গৌরীশংকর মহাপাত্র: এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর:রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য সাথীর সুবিধা পাওয়া না পাওয়া নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা যখন তুঙ্গে ,তখন এর ই ফাঁকে এগরা OSG হাসপাতাল ফুটে উঠল এক নতুন চিত্র। ২১ শে জানুয়ারি ভোরে কোমর ভাঙ্গাএক বৃদ্ধকে শীতের সকালে কাতরাতে দেখতে পায় এগরা OSG ল্যাপারোস্কোপিক হাসপাতালের রিসেপ – শান্যলিস্ট সীমা সামন্ত। সীমাকে সে জানায় সে হকারী করত ,বাসে উঠতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কোমর ভেঙ্গেছে। আমার কাঁন্না কাটিতে এক টোটো চালক চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের সামনে নামিয়ে যায়। যাবার সময় আমার হাতে ৫
টাকা দিয়ে যায়। সীমা বৃদ্ধকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে তাকে নিয়ে ভর্তি করে হাসপাতালে। সীমা তার কাছে থাকা জিনিস পত্র থেকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ও আই কার্ড থেকে তার পরিচয় উদ্বার করে।সীমা বিষয়টি হাসপাতালের ডাইরেক্টর প্রখ্যাত শল্য চিকিৎসক ডা:বাদল অশ্রু ঘাটার নজরে আনেন। ড: ঘাটা রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরে আনেন।২৩ শে জানুয়ারি তাঁর কোমরে অস্ত্রোপচার করেন ডা :বাদল আশ্রু ঘাটা ও ডা: স্বরূপ জিৎ ঘাটা। জানা যায় কোমরে ফ্যাকচার রোগী কানাই লাল আচার্য (৬২) এর বাড়ি রামনগর-২এর দেপাল পঞ্চায়েতের শেরপুর গ্রামে, যশোদা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই। আজ বৃহস্পতিবার ২৮শে জানুয়ারী এগরা ও এস জি হাসপাতাল কানাই বাবুকে ছুটি দিয়ে হাসপাতালের কর্মী সীমা সামন্ত, পরমানন্দ দে, অভিজিৎ পান্ডে, রঞ্জন ঘোড়াই, উত্তম দাসদের

দিয়ে তার বাড়িতে ছেড়ে আসে। অ্যাম্বুলেন্স তার বাড়ির কাছে পৌঁছতেই স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য গগন মান্না অবাক। তিনি জানান – কানাই বাবুর এ সব তিনি জানতেন না। কানাই বাবু হকারী করে এখানে ওখানে ঘুরে ফেরী করে কষ্টে জীবন যাপন করে । প্রতি বেশিদের থেকে জানা দুই মেয়ে ও এক ছেলে থাকলেও কেউ ই বাবার খোঁজ খবর রাখে না। ছেলে থাকে রামনগরে, স্ত্রী আগেই গত হয়েছেন। হাসপাতালের এমন পরিষেবায় মুগ্ধ পঞ্চায়েত গগন বাবু, সঙ্গে দু দিনের খাবার হাতে দিয়ে কানাই বাবু কে তার বাড়ি ছেড়ে যাবে হাসপাতাল ভাবতে পারেন নি তিনি। তিনি হাসপাতাল কতৃপক্ষ কে ধন্যবাদ জানান। বেজায় খুশি গ্ৰামের ছোট বড় সবাই।এ বিষয়ে এগরা ও এস জি হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক ডা : বাদল অশ্রু ঘাটা জানান আমাদের ধন্যবাদ দেওয়ার আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দিন, তাঁর স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধে আমাদের এই কাজ আরও সহজ করে দিয়েছে, সীমা সামন্তের মত মেয়েদের সেবা করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলেই এ কাজ এত সহজ হয়েছে। উনার পরিবারের কেউ নেই বলে দু দিনের শুকনো খাবার দিয়ে পঞ্চায়েতকে জানিয়ে হাসপাতালের এ্যম্বুলেশ দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীরা গিয়ে বাড়িতে ছেড়ে আসল। যার জন্য এত সব সেই কানাই আচার্য জানান হাসপাতালের পরিষেবায় তিনি মুগ্ধ, এ কার্ডের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।