গৌরীশংকর মহাপাত্র:এগরা কাঁথি : পূর্ব মেদিনীপুর:                                                   ২৯শে জুলাই  পটাশপুর -২এর খাড় হাইস্কুল পন্ডিত বিদ্যাসাগরের ১৩০ তম প্রয়ান দিবসে তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে প্রধান শিক্ষক কমল কুমার পন্ডার মাল‍্যদানের মাধ্যদিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে যথাযথ পালিত হয়।একই সঙ্গে শহীদ ক্ষুদিরামের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন সহ শিক্ষক উত্তম কুমার পাত্র।

    করোনার অতিমারি প্রতিরোধে লক ডাউনের মধ‍্যেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপস্থিত ছিলেন বিদ‍্যালয়ের সহ শিক্ষিকা মঞ্জু মুনিয়ন ,পার্শ্বশিক্ষক পার্থ দাস মহাপাত্র,   কেদারনাথ মাইতি প্রমূখ, শিক্ষা কর্মী মুক্তিপদ মালি, সুকুমার পন্ডা প্রমূখ সহ মাধ্যমিক উত্তীর্ন কতিপয় ছাত্র ছাত্রী।প্রধান শিক্ষক মাল‍্যদানের পর ঈশ্বরচন্দ্র সম্পর্কে স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের উদ‍্যেশ‍্যে বলেন-ঈশ্বরচন্দ্র ভারতবর্ষের সমাজ জীবনে আধুনিক জীবনবোধের প্রাণ-প্রদীপ। দেশ যখন ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, পশ্চাৎপদতা, কুপমন্ডুকতায় আবদ্ধ সেই সময়ই বিদ্যাসাগর আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোকে জীবনবোধকে প্রদীপ্ত করার অসম সাহসী কাজ শুরু করেছিলেন।তিনি ছিলেন ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎদের অন্যতম।তিনি ধর্মীয় চিন্তামুক্ত মানবতাবাদের বলিষ্ঠ প্রচারকেই কেবল পাথেয় করেছিলেন তা নয়, জীবনে অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি তার এই বোধকে জাগ্ৰত রেখেছিলেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ।সমাজের সর্বস্তরের সর্বক্ষেত্রে প্রকৃত শিক্ষা বিস্তারের প্রচেষ্টা ছিল তাঁর কাজের সামগ্রিক সমাজ সংস্কারের প্রবেশদ্বার। গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ বিজ্ঞানভিত্তিক ও সার্বজনীন শিক্ষার আধুনিকতম ধারণা তারই অবদান। নারী-জীবনের অসহনীয় যন্ত্রণায় তিনি হয়ে যেতেন পাগল। গোটা সমাজের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি নারী শিক্ষা বাল্যবিবাহ রোধ ,বিধবা বিবাহ প্রবর্তন এর জন্য এক অবিস্মরণীয় সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন আজীবন ।আজ দেশের অতিমারির দিনেও যথাযথ শ্রদ্ধা প্রবাদপ্রতিম যুগন্ধর কালজয়ী মহাপুরুষকে শ্রদ্ধা জানাই।

      Share

      Leave a Reply

      Your email address will not be published. Required fields are marked *