গৌরীশংকর মহাপাত্র :এগরা কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর: করোনা ও আমফান সুপার সাক্লোন পরবর্তী পুনর্গঠনে মমতা সরকার যে ইতবাচক ভূমিকা পালন করছেন তা এক কথায় নজীর বিহীন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াস’কে খাটো করার নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। রাজ্যের প্রত‍্যেক বিধান সভায় সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা সঠিক পরিসংখ্যান সহ তুলে ধরার জন্য ৫-১০ই জুন সাংবাদিক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত তৃণমূল কংগ্রেসের। আজ ৬ই জুন শনিবার ভগবানপুর বিধানসভা ক্ষেত্রের মুগবেড়িয়া কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকারের লকডাউণ ঘোষণানার হটকারিতার সমালোচনা করে বিধায়ক অর্দ্ধেন্দু মাইতি। তিনি বলেন ২-৪ দিন সময় দিলে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে পারত তাদের জীবন এত দুর্বিষহ হত না,এত সংক্রমণ ঠেকানো যেত । পথে নানা দুর্ঘটনায় প্রায় ৮০ জনের প্রাণহানি হত না। তাদের চরম দুর্দশায় কেন্দ্রীয় সরকার যখন নীরব দর্শক তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্পে নগদে ১০০০টাকা দেওযা, তাদের জন্য কূপনে রেশন ,১০০ দিনের কাজের ব‍্যবস্থাকরে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। করোণা মোকাবিলায় ভগবানপুর বিধান সভা ক্ষেত্রের স্কুল গুলি সহ ২৫০ টি কোয়ারেনন্টাইন সেন্টারে ৩০০০ পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান কোয়ারেনন্টাইন সেন্টার চন্ডীপুর এবং চিকিৎসা কেন্দ্র বড়মা হাসপাতালে ১০০% পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে,ফল স্বরুপ আক্রান্ত দের অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। 

আমফান ঝড়ে গৃহহীন ৯ জেলার ৫ লক্ষ পরিবার ২০ হাজার টাকা ইতিমধ্যে পেয়ে গেছেন। এম জি এন আর ই জি এস এর মাধ্যমে আরো ২৮ হাজার করে টাকা পাবেন। এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ১০ লক্ষ মানুষ। কৃষি ক্ষেত্রে ২৩.৩ লক্ষ কৃষককে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা সরকারের। পঃবঃ সরকার এ পর্যন্ত ত্রাণে খরচ করেছে ৬২৫০ কোটি টাকা। রাজ্যে ক্ষতি হওয়া ১ লক্ষ কোটির মধ্যে কেন্দ্র দিয়েছে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা। রাজ্য সরকার ৯০% মানুষের জন্য বিনামূল্যে রেশনে ব্যবস্থা করেছে, আগামী ছমাস ৫ কেজি করে খাদ্য শস্য বরাদ্দ। রেশন ব্যবস্থায় সচ্ছতা আনতে মুখ্যমন্ত্রী ও খাদ্য মন্ত্রীর যৌথ প্রয়াসে ৭৬২ জন ডিলালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভগবানপুর বিধান সভা ক্ষেত্রে ব্লক ও অঞ্চল সভাপতি ও অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি লকডাউনে বিতরণ করেছেন অসহায় ১০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী,৫ হাজারের বেশি লোককে রান্না খাবার, ২৫০০ পরিবারে শাম্পু,সাবান,স্যানিটাইজার । ঘূর্ণিঝড় আমফানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২০ হাজার মানুষকে। বিতরণ করা হয়েছে ৭৫০০কে শুকনো খাবার প্যাকেট , ৪ হাজার ত্রিপল প্রায় এক হাজার এন বি আর এফ কিট। এই সকল কাজে সহযোগিতা করেছে ৫৬ টি ক্লাব, পুলিশ ও প্রশাসন ।

বিজেপির অপপ্রচার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে এমন আত্ন বিশ্বাস নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য মানব পড়ুয়া,ভগবানপুর-২ ব্লক সভাপতি কাজল বর্মন, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রাধারাণী খাটুয়া, অমিত কুমার দাস, অশ্বিনী কুমার খাটুয়া, জেলা বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ অনুরাধা নন্দ গোস্মামী, দলের ভগবানপুর-১ সভাপতি মদন মোহন পাএ, যুবনেতা রবীন মন্ডল,দিব্যেন্দু মাইতি, ভগবানপুর-১ এর দুই কর্মাধ্যক্ষ অজিত পন্ডা ও দেবশঙ্কর চন্দ প্রমুখ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *