প্রকাশ কর:দৈনিক আবেশভূমি:মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম।না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন সমাজসেবী, সংগঠক ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত কর্মী অবন্তী কুমার মাইতি(৭৫)। শনিবার সকালে নিজের বাসভবন সরস্বতীপুরে কয়েক দিন বার্ধক্য জনিত রোগ ও শ্বাসকক্টে ভুক্তভোগী অবন্তী

                     বাবু সজ্ঞানে প্রয়াত হন।চৌকিদার হিসেবে কর্মজীন শুরু শেষে পঞ্চায়েত কর্মী হিসেবে দ্বারিয়াপুর পঞ্চায়েত থেকে ২০০৭এ অবসর গ্ৰহন। যদিও তার সমসাময়িকদের কাছে অবন্তিবাবু বলতেন তার বর্তমান বয়স (৯২)। কার্যত এখন কার দিনের মত জন্ম সার্টিফিকেট নিয়ে কড়াকড়ি তখন তেমন ছিল না। সেই ধরলে তার জন্ম সাল দাঁড়ায় (১৯৩০)।বরাবর ধূতি ও চপ্পল সর্বস্ব, ডানপন্থায় আস্থাশীল এই সংগঠক বিচারাসনে স্পষ্ট কথা বলতে ভালো বাসতেন। নিজের বলা কথা থেকে খুব যুক্তি না থাকলে তাকে হটিয়ে দেওয়া শক্ত ছিল। গ্ৰামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি সমস্যা নিরসনে প্রয়াত মুক্তেশ্বর কামিলা, উৎপল পাহাড়ী, অনিল রায় ,আয়তাপ উদ্দিন’দের সহযোগী এই সংগঠক গ্ৰামের মানুষদের নিয়ে প্রধান শিক্ষকের পাশে থেকে গাছ তলার বিদ্যালয়কে স্থায়ী বিদ‍্যালয় দিয়ে যেতে কয়েক জনের সঙ্গে তার অতুলনীয় চেষ্টা সকলেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। সুনীল মজুমদার, প্রশান্ত বোস, ব্যঙ্গা প্রধান, শিবশঙ্কর রাউৎ ও প্রয়াত অনিল রায়দের সঙ্গে নিয়ে গ্রামে কীর্তনীয়া সমাজ গঠন, কয়েক বছর ধরে জন্মাষ্টমীতে পূজার্চনা ও মহোৎসব বর্তমান প্রজন্মদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানে  তার ভূমিকা প্রশংশনীয়।বিদ‍্যালয়ের সভাপতি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অপূর্ব পাহাড়ী ও ফুলবনী আমরা ক’জন এর পক্ষে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে সন্তপ্ত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানান। তার মরদেহ বিদ্যালয় ঘুরে গ্রাম্য শ্মশানে গেলে শেষকৃত্য।সম্পন্ন হয়। বিদ্যালয়ের পক্ষে তার মোরদেহে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করে শেষ শ্রদ্ধা জানান ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রসেনজিৎ মাইতি, সহ শিক্ষক বিশ্বজিৎ আচার্য, পার্শ শিক্ষক সুশান্ত বসু সহ শিক্ষকগণ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গৌরী শঙ্কর মহাপাত্র শেষ যাত্রায় অংশনিতে পারেন নি। তিনি অবন্তী বাবুর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে তার সন্তপ্ত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন বিদ্যালয় তার এক প্রকৃত সুহৃদকে হারাল। বিদ‍্যালয়ের প্রশ্নে তার অভাব পূরণ হওয়ার নয়। সেদিনও আমার অবসরের সময় অশক্ত শরীর নিয়ে ছেলের কাঁধে ভর করে আমার সঙ্গে দেখা করে গেছেন চলতি সপ্তাহের রবিবার অসুস্থতার মধ্যেও আমার সঙ্গে শেষ দেখা করতে চান আমাদের শিক্ষক নীতিশচন্দ্র পন্ডার মারফৎ খবর পেয়ে সোমবারই দেখা করে আসি। শুক্রবার বিদ্যালয়ের রেজাল্ট দেওয়ার পর পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের ফেয়ারওয়েলের পর দেখা করার ইচ্ছে থাকলেও কাজের তাড়ায় আর হয়ে ওঠেনি। এই আফসোস
                    থেকেই গেল।
      অনেক আগেই তাঁর স্ত্রী বিয়োগ হয়, দু বৎসর আগে জ্যেষ্ঠ পুত্রকে হারিয়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেলেন দুই পুত্র, তিন পুত্রবধূ, নাতি-নাতনী ও অসংখ্য গুণ মুগ্ধ। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া।

        Share

        Leave a Reply

        Your email address will not be published. Required fields are marked *