গৌরীশংকর মহাপাত্র:দৈনিক আবেশভূমি ডেস্ক : পূর্ব মেদিনীপুর।কাজলা জনকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ও আজিম প্রেমজী ফাউন্ডেশন এবং জার্মান ডক্টরস এর সহযোগিতায় ১২০ টি পরিবারের ৪৫০জনকে রান্না করা প্যাকেট জাত খাওয়ার দেওয়ার সূচনা হয় শনিবার। উদ্বোধন করেন মগরাহাট পূর্ব বিধান সভার বিধায়ক নমিতা সাহা। কাজলা জনকল্যাণ সমিতির সঞ্চালক বিবেকানন্দ সাহু বলেন- করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সারা ভারতের ন্যায় পশ্চিমবাংলায়ও সংক্রমণের হার চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণ ২৪ পরগনা মগরাহাট-২ ব্লকের কোভিড আক্রান্ত প্রায় ১ হাজারের মতো। এদের মধ্যে যারা হোম আইসলেশনে আছেন তাদের পরিবারগুলি বিভিন্ন সমস্যায়, তাদের বাজার করা ও রান্না করার অসুবিধে, তাছাড়া এই সময়ে যে পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন তা পায় না। এই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ালো কাজলা জনকল্যাণ সমিতি।এই কর্মসূচী বাস্তবায়িত করায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন জার্মান ডক্টরস ও আজিম প্রেমজী ফাউন্ডেশন নামক আন্তর্জাতিক সংস্থা। সমিতির পক্ষ থেকে এই আক্রান্ত পরিবারগুলোকে মধ্যে ১২০ পরিবারকে রান্না করা খাওয়ার দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই কর্মসূচিটি আগামী ৩০দিন চলবে। প্রতিটি পরিবার ১৪দিন করে খাওয়ার

    পাবে। আমাদের লক্ষ্য কমপক্ষে ২০০টি পরিবারকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্তি করা।কমিউনিটি কিচেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আলমগীর মোল্লা, উপপ্রধান অমৃত কুমার মন্ডল, বিশিষ্ট সমাজসেবী রুহুল আমিন, প্রদীপ নস্কর, ডিহিকলস গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সেলিমা বিবি লস্কর, উপ প্রধান বিপুল কুমার পুরকাইত, কাজলা জনকল্যাণ সমিতির কো অর্ডিনেটর ড. অশেষ চক্রবর্তী, বাবলু আলী শেখ, বাগবুল ইসলাম মল্লিক, অনাথ বন্ধু হালদার, আব্দুল আউয়াল মোল্লা, রাখী পুরকাইত এবং ইয়ুথ ভলান্টিয়ার প্রমুখ। বিধায়ক নমিতা সাহা কাজলা জনকল্যাণ সমিতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। এই চরম দুর্দিনে রাজ্য সরকারের সাথে সাথে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এগিয়ে আসা আমার বিধানসভা এলাকার কাছে গর্বের বিষয়। এই সংস্থা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন। মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আলমগীর মোল্লা বলেন এই সংস্থা শিশু সুরক্ষা সুনিশ্চিতকরনের কাজের সঙ্গে করোনা মহামারীর সময়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এরজন্য এই সংস্থার কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।
      কাজলা জনকল্যাণ সমিতির কো অর্ডিনেটর ড.অশেষ চক্রবর্তী বলেন আমরা সংস্থার পক্ষ থেকে কোভিড আক্রান্ত ও অতি দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, আমাদের এই কমিউনিটি কিচেন আগামী একমাস ধরে চলবে। প্রতিদিন ভাত, ডাল, সবজি এবং মাছ বা মাংস বা ডিম রান্না করে প্যাকেট জাত করে প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কাজে গ্রামের বহু কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়ে সেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত। এই খাদ্যের গুণগত মান বাড়ানোর পঞ্চায়েত ও স্থানীয় বিত্তশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সব শেষে বিধায়ীকা নমিতা সাহা উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে কোভিড সুরক্ষা কিট তুলে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কাজলা জনকল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে আজ ৪৫০জনের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।

        Share

        Leave a Reply

        Your email address will not be published. Required fields are marked *