাপসবাবু কেন ঠিকাদার কে গার্ড করছেন? নির্মাণ কমিটির সম্পাদক তথা প্রধান শিক্ষক কেন ঢালাইর আগে বাধা দিয়ে অসঙ্গতি সুধরালেন না ? এই প্রশ্নের উত্তরে দেবম বাবু জানান প্রধান শিক্ষক বরাবর বলেছেন তিনি নির্মাণ বিষয় বোঝেন না ,বরাবর অঞ্চলের এস এ ই’কে দেখতে বলেছেন। এ বিষয়ে এস এ ই ও ঠিকাদার কে প্রথম থেকে আড়াল করছেন। গ্ৰাম বাসীদের অভিযোগের সময় এস এ ই নিজেকে এড়িয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। এখন গ্ৰাম বাসীদের কাছে প্রতিশ্রুতি মত ভাইব্রেশন মেশিন এনে হয়ে যাওয়া নির্মাণ ভাঙ্গাছে ঠিকাদার আপাতত ঢালাইর কাজ এখন স্থগিত। এ বিষয়ে পটাশপুর-১এর বিডিও সুভাষ ঘোষকে জানতে চাইলে তিনি জানান ঐ বিদ্যালয়ের নির্মাণ সমস্যা হয়েছিল জানি তবে সমাধান হয়ে গেছে। এই নির্মাণের টাকা আমাদের হেডে আসে নি ,আমরা ই-টেন্ডার করেছি মাত্র।
এত বস্তা সিমেন্টের তৈরী নির্মাণ ভাঙ্গা নিয়ে হৈচৈ ব্লক এলাকা জুড়ে। এক শ্রেণীর ঠিকাদারের অভিযোগ টাকা খাওয়া খাই নিয়ে এভাবে চলতে থাকলে ঠিকাদারেরা আগামী দিনে কাজ ধরবে না।
