নিজস্ব সংবাদ দাতা:দৈনিক আবেশভূমি ডেস্ক : মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম।খেজুরী হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি” ও “মেদিনীপুর সমন্বয় সংস্থা”র খেজুরী আঞ্চলিক ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে খেজুরীর আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার অন্যতম আকর গ্রন্থ খেজুরী বন্দর পুস্তকটি প্রথম প্রকাশের ৯৫ তম বর্ষ ভার্চুয়ালি উদযাপন হয় রবিবার। আয়োজক দুই সংস্থার আলোচনায় উঠে আসে খেজুরীর প্রথম যথার্থ ইতিহাসকার মহেন্দ্রনাথ করনের বিষ্ময়কর প্রতিভার কথা। শতবর্ষেরও পূর্বে বাংলার প্রত্যন্ত খেজুরীর ভাঙ্গণমারী গ্ৰামে তিনি রচনা করেছিলেন হিজলীর ইতিহাস গ্ৰন্থমালা সিরিজের তিনটি পুস্তক। প্রথম দু’টি ‘ হিজলীর মসনদ-ঈ-আলা ‘ ও ‘ খেজুরী বন্দর ‘ প্রকাশ করে যেতে পারলেও তৃতীয় পুস্তক ‘ কশবা হিজলীর বিবরণ ‘ প্রকাশ করে যেতে পারেননি। মাত্র ৪২ বছর বয়সে আকষ্মিক স্বল্প রোগভোগে প্রয়াত হন এই আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক। প্রসঙ্গত, চিররুগ্ন মহেন্দ্রনাথ করনের সুবিখ্যাত ‘ খেজুরী বন্দর ‘ পুস্তকটি প্রথম প্রকাশ করেন ১ লা জ্যৈষ্ঠ,১৩৩৪ বঙ্গাব্দে কলকাতার সিদ্ধেশ্বর প্রেস থেকে। আয়োজক সংস্থা দু’টির অন্যতম মেদিনীপুর সমন্বয় সংস্থা’র খেজুরী ইউনিটের সম্পাদক সুমন নারায়ন বাকরা ও সহ:সম্পাদক সুদর্শন সেন জানান, খেজুরীর প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী খেজুরী বন্দর সম্পর্কে জানতে হলে মহেন্দ্রনাথ করনের ‘ খেজুরী বন্দর ‘ পুস্তকটি একটি আকর গ্ৰন্থ রূপে বিবেচিত হয়ে থাকে। খেজুরী হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি’র সভাপতি ও খেজুরী কলেজের অধ্যক্ষ ড. অসীম কুমার মান্না ও সম্পাদক, খেজুরীর প্রাক্তন বিধায়ক ড. রামচন্দ্র মন্ডল জানালেন- বহুগুণের অধিকারী বিরল প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব মহেন্দ্রনাথ করনের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় কাজ মাতৃভূমি খেজুরীর আঞ্চলিক ইতিহাস বিষয়ে দুটি গ্ৰন্থ রচনা। খেজুরী বন্দর এর মধ্যে অন্যতম একটি অমূল্য গ্ৰন্থ। খেজুরী হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি’র সহ:সভাপতিদ্বয় ড. প্রবালকান্তি হাজরা ও পার্থসারথী দাশ জানালেন, এই বছর বৈশাখ মাসের ১ তারিখে আমরা এই দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে মহেন্দ্রনাথ করনের খেজুরী বিষয়ক প্রথম গ্ৰন্থ ‘ হিজলীর মসনদ-ঈ-আলা ‘ প্রথম প্রকাশের ৯৬ তম বর্ষ উদযাপন করেছি। আজ আমরা তাঁর অপর খেজুরী বিষয়ক গ্ৰন্থটির প্রথম প্রকাশের ৯৫ তম বর্ষ উদযাপন করলাম। আজ আলোচনায় মহেন্দ্রনাথ করনের সম্পর্কে প্রকাশিত বর্তমানে দু:ষ্প্রাপ্য ‘ মহেন্দ্র চরিত ‘ গ্ৰন্থটি পুণ:প্রকাশের ও বিদ্যাপীঠ থেকে ভাঙ্গনমারী গ্ৰামে লেখকের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি ‘ মহেন্দ্র সরনী ‘ নামকরন করবার এবং অজানবাড়ী বাজারে মহেন্দ্রনাথের একটি আবক্ষমূর্তি বসাবার কথাও আলোচিত হয়। এই বিষয়গুলিতে উদ্যোগ নেওয়া ও উপযুক্ত স্তরে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *