
দৈনিক আবেশভূমি ডেক্স :এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর।আজ মঙ্গলবার জন্মাষ্টমীর পুন্য দিনে ক্ষুদিরামের ১১৩ তম আত্মবলিদান দিবস নানা প্রতিষ্ঠানে নানা অনুষ্ঠানে সারা দেশের সঙ্গে এই জেলার এগরা ও কাঁথি মহকুমায় যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। এই দিনটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য সকলেরই জানা। অভিভক্ত মেদিনীপুরের এই অকুতোভয় বিপ্লবী ক্ষুদিরাম তার আত্মোৎসর্গের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সারা বাংলায় স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে স্বাধীনতায় আত্মোৎসর্গের’যে প্রেরণা জুগিয়ে ছিলেন তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করতে স্বাধীন ভারত বর্ষ দিনটিকে আত্মোৎসর্গ দিন হিসেবে যথাযথ মর্যাদায় পালন করে। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্টের পূর্বে ক্ষুদিরামের নাম উচ্চারণ করাটা দেশদ্রোহীতা বলে গণ্য হত। বিপ্লবের যে মহান আদর্শ ক্ষুদিরাম তৎকালীন ভারতবাসীর মনে জাগাতে পেরেছিলেন সেই আদর্শ পরবর্তী বছর গুলিতে হাজার হাজার বিপ্লবীকে স্বদেশ প্রেমের প্রেরণা যুগিয়েছে। তাই তার ত্যাগ দেশের জন্য এই আত্ম বলিদানের ঘটনা কখনো মলিন হবার নয়।আজ” কাঁথি ক্ষুদিরাম স্মৃতি রক্ষা কমিটি”আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্যের পরিবহন সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কাঁথির কিশোর নগর হাইস্কুল সংলগ্ন শহীদ ক্ষুদিরামের পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান দিবস যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করেন।প্রসঙ্গত ১৯০৮ আট সালের ১১ ই আগস্ট এমন দিনে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার এই বিপ্লবী বীর শিশু ক্ষুদিরাম বসু দেশমাতৃকার জন্য হাসতে হাসতে ফাঁসির দড়ি গলায় পড়েন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতী আদালত এক মৃত্যু মামলায় তাকে ফাঁসি দেয়।পরাধীন ভারতের মুক্তি আন্দোলনে ক্ষুদিরামের সেই আত্মত্যাগ স্বাধীন ভারত আত্মবলিদান দিবস হিসাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে।পটাশপুর-২এর খাড় হাইস্কুল ক্যাম্পাসে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের ভারতের প্রথম শহীদের স্মৃতি তর্পণ হয়। উপস্থিত ছিলেন খাড় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কমল কুমার পন্ডা ,সহশিক্ষক উত্তম কুমার পাত্র এবং ক্ষুদিরাম মেলা কমিটির সম্পাদক পশুপতি মাইতি, পঞ্চায়েত সদস্য সুরেশ গিরি ,মেলার সদস্য অতনু গোস্বামী সহ অন্যান্য সদস্যগণ ।ভগবানপুর-২ব্লক এর “সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ”এর আয়োজনে মুগবেড়িয়া হাইস্কুল সংলগ্ন ক্ষুদিরামের স্মৃতিস্তম্ভে ক্ষুদিরামের আত্মাহুতি দিবস পালিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য, কবি বিমান কুমার নায়েক। সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক সাহিত্যিক মন্মথনাথ দাস। সঞ্চালক ছিলেন সংস্হার সম্পাদক, কবি অজিত কুমার জানা। উপস্থিত ছিলেন প্রাবন্ধিক গৌরচাঁদ পাত্র, কবি অনিল কুমার সাহু প্রমুখ।
সবাই শহিদ ক্ষুদিরামের স্মৃতি রোমন্থন করেন। স্বদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ক্ষুদিরামের অবদানের কথা স্মরণ করা হয়।” মেদিনীপুর

সমন্বয় সংস্থা” খেজুরি ইউনিটের পক্ষ থেকে দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করে।সুদর্শন সেন ক্ষুদিরামের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপননের পর স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে সম্পাদক বলেন খেজুরীবাসী হিসেবে আমরা গর্ববোধ করতে পারি একারনেই যে, খেজুরীর মাটিতেও তাঁর পবিত্র পদরজ মিশে আছে। ইংরেজী ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের দোলপূর্নিমার সময় খেজুরীর ঠাকুরনগরে বেশ কয়েকদিন ধরে যে দোলের মেলা সাড়ম্বরে দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐ মেলায় তিনি উপস্থিত হয়ে স্বদেশী দ্রব্য গ্ৰহণ ও বিদেশী দ্রব্য বয়কটের কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিলেন। এই কর্মসূচীর সমর্থনে লিফলেট মেলায় আগত মানুষদের মধ্যে বিলিও করে ছিলেন বলে জানা যায়। তাই ক্ষুদিরামের স্মৃতিধন্য এই ঠাকুরনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণে ক্ষুদিরামের একটি মূর্তির নির্মাণ হওয়া আশু প্রয়োজন। খেজুরীতে ক্ষুদিরামের একদা উপস্থিতির এই বিস্মৃতপ্রায় ইতিহাসকে ভাবী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে খেজুরীর শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদেরকেই এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। “এগরা শহীদ স্মরণ কমিটি”র
এবং “শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী সংগঠন”এর যৌথ উদ্যোগে শহীদ ক্ষুদিরামের আত্মবলী দান দিবস উদযাপন হয়। সভাপতিত্ব করেন শহীদ স্মরণ কমিটির বর্ষিয়ান সদস্য হরেন্দ্র নাথ মাইতি। বক্তব্য রাখেন শহীদ স্মরণ কমিটির সহ-সভাপতি সুকুমার রায়, জ্ঞানদীপ স্কুলের সহ শিক্ষক মনতোষ আচার্য্য, রামতনু ঘাটা প্রমুখ। তাঁরা বক্তব্যে বলেন বর্তমান যুগে যুবকরা বিপথগামী হচ্ছে, তাদেরকে ক্ষুদিরামের আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে হবে,তবেই দেশ সামগ্রিক বিপদ থেকে মুক্তি পাবেএবং আত্ম বলিদান দিবস পালনের সার্থকতা থাকবে। বুদ্ধিজীবী সংগঠনের পক্ষে
ডা: নির্মল কুমার প্রধান বলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অধ্যাপক চন্দ্র সিংহকে অজস্র ধন্যবাদ, তাঁর উদ্যোগে শহরে ক্ষুদিরামের মূর্তি বসানো হয়েছিল বলেই আমরা সকলে আজকেণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারছি। সভায় সংগীত পরিবেশন হয়, সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন জগদীশচন্দ্র সাউ, ধন্যবাদ জানান ডা:গৌতম মাইতি।