
গৌরীশংকর মহাপাত্র :দৈনিক আবেশভূমি ডেক্স :এগরা কাঁথি :পূর্ব মেদিনীপুর।উৎকল মতে তিথি মেনে বালিঘাই জগন্নাথ জীউ সেবাসমিতির উদ্যোগে কোভিড বিধি মেনে লিটার লিটার দুধে স্নান যাত্রায় জগন্নাথ দেবের স্নান হয় বৃহস্পতিবার। প্রচলিত আছে জ্যেষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বয়ম্ভু মনুর যজ্ঞের প্রভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন প্রভু জগন্নাথদেব। তারপর সেই পুরনো স্মৃতিকে জগন্নাথ দেবের জন্মদিন হিসেবে পালন করার নির্দেশ দেন মনু। সেই জন্মদিন উপলক্ষে পৌরাণিক কাল থেকেই এই বিশেষ স্নান উৎসব পালিত হয়ে আসছে আজও ।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম পূর্ণিমাতে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার আয়োজন করা হয়, এদিন গর্ভগৃহ থেকে মূর্তি তুলে এনে স্নান মন্ডপে স্থাপন করা হয়। সেখানেই সুগন্ধি জল দিয়ে স্নান করানো হয় জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রা কে। গত কয়েক বৎসর ধরে পর্যাপ্ত দুধে স্নান করানো হয় বালিঘাই জগন্নাথ জীউ সেবা সমিতির জগন্নাথ দেব। এ দিন সেই রীতির জৌলুস অব্যাহত ছিল।স্নানের পাশাপাশি চলে মূর্তির সাজসজ্জা অলংকরণ ইত্যাদি। ১০৮ ঘড়া জলে স্নানের পরই জ্বরে কাবু হয়ে পড়েন জগন্নাথদেব। তাই এই সময় গৃহবন্দি অবস্থায় থাকেন তিনি, রথ পর্যন্ত বিশ্রাম নেন। তাই ভক্তরা জগন্নাথ দেবের দর্শন পান না। এই কদিন পূজার্চনা হয়না তাঁর। রীতিমতন কম্বল চাপা দিয়ে পড়ে থাকেন জগতের নাথ, তবে রথ যাত্রার দিন রাজ বেশে রথে করে তিনি মাসির বাড়ি যান। এবার তা সম্পন্ন হবে ১২ ই জুলাই। আজ সেই উপলক্ষে বালিঘাই জগন্নাথ সেবা সমিতি কর্ণধার প্রখ্যাত সমাজসেবী আশীষ ধাওয়া, স্ত্রী তনুশ্রী ধাওয়া, এক মাত্র ছেলে সহেল ধাওয়া দুস্থ সংখ্যালঘু ৬০ এবং ২৫২ মহিলার হাতে শাড়ী এবং ৬০ সংখ্যা লঘুর হাতে লুঙ্গি মোট ৩১২ জনের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন। শেষে প্রায় ১৫০০ মানুষ গণ মহোৎসবে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন সংস্থা সভাপতি অম্বিকেশ মহাপাত্র সহ-সম্পাদক জন্মেঞ্জয় প্রধান বিরোজাকান্ত প্রধান, বিবেকানন্দ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপ প্রধান ধনঞ্জয় সিংহ প্রমুখ। উৎকল রীতি মেনে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার মঙ্গলিক কাজ সম্পন্ন করেন কলিয়াচক সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড: দেবীপদ রথ।