প্রতিবেদক: গৌরীশংকর মহাপাত্র

আজ টি এন শেষণের জন্মদিন। ১৯৩২এর ১৫ ই জুন আজকের দিনে তামিলনাড়ু অধুনা মাদ্রাজের পালঘাটে ছয় ভাই বোনের কনিষ্ঠ তথা দেশের প্রাক্তন  নির্বাচন কমিশনার টি এন শেষণের জন্ম। বাবা জেলা আদালতের আইনজীবী। শেষণের ডাক নাম ছিল আ্যল শেষণ। প্রকৃত নাম তিরুনেল্লাই নারায়ণ আয়ার শেষণ। কেউ কেউ মজা করে বলতেন টাইট নাট শেষণ।      স্ত্রী জয় লক্ষী শেষণ।

 শিক্ষা বাসেল ইভানজেলিশাল মিশান উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টার মিডিয়েট। মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্মাতক। ১৯৫০-৫২ পড়াশোনার পর মাদ্রাজ ক্রিস্টিয়ান কলেজে তিন বছর অধ্যাপনা। তারপর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ১৯৫৩ তে আই পি এস পরীক্ষায় সাফল্য ও যোগদান। ১৯৫৪তে আই এ এস এ প্রথম স্থান। কর্মজীবনে বহু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর কৃতিত্বের সঙ্গে সামলে ছেন। ১৯৮৮ তে দেশের প্রতিরক্ষা সচিব, ১৯৮৯ তে ক্যাবিনেট সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য। ১৯৯০ থেকে ৯৬ পর্যন্ত দেশের ১০ম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।এই পদে থাকাকালীন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বহু সংস্কার। আজকের দিনে ছবিসহ পরিচয় পত্র চালুর তিনিই স্রষ্টা। শাসক দলের ইশারায় চলা এই সাংবিধানিক সংস্থাটিকে প্রকৃত অর্থে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন করে তোলার কাজ সেশানের হাত ধরেই শুরু , তার একের পর এক সংস্কার দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছিল। নির্বাচনে ভোট কেনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রচার প্রদর্শন ও শোরগোল সমাবেশ নিষিদ্ধ করণ, প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় স্লোগান না দিয়ে দেওয়াল ও ভবনগুলির পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করান,নির্বাচনী ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা প্রয়োগ , জনসম্পদের অবৈধ ব্যবহার রোধে উদ্যোগ  গ্ৰহন, নির্বাচনকালে মদবিক্রয়  ও লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নেন, নির্বাচন ক্ষেত্রে সচিত্র পরিচয় পত্র ব‍্যবহার বাধ্যতামূলক করা তাঁর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। দেশের প্রশাসনিক মহলে তার এই সময়কাল মাইলফলক হয়ে থাকছে। কর্মজীবনে তিনি নির্বাচন কমিশন এম এস গিল পরবর্তী। নির্বাচন সংস্কার করতে গিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ‍্যমন্ত্রী জয়ললিতার রোষানলে পড়ে ও থেমে থাকেন নি। স্বাধীন ভাবে চলতে গিয়ে একাধিক বার বিভিন্ন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদেও ইস্তফা দিয়েছেন। কর্মজীবনে শক্ত ও সোজা মেরুদন্ড ওয়ালা এই আমলাকে রসিকতা করে সকলে টাইট নাট শেষণ বলে বলতেন। কখনো  তিনি প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর, পি ভি নরসিমা রাও, অটল বিহারি বাজপেয়ি,কখোনো এইচ ডি দেবগৌড়া মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করেছেন।১৯৯৭তে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও নীতিগতভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন । দক্ষ এই প্রশাসক দুর্নীতির বিরুদ্ধে একনিষ্ঠ যোদ্বা ।১৯৯৬ তে ‘ম্যাগসেসে’ পুরস্কারে ভূষিত হন। সহজ সরল খোলামেলা আক্রমণাত্মক কথাবার্তার জন্য মানুষের অন্তরে শেষণ থাকবেন চির দিন। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলি The Degineretion of India, TN Seshan With Sanjoy Hazarika,A Hart Full of Burden, ২০১৯এর১১নভেম্বর চেন্নাইতে ৮৮বৎসরে বার্ধক্য জনিত রোগ ভোগের পর তাঁর মৃত্যু।

আজকের দিনে তাঁকে স্মরণ করি।

তথ্য সূত্র: ১)প্রতি দিন জন্ম দিন মৃত দিন এবং- বীরকুমার শী

২) উইপিডিয়া

    Share

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *