গৌরীশংকর মহাপাত্র :দৈনিক আবেশভূমি:এগরা কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর।কেলেঘাই নদীর বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর-১ও ২ এবং ভগবানপুর-১ও২এর বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত  বহু মাটির বাড়ি,পাশাপাশি জল যন্ত্রণায় রয়েছে সাধারণ মানুষ। দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সংকট। আর এহেন অবস্থায় মথুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় যন্ত্রণায় ভুক্তভোগী ক্ষুদ্ধ বাসিন্দারা বাঁধ কেটে এলাকার জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে। তবে এই পরিস্থিতিতে প্রবল জলের প্রভাব পড়ছে সাউথ খন্ড ও আড়গোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েত

    এলাকায়।দুই গ্রাম পঞ্চায়েত সর্তকতা জারিতে মাইক প্রচারে উদ্যোগী হয়েছে । এ বিষয়ে দুই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জানান , প্রবল জল প্রতিরোধ করার জন্য ইতিমধ্যে মানুষকে শতর্ক করেছি । নিচু এলাকার মানুষদের ইতিমধ্যে উদ্ধার করে স্কুল বাড়ি ও পাশের পাকা বাড়িতে আনা হয়েছে। গবাদি পশু উদ্ধার করে  শিবিরে তোলা হয়েছে। তবে যে সমস্ত মানুষ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের ইতিমধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসার দিকে নজর রাখা হয়েছে বলে জানান সাউথ খন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিজন বন্ধু বাগ ও আড়গোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অপরেশ সাঁতরা।

    অপরদিকে প্লাবিত মথুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ন  এলাকা। মথুরা পঞ্চায়েত প্রধান অমিত মন্ডল বলেন- পঞ্চায়েতের ২৬ টি মৌজা,২৩ জনবসতির গ্রাম ।পানিয়া ছাড়া ২২ টি গ্রাম জলবন্দী,২৫০০ মানুষকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করে ১৫টি শিবিরে আনা হয়েছে।এন ডি আর এফ টিম ও কাজ করছে। শিবিরে দু’বেলা রান্না খাবার এবং

      সকালে টিফিন এর ব্যবস্থা হয়েছে, এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার পরিবার। বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দন সাউ সর্বোত সহযোগিতা করছেন, সব পঞ্চায়েত যে যার এলাকা রাত দিন নজরদারি রেখেছে। মানুষের ত্রানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এলো ও সমস্যায় গবাদি পশুদের নিয়ে, তাদের খাদ্য সামগ্রীর জন্য প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর

      আশ্বাস দেন তিনি। বিধায়ক উত্তম বারিক জানান ব্লক এলাকায় ৫৫ হাজার মানুষের বাস, ১০হাজার পরিবারের পাকা বাড়ি, ৪৫ হাজার পরিবার বিপন্ন। পটাশপুর-২এর বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস জানান কেলেঘাইর জলে নতুন করে প্লাবিত আড়গোয়াল ও সাউৎখন্ড পঞ্চায়েত। এ পর্যন্ত ৫৭ টি শিবির খোলা হয়েছে, ৯০৬২ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনা গেছে। প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সর্বদা শতর্ক রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন কোন রকম অঘটনের সংকেত থাকলে তার নজরে আনার।

      Share

      Leave a Reply

      Your email address will not be published. Required fields are marked *