।।প্রতিবেদন।।          

আজ প্রখ্যাত বিজ্ঞানী বাঙালি রসায়নবিদ, শিক্ষক, দার্শনিক ও কবি  পি সি রায় নামে যিনি সমধিক পরিচিত সেই আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬০তম জন্মদিন। ১৮৬১সালের ২রা আগস্ট বাংলাদেশের যশোর জেলায় রাডুলি কাটিপাড়া গ্ৰামে তার জন্ম। ১৯৪৪এর ১৬ ই জুন কলকাতার সার্কুলার রোডের বিজ্ঞান কলেজের একটি ঘরে  তাঁঁর প্রয়ান। তাঁর উল্লেখ যোগ্য কৃতি ছাত্রের তালিকায় সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাথ সাহা, জ্ঞানেন্দ্র নাথ মুখার্জী, জ্ঞানেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।বাবা হরিশচন্দ্র রায় ও মা ভুবন মোহিনী দেবী। সাত ভাই বোনের একজন তিনি, অন্য ৪ ভাই জ্ঞানেন্দ্র চন্দ্র, নলিনী কান্ত, পূর্ণ চন্দ্র এবং বুদ্ধদেব, দুই বোন ইন্দুমতী ও বেলা মতি। পিতামহ মানিকলাল ছিলেন কৃষ্ণনগর যশোরের ব্রিটিশ ইন্ডিয়া কোম্পানির জেলা কালেক্টরের অধীনে দেওয়ান।                                          শিক্ষা খুলনা থেকে এসে কলকাতার হেয়ার স্কুলে ভর্তি,১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে এন্ট্রান্স পাশ করে কলিকাতার মেট্রোপলিটন কলেজ অধুনা যা বিদ্যাসাগর কলেজ তা থেকে বিএ।১৮৮২তে গিলক্রাইস্ট্র স্কলারশিপ পেয়ে স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, সেখান থেকে বিএসসি ও ডি এস সি উপাধি লাভ। ১৮৮৮তে দেশে ফিরে ২৮বৎসরের যুবকের প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়নশাস্ত্রে অধ্যাপনা শুরু, এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান কলেজে “পালিত অধ্যাপক” পদে অধ‍্যাপনা। অজৈব রসায়, জৈব রসায়ন ,রসায়নের ইতিহাসে তাঁর দক্ষতার জুড়ি মেলা ভার। ১৮৯৫তে সর্বশ্রেষ্ঠ আবিস্কার মারকিউরাস নাইট্রেট,এরপর আরও কয়েকটি নাইটের যৌগ। এইসব গবেষণার জন্য ডারবান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিএস সি উপাধি প্রাপ্তি। ১৯০১এ রাসায়নিক দ্রব্য ও ঔষধ তৈরীর কারখানা “বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কশপ”এর প্রতিষ্ঠা করেন। অবসরের পর বিজ্ঞান কলেজের ছোট ঘরটিতে আমৃত্যু বসবাস।ঐ ঘরে ছিল খাটিয়া, দুটি চেয়ার, খাওয়ারের একটি ছোট্ট টেবিল, একটি আলনা। তিনি বৈজ্ঞানিক জগদীশচন্দ্র বসুর সহকর্মী ছিলেন।            সকালে মুড়ি, দুপুরে ভাত, আলু সিদ্ধ, মসুর ডাল, দুটি পাকা কলা প্রতিদিন ছিল তার রুটিনমাফিক খাবার। একদিন তিন পয়সায় এক জোড়া কলা কেনায় এক ছাত্র ভৎর্সিত হয়। অথচ মালিকান্দায় আশ্রমের জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা দান করেছিলেন।অর্থাৎ ব‍্যায়ে কৃপণ এমনটি নয়,তিনি মিতব্যয়ী ছিলেন।                                প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ গুলি হল”হিস্ট্রি অফ হিন্দু কেমিস্ট্রি”, “নব্য রসায়নী বিদ্যা ও তার উৎপত্তি”, “চরক ও সুশ্রুতের সময় নিরুপণ”, “আয়ুর্বেদের প্রাচীনত্ব এবং বাংলার অন্ন সমস্যা”প্রভৃতি গ্ৰন্থ এবং গবেষণামূলক প্রবন্ধ ” তামা ম্যাগনেসিয়াম গ্রুপের সংযুক্ত সালফেটস”, “ইসোমোরফাস মিশ্রন এবং আনবিক সংমিশ্রণে একটি স্টাডি”, প্রভৃতি তাঁর সাহিত‍্য প্রীতি, ইতিহাস প্রীতি, সর্বোপরি স্বদেশ প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন বহন করে। শেষ জীবনে তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। আত্মবিস্মৃত বাঙালি জাতিকে তিনি ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার প্রাপ্তি অর্ডার অব ইন্ডিয়া সি আই ই ১৯১২,( কম্পেনিয়ন অফ দা অর্ডার অফ দি ইন্ডিয়ান এমপিরি),” নাইট ব্যাচেলর”-১৯১৯, এফসিএস- ১৯০২, (ফেলো অফ কেমিক্যাল সোসাইটি),এফ এন আই-১৯৩৫ ( ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য),এফ আইএএস -১৯৪৩( ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সায়েন্স) এর সদস্য। অনারারি ডক্টরেট কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিভাগে।
এমন বিজ্ঞানীর ১৬০তম জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

       ।।প্রতিবেদক: গৌরীশংকর মহাপাত্র ।।             সম্পাদক “এগরা প্রেসক্লাব”, “এগরা মহাকুমা বইমেলা”,সংবাদ পত্র- “জনতার কথা” ও” দৈনিক আবেশভূমি”।

তথ্য সূত্র :-১) প্রতিদিন জন্মদিন মৃত্যু দিন এবং -বীরকুমার শী।২) উইকিপিডিয়া

    Share

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *