
গৌরীশংকর মহাপাত্র: এগরা কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর। শুক্রবার পাঁশকুড়া বড় মা হাসপাতালে মারা গেলেন চৌরঙ্গীর আদি জেরক্স ব্যবসায়ী গৌতম কুমার জানা (৬০)। এতদিন শহরে বিক্ষিপ্তভাবে আক্রান্ত হলেও করোনায় মৃত্যু এই প্রথম। পাঁশকুড়া হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল বৃহস্পতিবার। ২৪ ঘণ্টা ও চিকিৎসার সুযোগ মেলেনি, শুক্রবার তার মৃত্যুর খবর আসে। কাঁথি পৌরসভা১০ নম্বর ওয়ার্ডে তার বাড়ি ,ছেলে ও স্ত্রী বর্তমান। কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হওয়ার পর কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে তার লালারস পরীক্ষার জন্য সংগ্ৰহ করা হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর বৃহস্পতিবার তাকে ভর্তি করা হয়েছিল বড়মা হাসপাতালে। শুক্রবার সকালে কাঁথি পৌরসভা ও দমকল বিভাগের কর্মীরা এই ব্যবসায়ীর দোকান ও বাড়ি স্যানিটাইজ করে। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর দিলীপ মাইতি বলেন করোনা আবহের মধ্যে গৌতম’বাবু বাইরে কোথাও যান নি, তবে বেশ কয়েকদিন ধরে ভুগছিলেন। আনলক পিরিয়ডে গৌতম বাবু দোকানে বসতেন, সম্ভবত সেখানে কোনভাবে করোণা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিনে জানা যায় রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত ২২১৬। এ দিন সব থেকে বেশি ২০০৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।২৪ ঘন্টায় ১৮৭৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, আর মারা গেছেন ৩৫ জন। এ পর্যন্ত মোটআক্রান্ত- ৫৩৯৭৩জন,মৃত-১২৯০ জন, এর মধ্যে অবশ্য ১০৯৫জনের শরীরের অন্যান্য রোগ ছিল।এদিন জেলাওয়ারি যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে কলকাতায়- সংক্রমণ ৬৯৯,উত্তর-২৪ পরগনা ৫৬৭,পূর্ব মেদিনীপুর-৭৪। রাজ্যে মৃত্যু-৩৫ ,পূর্ব মেদিনীপুরে-১, কলকাতা-১৬, জলপাই- গুড়ি, হাওড়া, দক্ষিণ২৪ পরগনায়-৩ জন করে -৯জন,কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ ও হুগলিতে-১জন করে মোট ৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মেদিনীপুরে নতুন আক্রান্ত- ৭৪ জন, কাঁথিতে এক মহিলাসহ ৪জনের পজিটিভ এসেছে, কাঁথি সুপার মার্কেটের সব্জি ব্যাবসায়ী সংগঠনের নেতা সংক্রমিত হয়ে বড়মা’তে চিকিৎসাধীন, তাঁর স্ত্রীর করোনা পজেটিভ বলে রিপোর্ট, মোট-১৩ জনের লালা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল, বৃহস্পতিবার-১০ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। শুক্রবার ৬নম্বর ওয়ার্ডে ৪৮ বছরের এক যুবক ও তার ৮৫ বৎসরের বৃদ্ধ বাবার রিপোর্ট পজিটিভ। ঐ যুবক মোটর সাইকেল শোরুমে কাজ করতেন বলে জানা গেছে । এদের কাঁথির সঞ্জীবন করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চালতি’র এক সবজি ব্যবসায়ীর স্ত্রী-কন্যা করোনা সংক্রমিত। সবজি ব্যবসায়ী আগেই বড়মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে ভগবানপুর -১এর মহম্মদপুর-১ পঞ্চায়েতের উত্তর নিমকবাড়ের জানা পরিবারের ৮ বৎসরের এক শিশু, উত্তরবাড় গ্রামের মণ্ডল ও মাইতি পরিবারের ২জন মোট -৩ জন আক্রান্ত। মহম্মদপুর -১পঞ্চায়েত প্রধান নন্দিতা মন্ডল’কে জানতে চাইলে তিনি জানান। কলকাতার একটি গেঞ্জি কারখানায় কাজ করতো উত্তর নিমকবাড় গ্ৰামের প্রথম আক্রান্ত বেরা পরিবারের২১ বৎসরের এক যুবক। কয়েকদিন আগে থেকেই সে বড়মা’য় চিকিৎসাধীন। গেঞ্জি কারখানায় কাজ করতেন এলাকার ১৮ জন, এদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।২২শে জুলাই ১৮জনের মধ্যে ১৪জনের লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হয়, এদের ১শিশু সহ ৩জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে শুক্রবার। গেঞ্জি কারখানায় যারা কাজ করতেন সেই পরিযায়ী’রা গ্ৰামের যে মাঠে ঘোরাঘুরি, খেলা ধূলো করত সেই মাঠে সদ্য আক্রান্ত ৮বৎসরের শিশুটি খেলা ধূলো করত, তা ছাড়া প্রথম আক্রান্ত নিমকবাড়ের বেরা’দের বাড়ির পাশের বাড়ির এই আক্রান্ত শিশু। একই কথা স্বীকার করেন সমাজসেবী মানস কুমার মন্ডল ও।দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে উদ্বিগ্ন প্রশাসনও।
