গৌরীশংকর মহাপাত্র :এগরা কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর।।                                                বুধবার গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের  সভাপতি সৌমেন্দ্র নাথ মিত্রের মৃত্যু হয়।২১শে জুলাই থেকে কিডনি জনিত সমস্যা নিয়ে দক্ষিণ কলিকাতার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমেন মিত্রের প্রয়ান বাংলার রাজনীতিতে নক্ষত্র পতন বলা যায়,একটা যুগের অবসান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে বুধবার নার্সিংহোমে তিনি হাঁটাচলা করেছিলেন, পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। ১৯৪৭সালে তার জন্ম,প্রয়াত বরকত গনি খান চৌধুরীর ভাব শিষ‍্য বলা হয়ে থাকে। আর শিয়াল দহ মার্কেটে ছোড়দা নামে পরিচিত তিনি। এই রাজনীতিক ১৯৭২সালে শিয়ালদহ কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন। তারপর টানা ৭ বারের বিধায়ক ছিলেন।২০০৮ সালে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস গঠন করেন, পরে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ২০০৯ -২০১৪সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। পাঁচ বছরের আগেই ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের ফিরে আসেন। নব্বইয়ের দশকের তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন্দ্র নাথ মিত্রের সঙ্গে কংগ্রেসের সাংগঠনিক নির্বাচনে লড়াইয়ে তৎকালীন যুব কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে লড়াইর পর কংগ্রেস ছেড়ে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।পরে নির্বাচনে বিপর্যয়ের দায় নিয়ে ১৯৯৮ সালের সোমেন মিত্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান। প্রায় দু দশক পরে ২০১৮তে তিনি আবার প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বে আসেন। রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও দক্ষিণ কলকাতার নার্সিংহোমে থাকাকালীন সৌমেন মিত্র শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ও সোমেন মিত্রের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সৌমেন বাবুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরীর ও। তার মৃত্যুতে রাজ্যজুড়ে অনুগামীদের মধ্যে শোকের ছায়া‌।

    Share

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *