গৌরীশংকর মহাপত্র: এগরা কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর।                                               রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত খালিপদ গান্ধীবাদী খাদিসর্বস‍্য জাতীয় শিক্ষক নির্মল কুমার মাইতি(৮৬) ২৯সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬-৩০ মি:এ এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পাঁশকুড়া শ্যামসুন্দরপুর পাটনা হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নির্মল বাবুকে সপ্তাহ খানিক আগে ডান পায়ের

    গ‍্যাংগ্ৰিনের অসুস্থতার জন্য ছোট ছেলে এগরা সুপার স্পেশালিটির ডা: হিমাংশু মাইতি বাবাকে নিয়ে এসে এগরা হাসপাতালে ভর্তি করান। শনিবার তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন মঙ্গলবার সকালে কিছুটা সুস্থ‍্য হয়ে পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথাও বলেন, এদিন সন্ধ্যা ৬-৩০মি সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। জাতীয়তাবাদী এই শিক্ষকের বর্ণময় কর্মজীবন ছিল সবার অনুকরণযোগ্য। এলাকায় তিনি শুধু জাতীয় শিক্ষক নন সবার পরিচিত গান্ধীবাদী খাদিসর্বস‍্য খালিপদ শিক্ষক নামে পরিচিত ছিলেন। মাস পাঁচেক আগে নিজের প্রতিষ্ঠিত “শ্যামসুন্দরপুর পাটনা সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়”এ যাওয়ার পথে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে কোমরে চোট পান, সে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। প্রচন্ড সুগার ছিল, এগরা হাসপাতালের রিপোর্টে আগেই করোনা নেগেটিভ আসে। ১৯৫৬সালে বিএস সি পাশের পর “ভোগপুর কেনারাম উচ্চ বিদ্যালয়”এ সহ শিক্ষক পদে শিক্ষকতা শুরু।পরে তিনি চলে আসেন পাঁশকুড়া বাটলি বার্ড হাই স্কুলে। ১৯৫৮ সালে বি টি পাশ করার পর স্পষ্টভাষী গান্ধীবাদী এই সহ শিক্ষক নিজের গ্রাম শ‍্যামসুন্দরপুর পাটনা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আসেন। প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন তিনি এডুকেশন এ এমএ পাস করেন। ১৯৯৪ সালে বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এই কৃতী শিক্ষককে তৎকালীন ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি শংকর দায়াল শর্মা শিক্ষক দিবসে জাতীয় শিক্ষকের সম্মাননা তুলে দেন। শিক্ষা পাগল এই জাতীয় শিক্ষক স্বাধীনোত্তর ভারতে নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “কৃষ্ণচরণ বালিকা বিদ্যালয়”। রামকৃষ্ণের অনুরাগী এই শিক্ষক ১৯৭৬ সালে অনুগামীদের নিয়ে এলাকায় রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন

        প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যু কালে প্রতিষ্ঠিত চার কৃতী সন্তান তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মী অমিতাভ মাইতি, রাজ্য সরকারের কৃষি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক অরুনাভ মাইতি, প্রতিষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ার অমলাংশু মাইতি, এগরা সুপার স্পেশালিটির চিকিৎসক ডা: হিমাংশু মাইতি ও এক বিবাহিত কণ‍্যা মিতা দাস সহ অসংখ্য গুণমুগ্ধ ছাত্র-ছাত্রী রেখে রামকৃষ্ণ লোকে পাড়িদেন। শিক্ষক জীবনে তিনি জাতীয়তা বাদী শিক্ষক সংগঠনের সদস্য হলেও সরকার ও সরকার বিরোধী সব সংগঠনের মানুষের কাছে  ছোট খাটো বিলাস বহুল বর্জিত   অপ্রিয় সত‍্যবলা স্পষ্ট ভাষী  শিক্ষকের গ্ৰহন যোগ্যতা ছিল প্রশ্নাতীত নমস্য। স্ত্রী অনেক আগেই প্রয়াত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তার মরদেহ শ‍্যামসুন্দরপুর পাটনা গ্ৰামে আনা হলে পারিবারিক শশ্মানে তার শেষকৃত‍্য সম্পন্ন হয়। ১৯৭৫ সালে মায়ের মৃত্যু থেকে তিনি আমৃত্যু খালি পায়ে হাঁটতেন। সর্বদা পরনে খদ্দরের ধূতি জামা ছিল সম্বল।

        Share

        Leave a Reply

        Your email address will not be published. Required fields are marked *