
।।প্রতিবেদক:গৌরীশংকর মহাপাত্র।।
১৯৫৯এর ৩০শে জুন বাংলা থিয়েটারের পথিকৃৎ অভিনেতা পরিচালক নাট্যকার ও ডিজাইনার নাট্যাচার্য শিশিরকুমার ভাদুড়ী আজ মৃত্যু দিন। জন্ম-১অক্টোবর১৮৮৯, জন্মস্থান মেদিনীপুর। হাওড়া জেলার রামরাজাতলা পৈত্রিক নিবাস। ইংরেজি সাহিত্যে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে পড়াশোনা ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাসের পর অধ্যাপনায় এগিয়ে কর্মজীবন শুরু ।পাশাপাশি চলেছিল সৌখিন যাত্রাভিনয়, পরে ‘ম্যাডনি ‘থিয়েটারে যোগ দান পেশাদার অভিনেতা রূপে। ১৯২১এ “আলমগীর” নাটক অভিনয় সূত্রে নাট্যপ্রেমীদের চিত্ত জয়। এর পর “ম্যাডনি” কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতানৈক্য হওয়ায় সরে গিয়ে অভিনেতা ও পরিচালক রূপে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ। এই সময়ে তার সৃষ্টি “আঁধারে আলো”ও “চন্দ্রনাথ”। ১৯২২এ তিনি পুরো সময়ের মঞ্চ অভিনেতা হওয়ার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। ১৯২৩এ আবার মঞ্চাভিনয়ে ফিরে আসা। এই বছর নিজে “সীতা” নাটকে রামচন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করে বাংলা নাট্যজগতে এক যুগান্তকারী আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় বহু নাটকে অভিনয় করে প্রভূত যশের অধিকারী হন ।বহু নির্বাক চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, অভিনয় ছাড়া দীর্ঘকাল রবীন্দ্রভারতী একাডেমীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিনয়ে সফল হলেও নাট্য ব্যবসায় সফল হননি তিনি ।অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিলেও প্রেসাই তার সব ছিল না, অভিনয় শিল্প তার জীবনে পেশা নেশা এক হয়ে গেছিল তিনি ছিলেন। গিরিশ ঘোষের পরে তিনি নাট্যমঞ্চে বাস্তববাদ ও প্রকৃতিবাদের পরিচয় দেন। অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে তার সমান দক্ষতা। তিনি অভিনয় করেছেন “চাণক্য ” নাটকে চাণক্যের ভূমিকায়,” টকিজ অফ টকিজে”অধ্যাপক দ্বিগম্বর মজুমদার, “সীতা” নাটকে রামচন্দ্র,” পল্লী সমাজ”এ রমেশচরিত্রে, “বিচারক” বইতে ওরফে দ্যা জাজ, “অন্ধরে আলো”তে সত্যেন্দ্র, কমলে কামিনী” তে একাদশীর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক চিও জয় করেন। ইংরেজি এবং প্রাচীন গ্রীক সাহিত্য সংস্কৃতির সমন্ব ছিল তার মঞ্চনয় কৌশলে। অভিনয়শিল্পের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকার ১৯৫৯খ্রীষ্টাব্দে “পদ্মভূষণ” সম্মান জানান,যদিও তিনি এই সম্মান প্রত্যাক্ষান করে ছিলেন। শিশিরকুমার ভাদুড়ির অভিনয় বৃত্তি গ্রহণ করায় পরবর্তীকালে বহু শিক্ষিত যুবক অভিনয় কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন নি।
তথ্য সূত্র:১) প্রতিদিন জন্মদিন মৃত্যুদিন এবং :বীরকুমার শী, ২) ইউকিপিডিয়া
