
গৌরীশংকর মহাপাত্র:এগরা কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর। করোনা আতঙ্ক দিন দিন গ্ৰাস করছে শহর থেকে গ্ৰামকে। এই ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব জেলার এক বিধায়ক এর পর এবার সংক্রমিত হলেন দলের যুব কার্যকরী সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি। শনিবার বিধায়ক সমরেশ দাসের সংক্রনের খবর নজরে আসে।শনিবারই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাঁশকুড়া বড়মা হাসপাতালে। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৎপরতায় বিধায়কে নিয়ে যাওয়া হয় বেলেঘাটা আইডির ২ নম্বর কেবিনে। বিভিন্ন সময় সমরেশ বাবুর সঙ্গে সভা করেছেন সুপ্রকাশ বাবু,রবিবার সুপ্রকাশবাবু কাঁথি হাসপাতালে তার সোয়াব পরীক্ষার জন্য জমা দেন। রবিবার জেলা যুব কার্যকরী সভাপতি তথা রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরির ছেলে সুপ্রকাশ বাবুর সোওয়াব পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে, যদিও পরিবারের বাকিদের রিপোর্ট নেগেটিভ। কিন্তু সক্রমনের পরিমাণ স্বল্প মাত্রা হওয়ায় এবং তেমন উপসর্গ না থাকায় স্বাস্থ্য দপ্তর তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যদের ও হোমকোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা প্রশাসনের । রবিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিনে গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা২২৭৪। এই নিয়ে রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২,৪৮৭। স্বাভাবিক ভাবেই দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় কপালে ভাঁজ প্রশাসনের। প্রতিদিন কতজন রোগীর পরীক্ষা হচ্ছে এবং কত জনের রিপোর্ট পজিটিভ আছে তাতেই স্পষ্ট সংক্রমণের হার। বৃহস্পতিবার এই সংক্রমণের হার ছিল১২-৮%, শুক্রবার দাঁড়ায় ১৪-৩% ,শনিবার ১৬-৩% রবিবার হয়১৬-৯%। এদিকে আজ সোমবার থেকে কাঁথি পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড এবং এগরা পৌরসভার ১৪টি ওয়ার্ড কন্টেনমেন্ট জোনে এনেছে জেলা প্রশাসন। রবিবার বিকেল পাঁচটা থেকে কাঁথি পুরসভার এলাকায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া আর সব কিছু আগামী রবিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকছে বলে প্রচার করে লকডাউন কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।এগরা মহকুমা শাসক অপ্রতীম ঘোষ জানান সোমবার থেকে৩১শে জুলাই পর্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সামগ্রী ছাড়া বাজার হাট বন্ধ থাকছে। সপ্তাহের মঙ্গলবার, শুক্রবার এবং রবিবার তিনটি দিন মাছ, আনাজ,মাছ ও মাংস এবং ভুষিমাল সামগ্রী কেনার জন্য খোলা থাকবে। জরুরী পরিষেবার ক্ষেত্র হাসপাতাল, পৌর প্রশাসনিক কার্যালয় ও মহাকুমা কার্যালয় খোলা থাকবে।
