
গৌরীশংকর মহাপাত্র :এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর।বার্ধক্যজনিত রোগভোগের পর মঙ্গলবার কলকাতার আরএন টেগোর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এলাকার প্রবীণ শিক্ষক সংগঠক ও যাত্রা শিল্পী সতীশ চন্দ্র’দে।পানিপারুল মুক্তেশ্বর হাই স্কুলের এই প্রথিতযশা বাংলা ভাষা শিক্ষকদের আদি বাড়ি এগরা-১এর জুমকী পঞ্চায়েতের চিরুলিয়ায়। বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণের পর তিনি পানিপারুল বাড়িতে বসবাস করতেন। পানিপারুল পেট্রোল পাম্প ও পানিপারুল মুক্তেশ্বর টকীজ সিনেমা হলের মালিক সতীশবাবু শুধু বাংলা ভাষা শিক্ষক নন সৌখিন যাত্রা অভিনেতা ছিলেন। তাঁর বাংলা ভাষা ক্লাস আর যাত্রা রঙ্গমঞ্চের অভিনয় ছিল সমার্থক। এলাকার যাত্রাশিল্পের এই জনপ্রিয় অভিনেতা থেকেই শিক্ষকতায় এসে ছাত্র অভিভাবকদের মন জয় করেছিলেন তিনি।নতুন পঞ্চায়েত ব্যবস্থার আগে

জুমকী ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। চিরুলিয়া বিবর্তন হাইস্কুলে একাধিক সময়ে পরিচালন কমিটির সম্পাদক, ইন্দিরা এস কে ইউ এস এর পরিচালন কমিটিতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পনিপারুলে প্রতিষ্ঠিত মাদার ইন্ডিয়া নার্সারি স্কুল কৃতিত্বের স্বাক্ষ বহন করে।তাঁর ছোট ছেলে ঈতীশ চন্দ্র দে এগরা-১পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। বড় ছেলে আগেই মারা যান। মৃত্যু কালে তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী, এক পুত্রবধূ, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য গুণমুগ্ধ। তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া। কৃতি ছাত্র এগরা -২পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনেশ প্রধান, তাঁর কর্মক্ষেত্রে পানি পারুল হাইস্কুলের একসময়ের সহকর্মী প্রধান শিক্ষক তথা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তরুণ কুমার মাইতি, জুমকী পঞ্চায়েতের প্রধান শিবানী পন্ডিত, উপপ্রধান উদয় শংকর সর, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অমিয় রাজ শোক জ্ঞাপন করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান। বুধবার সকালে তার মরদেহ তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ঘুরে গ্ৰাম্য শ্মশান শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
